লক্ষ্মীপুরে বাসার ছাদে হরেক রকম ফল চাষে “সফল” বেনিইয়ামিন ভুঁইয়া

তাবারক হোসেন আজাদ, লক্ষ্মীপুর :

বেনিইয়ামিন ভুঁইয়া। তিনি লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের পশ্চিম কাঞ্চনপুর এলাকার অবসরপ্রাপ্ত প্রবাসী চাকুরিজীবী। অবসরে গিয়ে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে বাসার ছাদে গড়ে তোলেছেন বাগান। ২৫০ টি টবে পান ও কমলাসহ দেশি-বিদেশি হরেকরকমের ফল ও সবজির গাছ লাগিয়েছেন তিনি। গাছগুলো ফল ও সবজিতে ভরে গেছে। গাছে ধরেছে মিষ্টি কমলা-পেয়ারা ও পান। নিজের হাতে লাগানো গাছে ফল দেখে তৃপ্তির হাসি হাসছেন ৭২ বছর বয়সী বেনিইয়ামিন ভুঁইয়া। তার মতো রায়পুর শহরে ও গ্রামে অনেকেই ছাদ কৃষিতে মনোযোগী হয়ে উঠেছেন। সারা বছরই ছাদ কৃষিতে ফুল-ফল, শাকসবজি চাষ করছেন তারা। শহরে শতাধিক ভবনের ছাদে ছাদ কৃষি করার কথা জানা গেছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, বর্তমানে রায়পুর উপজেলা শতাধিক ভবনের ছাদে গাছ ও সবজির চাষাবাদ হচ্ছে। ছাদগুলোতে হরেক রকমের ফল, ফুল ও সবজির গাছ রয়েছে।

জানা গেছে, দেবিপুর গ্রামের শিক্ষক ওয়ালী আহাম্মেদ, পৌরসভার কাঞ্চনপুর গ্রামের প্রবাস ফেরত বেনিইয়ামিন, চরমোহনা গ্রামের কৃষক হারুনুর রশিদ, উত্তর চরআবাবিল গ্রামের গৃহবধূ ইসমত আরা আক্তার ও পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবদুল হক পাটোয়ারীসহ আরও অনেকেই তাদের বাড়ির ছাদে বাগান করেছেন।

তবে শহরের নতুনবাজার, মাতৃছায়া হাসপাতাল (প্রা.), সরকারি হাসপাতাল, টিএনটি ও টিএসসি সড়ক, কাঞ্চনপুর, দেবিপুর, শায়েস্তানগর, দেনায়েতপুর এলাকায় ছাদ কৃষিতে আগ্রহী মানুষের সংখ্যা বেশি।

রায়পুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সৈয়দ রায়হানুল হায়দার বলেন, ছাদে গাছ লাগানো একটি বড় সুবিধা হচ্ছে  ছাদ সব সময়ের জন্য ঠাণ্ডা থাকে। একদিকে পরিবেশ রক্ষা হয়, অন্যদিকে পারিবারিক সবজি চাহিদা ও পুষ্টির জোগান দেওয়া সম্ভব হয়। রায়পুর পৌরসভাসহ উপজেলায় প্রায় ১০০ চাষি ছাদ বাগান করেছেন।

বৃহস্পতিবার বেনিইয়ামিনের শিউলি আর্টিকালচার নামের বাগানে গিয়ে দেখা যায়, কয়েক রকমের আম, জাম, কমলা, মাল্টা, কামরাঙ্গা, জাম্বুরা, সফেদা, আঙুর, ড্রাগন, করমচা,, আপেলের কলম, এবকেটর, আলুবোখারা, আরবি খেজুর, এলাচের চারা, গোলমরিচ, ১২ মাসি আম (কাটিনো আম), ড্রাগন ফল, লবঙ্গ, বারি মাল্টা-১, থাই মাল্টা, আনার, রামবুটান, বীজ ছাড়া পেয়ারা, বড়ই, পান ও কবুতরসহ বিভিন্ন রকম ফল ও ফুলের চারা কলম ও ঔষধি গাছের চারার বিশাল সমারোহ। এছাড়াও তিনি ৪ শতাংশ জমিতে সৌদি খাজুরের বাগানও করেছেন। শাকসবজির মধ্যে লাউ, টমেটো, শসা, তরই, ক্যাপসিকাম, কারিপাতা, লেটুসপাতা ও ধনেপাতা। ঔষধি গাছের মধ্যে অ্যালোভেরা, তুলসী, আমলকী ও অর্জুন। আঙুর ফলের মাচায় ঝুলছে শসা, লাউ আর তরই।

ছাদবাগান সম্পর্কে বেনিইয়ামিন বলেন, ২৬ বছর প্রবাস জীবন কাটার পর ২০০৬ সালে দেশে এসে বেকার জীবন কাটে। এসময় কিভাবে ছাদ বাগান করে চ্যানেল আইয়ের শাইখ সিরাজ ও ঢাকার এক বেয়াইয়ের কাছ থেকে উদ্ধুদ্ধ হয়ে ২০০৯ সালে দ্বিতলা ভবনে কয়েকটি ফলের গাছ দিয়ে শুরু করেছিলাম। তার পর ধীরে ধীরে সবজির গাছ লাগাই। এ চারাগুলো সাভার স্মৃতিসৌধ, যশোরের মনিরামপুর, ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন হটিকালচার থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। পরিমাণে কম হলেও বছরের সবসময়ই কোনো না কোনো গাছের ফল খেতে পারি।’ তার এ বাগানের পরিচর্যা দেখে আশপাশের অনেকেই এখন ছাদ কৃষি গড়ে তুলেছেন। অনেককে তিনি চারা ও বীজ সরবরাহও করেন। এ ছাদ কৃষিতে সাফল্যের জন্য উপজেলা থেকে কৃষিবিভাগ থেকেও পুরস্কারও লাভ করেন।

বাড়ির ছাদে শতাধিক টবে গাছ লাগান রায়পুরে মাতৃছায়া হাসপাতালের পরিচালক আবদুর রহমান তুহিন চৌধুরী। তিনি বলেন, দুই বছর ধরে হাসপাতালের ছাদ বাগানের ফল ও সবজির যত্ন নিতে পারছেন। বাজার থেকে সবজি কিনতে হয় না। তাকে হাসপাতাল নার্সরা সহযোগিতা করছেন।

রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরীন চৌধুরী বলেন, আমার বাসার চারপাশে ও ছাদেও ফুল, ফল ও সবজির বাগান গড়ে তুলেছি। ইতোমধ্যে ছাদ কৃষির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফুল ও ফল মিলিয়ে সেখানে শতাধিক টবে গাছ লাগানো হয়েছে। কয়েকটি গাছে ইতোমধ্যে ফলও ধরেছে।

Print Friendly, PDF & Email