চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত লক্ষ্মীপুরের সেবাপ্রার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

গ্রামীণ স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করণে প্রতিষ্ঠা করা হয় ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্র। অথচ সরকারের সে উদ্দেশ্য বেস্তে যাচ্ছে কিছু অসাধু ও লোভী ডাক্তারদের (স্যাকমো) কারণে। নির্দিষ্ট সময়ে কেন্দ্রে উপস্থিত না থাকা। রোগী রেখে যখন-তখন কেন্দ্রের বাইরে চলে যাওয়া। কেউ আবার কেন্দ্র সংলগ্ন ফার্মেসীগুলোতে খুলে বসেছেন ব্যক্তিগত চেম্বার। যেখানে নির্দিষ্ট ফি’র মাধ্যমে কেন্দ্র চলাকালীন সময়েও দিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসা। ফলে রোগীরা কাঙ্খিত গ্রামীণ স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এমনি অভিযোগের ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার (১০ আগষ্ট) সকালে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার হাজিরপাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে যায় প্রতিবেদক। কেন্দ্রে রোগী ও ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের ভীড় থাকলেও, নেই কেন্দ্রের চিকিৎসক উপ-সহকারি মেডিকেল অফিসার (স্যাকমো) হরিপদ মজুমদার টুটুল। কেন্দ্র সংলগ্ন ফার্মেসীতে ফি’র মাধ্যমে রোগী দেখছেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে উপ-সহকারি মেডিকেল অফিসার (স্যাকমো) হরিপদ মজুমদার বলেন, যথাসময়ে কেন্দ্রে আসেন ও নিয়মিত চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকেন। তবে মাঝে মধ্যে স্থানীয় চেয়ারম্যান, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ডাকলে কেন্দ্রের বাইরে গিয়ে সেবা দিয়ে আসি। তবে কেন্দ্র চলাকালীন সময়ে বাইরে সেবা দেওয়া যায় কি? এমন প্রশ্নের জবাবে টুটুল কোন উত্তর দেননি।

স্থানীয় আকলিমা ও মুন্নি আক্তার অভিযোগ করে বলেন, স্বাস্থ্য কল্যাণ কেন্দ্রে চিকিৎসকরা নির্দিষ্ট সময়ে আসেন না। আবার দেরিতে আসলেও যখন তখন বাইরে চলে যায়। এতে ডাক্তারের চেম্বারের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় আমাদের। আর ডাক্তারদের এসব খামখেয়ালির কারনে এলাকার মানুষ স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, কেন্দ্র চলাকালীন সময়ে বাইরের ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখার কোন নিয়ম নেই। স্যাকমো হরিপদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা ফেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Print Friendly, PDF & Email