লক্ষ্মীপুরে তিন আনা কানের দুলের জন্য শিশুকে হত্যা: নারীকে গনপিটুনী

রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি :

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে তিন আনা সোনার কানের দুলের জন্য পপি সাহা (৭) নামের সাত বছরের এক শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বামনী ইউপির সাগর্দি গ্রামের অস্বীনি সাহার বাড়িতে। এঘটনায় ঘাতক রুমা আক্তার বিক্ষুদ্ধ গ্রামবাসী ঘাতক রুমাকে গনপিটুনী দিয়ে গাছের সাথে বেঁধে রেখে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরে পুলিশ রুমা ও তার স্বামী দিনমজুর এমরান হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ। তারা একই বাড়ীর প্রবাসী কাশেমে ভাড়াটিয়া ও পানপারা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

নিহত পপি সাহা (৭) একই গ্রামের প্রবাসী-নিমল সাহা ও গৃহীনি ববিতা সাহার একমাত্র মেয়ে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত চারদিন আগে পপি সাহকে তার মা ১২ হাজার টাকা মূল্যের তিন আনা কানের দুল কিনে দেন। এদুলের জন্য শিশুর সাথে সখ্য গড়ে তোলেন ভাড়াটিয়া রুমা আক্তার। বৃহস্পতিবার সকালে প্রাইভেট পড়ে ঘরে এসে শিশুদের সাথে খেলা করতে গিয়ে সকাল ১১ টায় পপি নিখোঁজ হয়। সম্ভাব্য জায়গায় খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে দুপুর ২ টার সময় ভাড়াটিয়া রুমার বাসায় শিশুকে খোঁজ করতে যায় তার ফুফু। কিন্তু ফুফুকে বাসায় ঢুকতে না দিয়ে বাসা তালা দিয়ে তাড়াহুড়ো করে অন্যত্রে চলে যাওয়ার সময় সন্ধেহ হলে আটক করা হয় রুমাকে। পরে বাসার তালা খুলে দেখে খাটের নিচে হাটু ভাঙ্গা অবস্থায় মৃত বসিয়ে রাখা হয়েছে পপিকে। পরে উদ্ধার করে দেখে তাকে শ্বাস রোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

এর আগেই কানের দুল বাজারে বিক্রি করে দেয় রুমা। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল পাঠায়।

এঘটনায় নিহত শিশুর মা ববিতা সাহা বাদী হয়ে ভাড়াটিয়া রুমা আক্তার (২৫), তার স্বামী এমরান হোসেন (৩৫) আসামি করে রায়পুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এর আগে পুলিশ ওই দুইজনকে গ্রাম থেকে আটক করে থানায় আনেন।

রায়পুর থানার ওসি আবদুল জলিল বলেন, শিশুর কানের দুল উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তাকে হত্যার ঘটনায় রুমা ও তার স্বামীকে আসামী করে হত্যা মামলা করা হয়েছে। তাদের দুইজনকেই জেলহাজতে পাঠানো হবে। রুমা এ হত্যার ঘটনার দায় স্বীকার করে আমাদের জবানবন্দি দিয়েছেন।

Print Friendly, PDF & Email