লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে রোগীর স্বজন ও হাসপাতাল কর্মীর মারামারি

নিজস্ব প্রতিবেদক :
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে রোগীর স্বজন ও হাসপাতাল কর্মীদের মাঝে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এসময় উভয় পক্ষের বহিরাগত লোকজন এসে মারামারিতে অংশ নেয়ায় হাসপাতাল জুড়ে হট্টোগোল সৃষ্টি হয়। আজ রবিবার (১৫ মে) দুপুরে সদর হাসাতালের দ্বিতীয় তলার পুরুষ ওয়ার্ডের সামনে এঘটনা এঘটে। এতে আতঙ্কিত
হয়ে পড়েন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অন্যান্য রোগী ও তাদের স্বজনরা।
পরে খবর পেয়ে লক্ষ্মীপুর শহর ফাঁড়ির পুলিশ হাসপাতালে এসে উভয়পক্ষকে শান্ত করে পরিস্থিতি নিয়েন্ত্রণে আনে।
পুলিশ ও হাসপাতাল সুত্রে জানা যায়, বরিবার সকালে শহরের ইটের পুল এলাকা থেকে জাবেদ নামে এক রোগীকে পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। বেলা ১১টার দিকে
হাসপাতালের ওই ওয়ার্ডে ডাক্তারদের রাউন্ড চলা কালে আহাদ নামে রোগীর স্বজন পুরুষ ওয়ার্ডে ঢুকার চেষ্টা করে। এসময় রিশাদ নামে হাসপাতালের এক কর্মী
তাদের বাধা দিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে উভয়ের মাঝে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক শহর পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসারের রুমে উভয়পক্ষকে নিয়ে
সমযোতা বৈঠক করেন আরএমও আনোয়ার হোসেন ও শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জহিরুল ইসলাম।
এদিকে জাবেদ নামে ওই রোগী ও তার স্বজনরা জানান, পুরুষ ওয়ার্ডে জাবেদের সাথে দেখা করে কিছু টাকা দিয়ে যাওয়ার জন্য আসেন মা ও বড় ভাই। এসময় দায়িত্বে থাকা কর্মী রিশাদ তাকে বাধা দিয়ে খারাপ আচরণ করে। এতে উভয়ের মাঝে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে রিশাদ বহিরাগত লোকজন এনে জাবেদের
স্বজনদের উপর হামলা চালায়। রিশাদ শুধু ওই রুগী নয় ভর্তি রোগীদের কাছে টাকা
দাবী করে আসছে, টাকা না দিলে খারাপ আচরণ করে। তাই ওই কর্মীকে প্রত্যাহারের দাবী জানান তারা।

এব্যাপারে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ
আনোয়ার হোসেন বলেন, রিশাদ সদর হাসপাতালের যুক্তিভিত্তিক কর্মচারী। রোগীর
স্বজন ও ওয়ার্ড কর্মীর মাঝে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। বিষয়টি সমযোতা করা
হয়েছে। ওই ওয়ার্ড কর্মীকে কাউন্সিলিং করা হবে বলে জানান তিনি।
লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জহিরুল ইসলাম বলেন, হট্টোগোলের খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email