ফেঞ্চি কবুতর পালনে সাফল্য

টাঙ্গাইল : শান্তির প্রতীক কবুতর। বাহারি রং আর হৃদয় জুড়ানো ডাক যেন প্রশান্তির বার্তা বয়ে আনে। কবুতর পছন্দ করে না এমন মানুষ খুবই কম। ডাক শুনতেই আনন্দে দৌড়ে যেতেন কাছে। যেন কবুতর তার আত্মার নেশা। একজন সফল উদ্যোক্তা টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘী গ্রামের রাজিব মাহমুদ। তিনি জানান, জেলার বড় খামারী হিসেবে সারা জাগীয়েছেন। ছোট থেকে স্বপ্ন দেখতেন একদিন মালিক হবেন কবুতর খামারের। স্বপ্নপূরণও হয়েছে।

শুরুটা মাত্র ৫ জোঁড়া দিয়ে হলেও এখন তার প্রায় ২’শ জোঁড়া কবুতর। প্রায় দশ বছরের প্রচেষ্টায় বদলে গেছে ভাগ্যের চাঁকা। এখন দেশের কবুতর প্রেমিদের কাছে এক পরিচিত মুখ রাজিব। সারাদেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে আসেন কবুতর পালক ও ক্রেতারা।

খামারের নাম দিয়েছেন রাজিব পিজন হাউজ। দেশি-বিদেশিসহ খামারে রয়েছে প্রায় ৫০ প্রজাতির ফেঞ্চি কবুতর। এর মধ্যে প্রমেনিয়াম পটার, বারলেস রেসার, ফ্রেন্স মুন্ডিয়ান, পাকিস্তানী ডেনিস, জার্মান, ডেনিশ, কুবার্গলার্ক, মুর হেড, কালো বিউটি হুমা, ব্লু পটার, অ্যারাবিয়ান টাম্পিটার, বুখরা, বাশিরাজ কোকা, হল্যান্ড জেকোবিন আমেরিকান সু কিং, লাল বোম্বাই, সাদা বিউটি হুমা, ব্লু রেসার, স্টেচার, বারাম্বার টামপিটারসহ ভিন্ন ভিন্ন বহু প্রজাতির কবুতর রয়েছে তার খামারে। তার খামারে রয়েছে ১০ হাজার থেকে ৫৫ হাজার টাকা মূল্যের কবুতর। দেখতে যেমন বাহারী তেমন চমকপ্রদ। বিদেশি জাতের কবুতর প্রথমে তিনি বিদেশি আমদানী কারকদের মাধ্যমে সংগ্রহ করে থাকেন। পরে ডিম থেকে বাচ্চা উৎপাদন করে তা বাজার জাত করেন তিনি। কঠোর পরিশ্রম আর মেধা শ্রমে আজ এ পর্যন্ত আসছেন বলে জানান তিনি।

তরুণ এই উদ্যোক্তা মাসে প্রায় ৪০-৫০ হাজার টাকা আয় করেন। তিনি জানান, যখন বেকারত্ব দেশের বিরাট হুমকি হয়ে দাড়িঁয়েছে তখন এই চ্যালেঞ্জিং কাজটি হাতে নেই। যেন বেকার তরুণরা এমন উদ্যোক্তা হয়ে সাবলম্বি হতে পারেন। করোনা মহামারিতে ব্যবসায় অনেকটা ক্ষতিগ্রস্ত বলে জানান তিনি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে যোগাযোগ করেন প্রান্তিক অঞ্চলের খামারী ও কবুতর প্রেমিরা। কেউ কেউ ছুটে আসেন শখের বসে কিনতে। তবে শিক্ষার্থী বা তরুণদের কাছে কম মূলে বিক্রি করেন কবুতর।

উন্নত জাতের একজোঁড়া ফেঞ্চি কবুতরের মূল্য প্রায় এক থেকে পাঁচ লাখ টাকা। সফল উদ্যোক্তা হতে তার চাচা ঔষধ কোম্পানির মার্কেটিং অফিসার মনির হোসেন পরামর্শ দিতেন। ব্যাকটেরিয়া, গুটি বসন্ত, রাণীক্ষেত ও সাল্মুনেল্ল্যা রোগ কবুতর বেশি আক্রান্ত হয়।

ঘাটাইল উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা আবদুল মান্নান জানান, করোনাকালিন সংকটে বেকারত্ব দূরিকরণে রাজিবের মতো উদ্যোগতা ঘরে ঘরে হয়ে উঠুক। তাকে সঠিক পরামর্শ দিয়ে পর্যাপ্ত সহযোগিতার চেষ্টা করছি।

Print Friendly, PDF & Email