আগাম আলু রোপণে ব্যস্ত কৃষকরা

নীলফামারী : প্রতিবছরের ন্যায় এবছরেও মৌসুমি সবজী আলু চাষে চমকপ্রদ হিসেবে খ্যাত নীলফামারী কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাঠের পর মাঠ। উঁচু সমতল জমিতে আগাম আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা।

উপজেলা কৃষি অফিস দৈনিক কালবেলা প্রতিনিধিকে  জানায়, চলতি বছর ৪ হাজার ১৪০ হেক্টর জতিতে আগাম আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বল্পমেয়াদী আগাম আউশ,আমন ধান কাটা মাড়াই শেষ করে সেই জমিতে আগাম জাতের আলু রোপণের জন্য হিমাগার থেকে বীজ সংগ্রহ, জমি প্রস্তত, সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ, আলু রোপণে ব্যস্ত  সময় পার করছেন প্রান্তিক ও মাঝারি চাষীরা। বিশেষ করে সময়ের আগে এ অঞ্চলে আগাম আলু রোপণকে ঘিরে যেন প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে মাঠজুড়ে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, দ্বিগুন লাভের আশায় মাঠে মাঠে চলছে আলু রোপণ ও জমি  প্রস্তুতের কাজ। এ সময় রণচন্ডী ইউনিয়নের দীঘলটারী গ্রামের আলু চাষী রতন আলী জানান, গত বছর ধান কাটার পর ২ একর জমির আলু ৮০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে টাকা দ্বিগুন লাভ হয়েছে। এবারো ২ একরের বেশী জমিতে  ৫৫ থেকে ৬০দিনে উত্তোলন যোগ্য সেভেন জাতের আলু রোপণ করছি।এবার আবহাওয়া অনুকূল থাকায় গতবারের চেয়ে ফলন ভালোর আশায় মনের আনন্দে আলু রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছি।

বাহাগিলী ইউনিয়নের আলু চাষী রফিকুল ইসলাম ১৫ বিঘা ও সাবিনা বেগম ১০ বিঘা, মিলন মিয়া ১৮ বিঘা জমিতে আগাম আলু রোপন করছেন।

তিনি জানান, যার আলু যত আগে উঠবে সে কৃষক তত লাভবান হবেন। এ এলাকার মাটি উঁচু এবং বালু মিশ্রিত হওয়ায় বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত না হলে আগাম আলু চাষে তেমন কোন ভয় থাকে না। ফলন কম হলেও রাজধানীসহ বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে চড়া দামে আলু বিক্রি করে দ্বিগুন লাভবান হওয়া যায়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এ উপজেলার মাটি আগাম আলু চাষের জন্য খুবই উপোযাগী। প্রতিবছর এ এলাকার কৃষক আগাম আলু চাষ করে দ্বিগুন লাভবান হন। চলতি বছর ৪ হাজার ১৪০ হেক্টর জতিতে আগাম আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আমাদের কৃষি অফিস থেকে আগাম আলু চাষে কৃষকদের বিভিন্ন সহযোগিতা করে থাকি।

Print Friendly, PDF & Email