লক্ষ্মীপুরে মাত্র ১’শ টাকায় মেয়ের পুলিশে চাকরি..! কাঁদলেন কৃষক পিতা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

তমা রানী দেবনাথ। ছোট বেলা থেকে তার স্বপ্ন ছিলো বাংলাদেশ পুলিশের একজন গর্বিত সদস্য হয়ে দেশের সেবা করবেন। কিন্তু এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় দারিদ্রতা। কারণ পিতা কৃষ্ণ লাল দেবনাথ একজন কৃষক। তার স্বপ্নের কথা শুনে পরিচিতজনরা বলতেন- পুলিশে চাকরি পাওয়া অত সহজ না। তোমার যতই যোগ্যতা কিংবা মেধা থাকুক, বড় অংকের টাকা ছাড়া চাকরি হবে না। পুলিশে চাকরি করতে হলে বাড়ি ঘর বিক্রি করতে হবে।

কিন্তু সেসব কথা আজ মিথ্যা প্রমানিত হলো। মাত্র একশ টাকায় তাঁর চাকরি হয়েছে বাংলাদেশ পুলিশে। এমন স্বপ্ন পূরণে আবেগে আপ্লুত সে। এজন্যে লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার ড. এ.এইচ.এম কামরুজ্জামান’কে ধন্যবাদ জানায় তমা। ধন্যবাদ জানাতে ভুল করেননি বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদ এবং নিজের দরিদ্র পিতা-মাতাকেও। এ সময় পাশের থাকা বাবাকে জড়িয়ে ধরে গর্ব করে বলেন, আমার বাবার জন্যেই আজ আমি পুলিশে নিয়োগ পেলাম। মেয়ের এমন অর্জনে আবেগাল্পুত হয়ে পড়েন গরীব কৃষক পিতা কৃষ্ণ লাল দেবনাথ। কান্নামিশ্রিত কণ্ঠে বলেন, আমি স্বপ্নেও ভাবিনী কোন ঘুষ বাণিজ্য ছাড়াই মাত্র একশ টাকা আর যোগ্যতার মূল্যায়নে আমার মেয়ের পুলিশে চাকরি হবে। আমি পুলিশ সুপার স্যারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

এর আগে গেল (২৪ নভেম্বর) রাতে পুলিশ লাইনস্ ট্রেইনি রিত্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নিয়োগ পরীক্ষা শেষে ফলাফল ঘোষনা করা হয়। এতে ৩৬ জন উত্তীর্ণ হয়। পরে নির্বাচিতদের পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে বিফিং অনুষ্ঠানে এভাবেই নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেন মাত্র ১’শ টাকায় পুলিশে চাকরি পাওয়া লক্ষ্মীপুরের তরুণ-তরুনীরা। এ সময় তাদের অভিভাবকদের ডেকে এনে মিষ্টি মুখ ও ফুলের সংবর্ধনা দেন পুলিশ সুপার।

বিনা টাকায় পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি পেয়ে আনন্দে কেঁদে ফেললেন লক্ষ্মীপুর শিশু পরিবার কেন্দ্রে বড় হওয়া মো: নবীর হোসেন। সে জানায়, আমি জীবনেও ভাবিনি টাকা কিংবা তদবির ছাড়া পুলিশে চাকরি হয়। আমাদের এসপি স্যার বলেছিলেন, কেবলমাত্র যোগ্যতার ভিত্তিতেই আমাদের চাকরি হবে। আমরা যেন দালাদের খপ্পরে না পরি। আজ সেটি প্রমাণ হলো। এইভাবে চাকরি পেয়ে আমি আনন্দিত। চাকরিটা তার কাছে পৃথিবী হাতের মুঠোই পাওয়ার মতো ঘটনা।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরির আবেদন করতে ১০০ (একশত) টাকা ফ্রি জমা দিতে হয়। কোনো ধরনের ঘুষ বাণিজ্য ছাড়াই মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পুলিশ কনস্টেবল পদে লোক নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছিলেন জেলা পুলিশ। এতে উদ্বুদ্ধ হয়েই গত ১৪ নভেম্বের পুলিশ লাইন্সে বাছাই পরীক্ষায় অংশ নেন ১৪০৪ জন। ৭টি ধাপে বিভিন্ন পরীক্ষা সম্পন্ন করে জেলার ১ জন এতিমসহ ৫ নারী ও পুরুষ সর্বমোট ৩৬ জন পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি পেয়েছেন।

লক্ষ্মীপুর পুলিশ সুপার ড. এ এইচ এম কামরুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ প্রধানের নির্দেশে আমরা যে চলমান রিক্রুটমেন্ট প্রক্রিয়া সম্পূর্ন করেছি তা সততা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে করা হয়েছে। যারা মেধাবী, দেশ ও জনগনের প্রান হবে, আমরা আমাদের মেধা দিয়ে যতটুকু বুঝেছি মানুষিক ভাবে যারা দেশের সেবায় নিবেদিত হবে তাদেরকে আমরা রিক্রুট করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।

Print Friendly, PDF & Email