লক্ষ্মীপুরে ইউএনও এবং অফিসার্স কোয়ার্টারে অবৈধ বিদ্যুৎ : রাজস্ব ফাঁকি

Print Friendly, PDF & Email

নিজস্ব প্রতিবেদক :
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সরোয়ারের বিরুদ্ধে অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যাবহারের অভিযোগ উঠেছে। তার ব্যাবহৃত সরকারি বাসাতে আলাদা মিটার না লাগিয়ে উপজেলা পরিষদের নিজস্ব মিটার ও লাইন ব্যাবহার করে হাজার হাজার টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া কর্মচারী ডরমেটরীসহ, অফিসার্স কোয়ার্টারের বসবাসরত অনেক সরকারি কর্মকর্তারা উপজেলা পরিষদের নিজস্ব মিটার থেকে অবৈধ ভাবে বিদ্যূৎ ব্যাবহার করছে। ইউএনও’র বাসায় বিদ্যুতের মিটারই নেই।

অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা কমপ্লেক্সের চারতলা ভবনে মিটার ছাড়া অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে ব্যবহার করছেন কয়েকজন। ভবন দুটিতে আলাদা মিটার না লাগিয়ে উপজেলার থ্রি-ফেজ মিটার থেকে সংযোগ দিয়ে ব্যবহার করতেছে তাঁরা। অন্যদিকে বাসাবাড়ি মেরামতের নামে ভুয়া বিল ভাউচার করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ সহ ব্যাবহার করে ও সরকারি বিধি মোতাবেক অনেকেই বাড়ীভাড়া পরিশোধ করছেনা বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে খোদ ইউএনওর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ রয়েছে। ফলে অসাধু এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যাবহৃত ব্যাক্তিগত বিল পরিশোধ করতে গিয়ে একদিকে মোটা অংকের টাকা গোচ্ছা দেওয়ার পাশাপাশি লাখ লাখ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
উপজেলা চেয়ারম্যান, নির্বাহী অফিসার, সহকারী প্রকৌশলী (এলজিইডি) ও কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজসে এই অবস্থার সৃষ্টি সহ কমলনগর উপজেলা পরিষদকে যেন দুর্নীতির আখঁড়ায় পরিণত হয়েছে।

জাতীয় কমিটির ৯৩তম সভায় লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলাকে বিভাজন করে “কমলনগর” নামে দেশের ৪৭২তম উপজেলা গঠনের প্রস্তাব ও অনুমোদন পর গত ২০সেপ্টেম্বর ২০০৬ সালে কমলনগর উপজেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

সরজমিনে ও খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলা পরিষদের অবকাঠামোগত উন্নয়নের পর কমলনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরকারি বাসভবন ব্যাবহারের পর কয়েক বছর ওই বাসার কোন ভাড়াই দেননি তিনি । এ ছাড়া নির্মিত হওয়ার পর থেকে ওই বাসায় এবং অফিসার্স কোয়ার্টারে মিটার না লাগিয়ে খুঁটি থেকে সরাসরি সংযোগ দিয়ে পরিষদের বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অফিসার্স কোয়ার্টারে মিটার লাগালেও বিদ্যুৎ বিল দিচ্ছেননা উপজেলা কর্মরত বিভিন্ন দপ্তরের অফিসারগন। ফলে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে লক্ষলক্ষ টাকা বিদ্যুৎ বিল আত্মসাৎ করেছেন তারা। অভিযোগ রয়েছে, তাদের ব্যবহৃত বিদ্যুৎ বিল, বাসা ভাড়া পরিশোধ করতে হচ্ছে উপজেলা প্রশাসন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সারোয়ার, বাসা ভাড়ার বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, তিনি নতুন তাই বিদ্যুৎ বিল বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তবে খোঁজ নিয়ে ব্যাবস্থা নিবেন তিনি।

এদিকে জানা যায়, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সারোয়ার তিন মাসের মাথায় রাষ্ট্রপতির দফতরে বদলী হওয়ার পরেও তিনি নিজেকে নতুন দাবী করেন।