লক্ষ্মীপুর হানাদার মুক্ত হয় ৪ ডিসেম্বর

 রঞ্জন মল্লিক : আজ ৪ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের এই দিনে লক্ষ্মীপুর জেলা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত হয়। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে পরাজিত হয়ে বাক্সপেটরা গুটিয়ে নোয়াখালী ও কুমিল্লা সেনানিবাসের দিকে পশ্চাদপসরণ করে।

লক্ষ্মীপুর জেলার অবস্থান ফেনী নদীর পশ্চিমে, মেঘনা নদীর পূর্বে এবং কুমিল্লা জেলার দক্ষিণ এলাকা জুড়ে। প্রাচীনকালে বঙ্গোপসাগরের বিস্তৃতি ছিল এ অঞ্চল জুড়ে। কালক্রমে এই এলাকায় চর জাগে। সৃষ্টি হয় জনপদ, প্রথমে ভুলুয়া রাজ্য, পরে নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলা। আদিকাল থেকেই লক্ষ্মীপুরকে ধন-সম্পদ বা সৌভাগ্যের জনপদ বলা হতো।

১৭৬৫ সাল থেকে দালাল বাজারের জমিদাররা এই অঞ্চলটি শাসন করতে শুরু করেন। লক্ষ্মীপুর নামকরণে দালাল বাজারের জমিদারদের অগ্রণী ভূমিকা ছিল বলে ঐতিহাসিকরা মনে করেন। ১৮৬০ সালে লক্ষ্মীপুর থানায় পরিণত হয়। স্বাধীনতার পর ১৯৭৯ সালে মহকুমায় ও ১৯৮৪ সালে লক্ষ্মীপুরকে জেলায় উন্নীত করা হয়।

১৯৪৭ সালে দেশভাগ হয়। নতুন রাষ্ট্র পাকিস্তানে স্বভাবতই মানুষ চেয়েছিল অর্থনৈতিক পরিবর্তন আসবে জনজীবনে। লক্ষ্মীপুরবাসী দেখলো সে আশায় গুড়েবালি। স্বাধীন পাকিস্তান রাষ্ট্রে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে ১৯৪৯ সালে পূর্ব বাংলার মানুষের রুটি-রুজি নিশ্চয়তা ও বাক স্বাধীনতার জন্য মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয়। যুগ্ম সম্পাদক করা হয় শেখ মুজিবুর রহমানকে। তখন তিনি কারাগারে বন্দি। শেখ মুজিবুর রহমান জেল থেকে বের হয়ে মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে আওয়ামী মুসলীম লীগের একনিষ্ঠ কর্মীতে পরিণত হন। সারা পূর্ববাংলা ঘুরে, তিনি জনমনে আস্থার জায়গা করে নেন। ১৯৬৪ সালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়ে তিনি প্রথমেই ৬ দফা দাবি পেশ করেন। যা পূর্ব বাংলার মানুষের বাঁচা মরার দাবি ছিল। এ সময়  শেখ মুজিবুর রহমান লক্ষ্মীপুরে এসেছেন, সভা সমাবেশ করেছেন।

’৭০ এর প্রলোয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লক্ষ্মীপুরের চরাঞ্চলে ত্রাণ নিয়ে এসে অতিদরিদ্র মানুষের দু:খ দুর্দশা কাছ থেকে দেখেছেন। ’৭০ এর নির্বাচনে   ভোটের বাস্কে এর ব্যাপক প্রভাব পড়ে। ভোটের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর স্বচ্ছ ভালোবাসার প্রতি উত্তর দিয়েছিলো লক্ষ্মীপুরবাসী।

৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ প্রচারিত হলে লক্ষ্মীপুরের সর্বসাধারণ বঙ্গবন্ধুর ডাকে স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এ সময় সংগ্রাম কমিটি গঠিত হয়। পাড়ায় পাড়ায় মহল্লা মহল্লায় সংগ্রাম কমিটির নেতৃত্বে ছাত্র যুবকরা প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করে।

