লক্ষ্মীপুরে ঘূর্ণিঝড় অশনির প্রভাব : সয়াবিন ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

মো. রুবেল হোসেন, লক্ষ্মীপুর:

বঙ্গোপসাগর থেকে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘অশনি’র প্রভাবে টানা কয়েকদিনের বৃষ্টির পানিতে লক্ষ্মীপুরে সয়াবিন ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বেশিরভাগ সয়াবিন গাছ পানিতে পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে কৃষক হয়ে পড়েছে দিশেহারা। মাঠ থেকে সয়াবিন তুলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।

সরেজমিন সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের পশ্চিম চরমনসা গ্রামে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠে সয়াবিন ক্ষেত তলিয়ে আছে পানির নিচে। এতে করে সয়াবিন গাছে পচন ধরছে। কৃষক শ্রমিক নিয়ে হাঁটু সমান পানি থেকে গাছ পাকা সয়াবিন সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

কৃষক মো. সিরাজ জানান, চলতি বছরে সোয়া কানি জমিতে সয়াবিনের আবাদ করেছেন। এতে তার প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সয়াবিনের ভালো ফলনও হয়েছে। তবে গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির কারণে লোকশানে পড়তে হবে তাকে। বেশিরভাগ সয়াবিন পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে।

আক্ষেপ করে কৃষক সিরাজ আরও বলেন, ছোট বেলা থেকে চাষাবাদের সঙ্গে জড়িত। সরকার সবসময় কৃষকদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেয়। কিন্তু তিনি কখনও সরকারের সহয়তা পাননি।

সয়াবিন চাষি মো. শামিম হোসেন জানান, এবছর ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ করে ১ কানি জমিতে সয়াবিনের আবাদ করেন। ক্ষেতের ৮০ থেকে ৯০ ভাগ সয়াবিন পাকা। টানা বৃষ্টি ও শ্রমিক সংকটের কারণে সয়াবিন ঘরে তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন। বেশিরভাগ শ্রমিক এ সময় ইটভাটায় কাজ করেন। বৃষ্টি না হলে সয়াবিনে লাভবান হতেন।

ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনুর রশিদ হারুন বলেন, রাজনীতির পাশাপাশি চাষাবাদও করেন। এ বছর ১ কানি জমিতে ৩০ হাজার টাকা খরচ করে সয়াবিন আবাদ করেন। ঘূর্ণিঝড় অশনির প্রভাবের কারণে ফসলের মাঠে পানি জমে গেছে। এতে করে সয়াবিন গাছগুলোয় পচন ধরেছে। এবার প্রতিটি সয়াবিন গাছে থোকায়-থোকায় ফলন এসেছে। টানা বৃষ্টি না হলে লাভবান হতেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১ কেজি সয়াবিনের দাম ৬০ টাকা। ৪০ কেজি সয়াবিনের মূল্য ২ হাজার ৪ শ টাকা। বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুর সয়াবিন ভালো উৎপাদন হয়।

লক্ষ্মীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর লক্ষ্মীপুর ৫টি উপজেলায় ৩৮ হাজার হেক্টর জমিতে সয়াবিনের আবাদ করা হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর সদর-২ হাজার ৩ শ হেক্টর, রায়পুর-৫ হাজার ৮ শ ৮৫ হেক্টর, রামগঞ্জ-৫০ হেক্টর, রামগতি-১৬ হাজার ৫ শ ৬৫ হেক্টর ও কমলনগর-১২ হাজার ২ শ হেক্টর।

লক্ষ্মীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর উপ-পরিচালক মো. জাকির হোসেন জানান, ঘূর্ণিঝড় অশনির প্রভাবে টানা বৃষ্টির কারণে সয়াবিন চাষিদের কিছু টা ক্ষতি হয়েছে। এখনও কৃষকদের ৭০ ভাগ সয়াবিন মাঠে রয়েছে। ৩০ ভাগ সয়াবিন মাঠ থেকে তোলা হয়েছে। যেসব কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের তালিকা করে সহায়তা প্রদান করা হবে। একই সঙ্গে কৃষকদের দ্রুত মাঠ থেকে সয়াবিন ঘরে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এখন আর সয়াবিন কাঁচা নেই। প্রতিটি গাছের সয়াবিন পাকা। যত তাড়াতাড়ি সয়াবিন সংগ্রহ করবে, তত লাভ হবে। কারণ পানি লাগলে সয়াবিন নষ্ট হয়ে যায়।

Print Friendly, PDF & Email