সৌভাগ্য তিনি এসেছিলেন, দুর্ভাগ্য তাঁর কোনো স্মৃতিচিহ্ন নেই

রাকিব হোসেন আপ্র : লক্ষ্মীপুরবাসীর সৌভাগ্য জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর জীবদ্দশায় লক্ষ্মীপুরে এসেছিলেন। কিন্তু চরম দুর্ভাগ্য হলো জাতির এই কিংবদন্তির কোনো স্মৃতিচিহ্ন লক্ষ্মীপুরে এখন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়নি। কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৫তম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে লক্ষ্মীপুরে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এমনটাই বলছিলেন স্থানীয় শিক্ষক, সাংবাদিক, প্রকৌশলী ও চিকিৎসক সহ সাহিত্য প্রেমী বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষজন।

শনিবার রাতে লক্ষ্মীপুর মিডিয়া সেন্টারের কার্যালয়ে এ আয়োজন করে নজরুল একাডেমী লক্ষ্মীপুর জেলা শাখা। এসময় জাতীয় কবির নামে লক্ষ্মীপুরে একটি দৃষ্টিনন্দন তোরণ স্থাপন এবং সড়কের নামকরণের দাবি জানানো হয়।

একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক সেলিম উদ্দিন নিজামীর সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের প্রাক্তণ অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মাইন উদ্দিন পাঠান। এছাড়াও কবি মুজতবা আল মামুন, কবি এসএম জাহাঙ্গীর, অধ্যাপক কার্তিক রঞ্জন সেনগুপ্ত, প্রকৌশলী মো. শহীদুল ইসলাম, অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মমিন উল্লাহ, অ্যাডভোকেট ফখরুল ইসলাম জুয়েল, ভোরের মালঞ্চ পত্রিকার সম্পাদক মতিউর রহমান ও টিংকু রঞ্জন পাল সহ আরো অনেকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবনী থেকে আলোচনা করেন।

বক্তারা বলেন, ১৯২৬ কিংবা ১৯২৭ সালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম লক্ষ্মীপুরে এসেছিলেন, এটা লক্ষ্মীপুরবাসীর জন্য সৌভাগ্যের বিষয়। কিন্তু এই কিংবদন্তির কোনো স্মৃতিচিহ্ন এখন পর্যন্ত লক্ষ্মীপুরে স্থাপন করা যায়নি। এটা লক্ষ্মীপুরবাসীর জন্য চরম দুর্ভাগ্য ছাড়া কিছুই নয়।

তাই অবিলম্বে লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের প্রধান ব্রিজ থেকে দক্ষিণ তেমুহনী পর্যন্ত সড়কটির নামকরণ কাজী নজরুল অ্যাভিনিউ করার দাবি জানান তারা। একই সাথে জাতীয় কবির নামে লক্ষ্মীপুরে পৌর শহরে প্রবেশের মুখে একটি তোরণ এবং টাউন লাইব্রেরির সামনে একটি নাম ফলক নির্মাণের জোর দাবি জানানো হয়।

Print Friendly, PDF & Email