২৩ এপ্রিল পর্যন্ত হানাদার বাহিনী লক্ষ্মীপুরে প্রবেশ করতে পারে নি। মাদাম ব্রিজটি ছিল লক্ষ্মীপুর শহরে প্রবেশের পথ, এই ব্রিজটি মুক্তিযোদ্ধারা এক্লোসিভ দিয়ে উড়িয়ে দেয়। ফলে লক্ষ্মীপুরে প্রবেশের মুখে হানাদার বাহিনী বাঁধার সম্মুখীন হয়। ২৪ এপ্রিল পাকিস্তানি  সেনাবাহিনী দুটি দলে ভাগ হয়ে নোয়াখালী জেলা সদর মাইজদী এবং লক্ষ্মীপুরের দিকে অগ্রসর হয়। প্রবল প্রতিরোধের পর তারা মাইজদী ও লক্ষ্মীপুরে অবস্থান নেয়। লক্ষ্মীপুরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী মাদাম ব্রিজ ও বাগবাড়ি কৃষি গোডাউনে স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করে।

বেঙ্গল রেজিমেন্টের সাহসী সৈনিক সুবেদার লুৎফর রহমান সংগঠিত করেন একদল মুক্তিযোদ্ধা। এই মুক্তিযোদ্ধারা লক্ষ্মীপুর, রামগঞ্জ, চাটখিল, বেগমগঞ্জ, বজরা এবং সোনাইমুড়িসহ নোয়াখালী জেলার বিভিন্ন স্থানে হানাদার বাহিনীর সাথে সম্মুখযুদ্ধে লিপ্ত হন।

১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর বা প্রবাসী সরকার গঠিত হলে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ দেশে-বিদেশে রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করে। এ সরকারের রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমেদ। শুরু হয় সর্বাত্মক সশস্ত্র যুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে মুজিবনগর সরকার যুদ্ধ পরিচালনা করে। লক্ষ্মীপুর জেলা ২ নম্বর সেক্টরের অন্তভূক্ত ছিল।

লক্ষ্মীপুর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ উল্লা এম.পি মুজিব নগর প্রবাসী সরকার গঠনে বিশেষ  ভূমিকা পালন করেন। লক্ষ্মীপুরের রায়পুর অঞ্চল ছিল তার নির্বাচনী এলাকা। ভারতে মুক্তিযুদ্ধে প্রশিক্ষণ শিবির স্থাপন ও প্রায় এক কোটি শরণার্থীর থাকা খাওয়ার বিষয়ে কাজ করেন তিনি। তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর একান্ত সহচর। এই বীর মুক্তিযোদ্ধা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ১৯৭৩ সালে স্পীকার ও ১৯৭৪ সালে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।
সম্মুখ যুদ্ধে যোগদানের জন্য ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে খোলা হয় প্রশিক্ষণ শিবির।

বাংলাদেশের জন প্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তি, সমাজকর্মী, যুব এবং ছাত্র নেতাসহ শতাধিক ব্যক্তি প্রত্যক্ষভাবে শিবিরগুলোতে জড়িত হন। পরোক্ষভাবে জড়িত হন হাজার হাজার যুবক। শরণার্থী ক্যাম্পে ও যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সাত দিন বিশ্রামের পর মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের ইচ্ছুক যুবকদের প্রশিক্ষণের জন্য বাছাই করা হতো। যুবকদের ৪৫ দিন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। প্রশিক্ষণের তিনটি ভাগ ছিল।

এক. রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রশিক্ষণ।

দুই. উৎপাদন ও উন্নয়নমূলক কাজের প্রশিক্ষণ।

তিন. অস্ত্র পরিচালনার প্রশিক্ষণ।

জুন মাসের দিকে লক্ষ্মীপুর এবং নোয়াখালী অঞ্চল পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পূর্ণ দখলে চলে যায়। লক্ষ্মীপুর-চৌমুহনী পাকা রাস্তায় সামরিক টহল জোরদার করে। মুসলিম লীগ নেতাদের নিয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী সৃষ্টি করে রাজাকার বাহিনী। গুরুত্বপূর্ণ পুলগুলোতে বসানো হয়  রাজাকার পাহারা। এ সময় নোয়াখালী থেকে  খানসেনারা অবাধে লক্ষ্মীপুর, রায়পুর ও রামগঞ্জে যাতায়াত করতো। চন্দ্রগঞ্জ পুলটি লক্ষ্মীপুর অঞ্চলে যানবাহন চলাচলে  গুরুত্বপূর্ণ একটি পুল ছিল। লক্ষ্মীপুরের প্রবেশদ্বার চন্দ্রগঞ্জ পুলটি উড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় মুক্তিযোদ্ধারা। ১১ জুন কাক ডাকা ভোরে পুলটি উড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের সাথে খানসেনাদের  যোগাযোগের মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে।

