অলিখিত সেমির লড়াই; বিকালে মুখোমুখি বাংলাদেশ-নেপাল

কাগজে-কলমে মালদ্বীপে অনুষ্ঠিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে কোনো সেমিফাইনাল নেই। কিন্তু আজ বাংলাদেশ-নেপাল আর ভারত-মালদ্বীপ ম্যাচ দুটি সেমিফাইনালেরই রূপ নিয়েছে। পাঁচ দলের টুর্নামেন্ট থেকে আগেই বিদায় নিয়েছে শ্রীলঙ্কা। শেষ চারে টিকে থাকা দলগুলোর প্রত্যেকেরই সম্ভাবনা আছে ফাইনাল খেলার। পয়েন্ট তালিকার বর্তমান অবস্থান অনুযায়ী বাংলাদেশ ও ভারতকে জিততেই হবে। অন্যদিকে অন্তত একটা করে পয়েন্ট প্রয়োজন স্বাগতিক মালদ্বীপ ও নেপালের। গতকাল ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে সব দলই আজকের ম্যাচকে সেমিফাইনাল মেনে খেলতে নামার কথা বলেছে। বিকাল পাঁচটায় বাংলাদেশ-নেপাল ও রাত ১০টায় মালদ্বীপ-ভারত মুখোমুখি হবে।

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে আজকের ম্যাচ দুটির গুরুত্ব সেমিফাইনালের চেয়ে কম নয়, এ তথ্য সমর্থকরাও বেশ ভালোই জানেন। গতকাল বাংলাদেশের সমর্থকরা মালের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামের দুই নম্বর গেটে ভোর থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে যান টিকিট পাওয়ার আশায়। দুপুর গড়িয়ে বিকালেও হাজারও বাংলাদেশি সমর্থক লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন টিকিটের আশায়। কুড়িগ্রাম থেকে মালদ্বীপে ব্যবসার উদ্দেশ্যে আসা একজন বললেন, আমরা কাল জয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে চাই। দর্শকদের পূর্ণ সমর্থন পাবেন জামাল ভূঁইয়ারা। কিন্তু এই সমর্থন কতোটা কাজে লাগবে?

ফুটবলে এক সময় নেপালকে নিয়মিত হারাতো বাংলাদেশ। ২০১১ সাল পর্যন্ত এই ছিল এই ধারা। এরপরই শুরু হয় বাঁকবদলের কাহিনী। নেপালের কাছে বার বারই সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে পরাজয় স্বীকার করেছে বাংলাদেশ। ২০১১, ২০১৩ এবং ২০১৮। তিনটা সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে তিনবার জাতিকে কাঁদিয়েছেন ফুটবলাররা নেপালের কাছে পরাজিত হয়ে। সবচেয়ে কঠিনতম পরাজয় ছিল ২০১৮ সালের সাফে। সেবার নেপালের সঙ্গে ড্র করলেই সেমিফাইনাল খেলতে পারত বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে ২-০ গোলে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় জামালদের।

এবারে উল্টো পরিস্থিতি। বাংলাদেশকে নেপালের বিপক্ষে জিততেই হবে। অন্যদিকে ড্র করলেই পাড় পেয়ে যাবে নেপাল। কী অপেক্ষা করছে! শক্তিমত্তায় নেপাল খুব কঠিন কোনো দল নয়। তাদের গতি আছে। নিজেদের অর্ধে বল ধরে খেলতে পছন্দ করে। প্রতিপক্ষকে খুব একটা খেলার সুযোগ দেয় না। কিন্তু এই দলের দুর্বলতাও কম নেই। গোল করার মতো উপযুক্ত ফুটবলারের বড় অভাব তাদের। প্রতিপক্ষের জোরালো আক্রমণের সামনে এলোমেলো হয়ে যায় প্রায়ই। এই সুযোগটা নিতে পারবে বাংলাদেশ! অস্কারের দলেও গোল করার মতো তেমন কেউ নেই। ডি বক্সের আশেপাশে গিয়ে সব তালগোল পাকিয়ে ফেলেন সুফিল-সুমনরা। মাঝে মধ্যে বাংলাদেশকে উদ্ধার করেন তপু বর্মণ আর ইয়াসিন আরাফাতের মতো ডিফেন্ডাররা। আজ দলে ফিরছেন মিডফিল্ডার রাকিব ও ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষ। অবশ্য দুই হলুদ কার্ড পাওয়া ইয়াসিন আরাফাত আজ খেলতে পারছেন না। রাকিব আর বিশ্বনাথের ফেরা কতটুকু লাভজনক হবে বাংলাদেশের জন্য!

সবমিলিয়ে নেপালের বিপক্ষে ২৪ ম্যাচ খেলে ১২টিতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। নেপাল জিতেছে ৮ ম্যাচে। দুই দল ড্র করেছে ৪বার। এই তথ্য বাংলাদেশের সমর্থকদের জন্য তৃপ্তিদায়ক হতে পারে। কিন্তু এই নেপালের কাছেই গত মার্চে ট্রাই নেশন্স কাপের ফাইনালে ২-১ গোলের পরাজয় স্বীকার করেছেন জামালরা। অবশ্য নেপালের সহকারী কোচ কিরণ শ্রেষ্ঠার বক্তব্যে কিছুটা আশার বাণী আছে। তিনি বললেন, ‘গত মার্চ আর এখনকার বাংলাদেশ দলের মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে। নতুন কোচের অধীনে এই দলটা নতুন ফুটবল দর্শন নিয়ে খেলছে।’ অস্কারের ফুটবল দর্শন কী তবে বাংলাদেশকে ফাইনাল খেলার পথ দেখাবে?

২০০৫ সালের পর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলতে পারেনি বাংলাদেশ। অন্যদিকে নেপালের সামনে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম ফাইনাল খেলার সুযোগ। এর আগে বেশ কয়েকবার সেমিফাইনাল খেললেও সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে কখনোই ফাইনাল খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি নেপাল।

Print Friendly, PDF & Email