করোনায় রায়পুরে প্রাথমিকের ১০ ও মাধ্যমিকের ২০ ভাগ শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে!

রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি :
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে প্রাথমিকে ১০ শতাংশ ও মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিকে গড়ে ২০-২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠান থেকে ঝরে পড়েছে।  করোনার মহামারিতে দেড় বছরেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর তা সম্প্রতি খুলেছে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও শিক্ষার্থীরা অনলাইন কিংবা মোবাইল ফোনসহ অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের সঙ্গে নানাভাবে যোগাযোগ রক্ষা করে আসছিল। উপজেলার প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী-শিক্ষক এবং বিদ্যালয় থেকে একেবারেই বিচ্ছিন্ন রয়েছে বলে সংশ্লিস্ট সুত্রে জানা গেছে। এসব শিক্ষার্থীরা আদৌ বিদ্যালয়ে ফিরবে কিনা এ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছ।
অপরদিকে-উপজেলার ৫৪টি মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গড়ে ২০ জন করে প্রায় ১০৮০ ছাত্রীর বিয়ে হয়ে গেছে বলে সংশ্লিষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা জানান। তার মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য প্রতিষ্ঠান হলো, রায়পুরের আলীয়া কামিল মাদরাসা, পাইলট বালিকা, মেঘনা উপকূলীয় হায়দরগঞ্জ এমএ তাহেরিয়া, রোকেয়া হাসমতের নেছা, চরআবাবিল রচিম উদ্দিন, এলকে এইচ উপকূলীয়, হায়দরগঞ্জ মডেল একাডেমি, রাখালিয়া, আবদুর রহমান আদর্শ, জনকল্যাণ বহুমূখী, কেরোয়া মীরগঞ্জ বালিকা ও চরবংশি আজিজিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ।
উল্লেখ্য-রায়পুর উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিকসহ ১ম শ্রেণী থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত ২৫ হাজার ৩০৬ জন (ছাত্র-১২২৪৬-ছাত্রী-১৩০৬০) শিক্ষার্থী। ২৮ ফেব্রূয়ারী/২০২১ সাল পর্যন্ত)। আর বেসরকারি প্রাথমিকসহ ৭৬ কেজি স্কুল ১০ হাজার ১১৬ জন শিক্ষার্থী (ছাত্র-৫০১৯-ছাত্রী-৫০৯৭)। মাধ্যমিকে ৩০ স্কুলের ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত ২০ হাজার  ও ১ম শ্রেণী থেকে কামিল পর্যন্ত ১৫ হাজার এবং ৫ কলেজের একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর ৩ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। করোনার সময় অনলাইন ক্লাশে গড়ে ২০-৩০% অনুপুস্থিত এবং এসাইনমেন্ট নেয় নি ১৫-২০% মাধ্যমিক-কলেজের শিক্ষার্থীরা।
মাধ্যমিকে গত ১০ দিনে ৭০ থেকে ৭৫ এবং কলেজে শতকরা  ৭০ থেকে ৭৫ ভাগ উপস্থিতি ছিলো বলে শিক্ষকরা জানিয়েছেন।।
বুধবার  (২২ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা অফিস এবং সরজমিন জানাযায়,, প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসে রায়পুরে মেঘনা উপকূলসহ বহু পরিবার দারিদ্রসীমার নিচে চলে গেছে। আর ওইসব পরিবারের শিক্ষার্থীরা পারিবারিক অস্বচ্ছলতার কারণে শিক্ষা ছেড়ে দিনমজুর, কৃষি, শ্রমিকসহ নানা ঝুকিপুর্ণ কাজে যোগদান করেছে।
সম্প্রতি বেসরকারি ১টি সংস্থার জরিপে উপজেলার ৩১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (প্রাথমিকে-১৫’শ ও মাধ্যমিকে-১২’শ)  প্রায় ২৭’শ শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতির চিত্র উঠে এসেছে। গ্রামীণ পর্যায়ে জরিপ এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া ১৮টি কেজি স্কুলে  খোঁজ নিলে এর সংখ্যা আরো অনেক বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।  তাছাড়া বেশ কিছু মেয়ে শিশুকে লকডাউনের মধ্যেই তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বাল্যবিয়ে দিয়েছেন গরিব পরিবার। করোনার কারণে উপজেলার ২০টি কিন্টার গার্ডেন স্কুল স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪ হাজার শিক্ষার্থী লেখাপড়া ছেড়ে দিয়েছে।
রায়পুর প্রাথমিক শিক্ষা অফিস জানান, করোনার কারণে বিপর্যস্ত পরিবারের শিক্ষার্থীরা শিক্ষা ছেড়ে বিভিন্ন কাজে যুক্ত হয়েছে। এতে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম। ঝরে পড়া এসব শিক্ষার্থীদের আবারও স্কুলে ফেরাতে কাজ শুরু করেছেন শিক্ষকরা। তারা ইতোমধ্যে ঝরে পড়া শিশুদের চিহ্নিত করতে কাজ করছেন।
রায়পুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাক আহাম্মদ জানায়, করোনার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিক্ষার্থীরা। স্কুল খোলার সঙ্গে সঙ্গে মনিটরিংয়ের মাধ্যমে সব ছাত্র-ছাত্রীকে আবার শিক্ষাঙ্গনে ফিরিয়ে আনতে স্কুল শিক্ষক ও অভিভাবকদের কাজ করতে হবে। বিদ্যালয় খোলার দুই-আড়াই মাসের মধ্যেও যদি কোনো শিক্ষার্থী স্কুলে না আসে তাহলে সেটিকে আমরা ঝরে পড়া হিসেবে ধরে নেব।  তবে আমাদের মূল লক্ষ্য শতভাগ শিক্ষার্থীকে স্কুলে ফেরানো।
Print Friendly, PDF & Email