লক্ষ্মীপুর সদর, দালালবাজার, কাজির দিঘীর পাড়, মিরগঞ্জ, রায়পুর ও রামগতিতে পাকিস্তানি খানসেনাদের সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মুখ যুদ্ধ হয়। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পর মুক্তযোদ্ধাদের অনেকেই আজ আর জীবিত নেই। যাঁরা জীবিত আছেন, সেইসব মুক্তিযোদ্ধাদের সাক্ষাৎকারে যুদ্ধ দিনের কথা তুলে ধরা হলো।

‘লক্ষ্মীপুর শহরের আতঙ্ক ছিল মাদাম ব্রিজ। এই  স্থানে মুক্তিযোদ্ধা, সাধারণ গ্রামবাসী ও নিরীহ নারী পুরুষদের ধরে এনে নির্যাতনের পর হত্যা করা হতো। মাদাম ব্রিজটি ছিল খর¯স্রোতা খালের উপর। হত্যার পর খালের পানিতে হতভাগা নর-নারীদের ছুড়ে ফেলা হতো। ব্রিজটি আজও কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

বাগবাড়ি কৃষি গোডাউনটি ছিল খান সেনাদের আরও একটি ঘাঁটি। এখানে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী গ্রামবাসীদের ধরে এনে হত্যা করতো। এবং পাশর্^বর্তী ডোবা ও খালে হতভাগ্যাদের লাশ ফেলে রাখতো। শহীদের স্মরণে ১৯৮৬ সালে লক্ষীপুরের জেলা প্রশাসক ডি. কে. রায় চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে এখানে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়।

লক্ষ্মীপুরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ভয়াবহ যুদ্ধ ছিল কাজীর দিঘির পাড়ের যুদ্ধ। মুক্তিযোদ্ধা শামসুল ইসলাম চৌধুরী সাক্ষাৎকারে বলেন, ১৫ আগস্ট আমাদের কাছে খবর আসে রামগঞ্জ থেকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কয়েকটি কনভয় নোয়াখালীর দিকে যাবে। মীরগঞ্জ-কাজীর দিঘিরপাড় ৮ কিলোমিটার মুক্তিযোদ্ধারা রাস্তার পাশে এ্যাম্বুস করে। ১৬ আগস্ট এ স্থানে মুক্তিযোদ্ধাদের এ্যাম্বুশের মুখে পড়ে খানসেনারা। প্রথম মীরগঞ্জে ফায়ার ওপেন করে মুক্তিযোদ্ধারা। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত একটানা যুদ্ধ চলে। সম্মুখ যুদ্ধে ২ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মেজর ইমতিয়াজ মুক্তিযোদ্ধাদের গুলিতে নিহত হন। যুদ্ধে হতাহতের খবর শুনে নোয়াখালী থেকে ভারী অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে কাজীর দিঘির পাড় পাকিস্তানি খানসেনারা চলে আসলে মুক্তিযোদ্ধারা রাতের আঁধারে গা ঢাকা দেয়।

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ থানা ও রামগঞ্জ মধুপুর ইউনিয়ন আদর্শ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে পাকিস্থানি সেনাবাহিনীর শক্তিশালী ঘাঁটি ছিল। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় রাজাকার আলবদরা এ অঞ্চলে বেশ প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে। ফলে এ অঞ্চলের জনগণের রাতের ঘুম হারাম ছিল। পাকিস্থানি সেনাবাহিনীর হাত থেকে ১০ বছরের শিশু থেকে ৭০ বছরের বৃদ্ধা কেহই নিরাপদ ছিল না। এখানে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে খান সেনাদের বেশ কয়েকটি সম্মুখ যুদ্ধ হয়। রামগঞ্জ থানার বীরমুক্তিযোদ্ধা আবু নাসের মন্টু বলেন, রামগঞ্জ মধুপুর ইউনিয়ন আদর্শ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে পাঞ্জাবীদের ক্যাম্পে আমরা রেইড করি। পরবর্তীতে লক্ষ্মীপুর লজ ফতেপুর সেখানে বড় একটা  এ্যাম্বুস হয়। সেই এ্যাম্বুসে ১২জন পাঞ্জাবী ও একজন ক্যাপ্টেন নিহত হয়। রামগঞ্জ থানার বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন খান সুফী বলেন, এই বিদ্যালয়ে নারীদের উপর পাশবিক নির্যাতন করা হতো। নির্যাতিত নারীদের রক্ষা করা এবং খান সেনাদের উচ্ছেদের জন্য বার বার ঘাঁটি আক্রমণ করা হলেও তাদের ভারী অস্ত্রের মুখে আমরা পেরে উঠতে পারি নাই।

লক্ষ্মীপুরের পোদ্দার বাজার এলাকাটি মুক্তিযোদ্ধাদের অভয়ারণ্য ছিল। যুদ্ধের শুরু থেকে মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ ও অস্ত্রের মজুত এ এলাকায় করা হয়। তাছাড়া, ভারত থেকে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারাও এ এলাকায় এসে ঘাঁটি স্থাপন করে।  পোদ্দার বাজার এলাকায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কখনো প্রবেশ করতে সাহস পায়নি।

৪ নভেম্বর, ১৩ রমজান ১৯৭১। ট্রেনিং শেষে ত্রিপুরা রাজ্যের গেত্তাখোলা ইউথক্যাম্প থেকে ৯০ জন মুক্তিযোদ্ধা লক্ষ্মীপুরের উদ্দেশে যাত্রা করেন। সীমান্ত পার হয়ে পৌঁছে যান নোয়াখালীর কানকির হাটে। গন্তব্য ল²ীপুর থানার মুক্ত এলাকা পোদ্দার বাজার।

৩ নভেম্বর রাতে ভারত থেকে পোদ্দার বাজার এলাকার উদ্দেশে রওনা হন। দীর্ঘপথ পাঁয়ে হেটে আনুমানিক রাত ১টার দিকে বজরা-সোনাইমুড়ি রেলস্টেশনে দিকে হাজির হন। মুক্তিযোদ্ধার দলটি সোনাইমুড়ি ও বজরার মধ্যবর্তী স্থান দিয়ে রেল লাইন পাড় হয়ে আমিশা পাড়ার দিকে অগ্রসর হয়ে নয়নপুর রাস্তায় পৌঁছে। নয়নপুর রাস্তায় একটি উচুঁ পুল ছিল। পুলটি পার হবার সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও রাজাকাররা বেয়নেট, চাকু, ছুড়ি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। চাকু, ছুড়ি ও বেয়নেট দিয়ে অনুমানিক ৭০/৭৫  জনের মতো মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করে। গুলি চালালে পোদ্দার বাজার এলাকার মুক্তিযোদ্ধারা এগিয়ে আসবে তাই যুদ্ধের এথিস্ক ভঙ্গ করে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ঘৃণ্য ও বর্বরোচিত এই হত্যার পরিকল্পনা নেয়। রাতের আঁধারে অতর্কিত এ হামলায় ৫০ থেকে ৫৫ জন মুক্তিসেনা শহীদ হন এবং ২৫ থেকে ৩০  জন গুরুতর আহত হয়। অধিকাংশ লাশ গুম করে ফেলা হয়। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ৭ জনকে পোদ্দার বাজার এলাকার বিভিন্ন স্থানে দাফন করা হয়। সতীর্থ হারানোর বেদনায় সেদিন মুক্তিযোদ্ধারা নামাজে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

মুক্তিযোদ্ধা তাহেরা বেগম, লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন ক্যাম্পে যুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের ভাত রান্না করতেন। লক্ষ্মীপুরের বরইতলা তার গ্রাম। মুক্তিযুদ্ধে বীরোচিত অবদানের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে একটি একতলা বাড়ি তৈরি করে দিয়েছেন। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার দু:খ দুর্দশা দূর করেছেন। আমি এখন দালান বাড়িতে থাকি।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে নৌকা ছিল গেরিলাদের প্রধান বাহন। লক্ষ্মীপুরের নদী, নালা, খাল, বিল, বন-জঙ্গল তথা প্রকৃতি মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যাপকভাবে সহায়তা করে।

৪ ডিসেম্বর লক্ষ্মীপুর হানাদার মুক্ত হয়। স্বাধীন লক্ষ্মীপুরের একদিকে স্বজন হারানোর মাতম চলে, অন্য দিকে বাড়িতে বাড়িতে  উড়তে থাকে লাল-সবুজের পতাকা। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু ধ্বনিতে লক্ষ্মীপুরের আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত হতে থাকে।

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক

Print Friendly, PDF & Email