পাঠাগারের জমি দখল, মানিকগঞ্জে উত্তেজনা

সংবাদদাতা : মানিকগঞ্জে দৌলতপুর উপজেলার ধামশ্বর ইউনিয়নে আফরোজা আক্তার স্মৃতি পাঠাগারের নামে ওয়াকফকৃত জমি দখল করে দোকান নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ধামশ্বর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বিলপৌলী গ্রামে পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করেন স্থানীয় যুবক রবিউল আলম। এলাকাবাসীকে পাঠাগারের মাধ্যমে শিক্ষা-সংস্কৃতিতে এগিয়ে নেওয়ায় ছিল তার উদ্দেশ্য। পাঠাগারের উদ্যোগে স্থানীয়দের নিয়ে করেছেন সামাজিক অনেক আয়োজন ও অনুষ্ঠান। ধীরে ধীরে স্থানীয়রা সম্পৃক্ত হতে থাকে পাঠাগারের সঙ্গে। স্থানীয়ভাবে সাড়া ফেলে পাঠাগারটি।

শুরুতে ভাড়া জায়গায় পাঠাগার পরিচালিত হলেও বিলপৌলী গ্রামের ছালমা আক্তার নামে এক বিধবা নারী পাঠাগারের পাশে দাঁড়ান। তিনি পাঠাগারের নামে ২০১৫ সালে ২২ শতাংশ জমি দান করেন। এই জমি দখল করা হচ্ছে।

মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসককের নির্দেশে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য উভয়পক্ষকে গত ২৩ মে অফিসে উপস্থিত থাকার নোটিশ দেন। তবে বিবাদীরা উপস্থিত হননি। এরই মধ্যে ওই জমিতে একতলার দোকানঘর নির্মাণ প্রায় শেষ করেছেন দখলকারীরা।

অভিযোগের বাদী রবিউল আলম বলেন, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা পরিচয় দেওয়া আব্দুল হালিম এবং ওয়াকফ দলিলে শনাক্তকারী স্থানীয় বাসিন্দা জানে আলম রাতের অন্ধকারে আফরোজা আক্তার স্মৃতি পাঠাগারের জায়গা দখল করে একতলা দোকানঘর নির্মাণ করছেন। পাঠাগারটি সরিয়ে না নিলে দেখে নেওয়ারও হুমকি দেন।

তিনি আরও জানান, পাঠাগারের জমি দখলের অভিযোগে দৌলতপুর থানায় জিডি করা হয় হয়েছে।

এ বিষয়ে বিবাদী আব্দুল হালিম বলেন, জায়গার বিষয়টি পারিবারিক। নতুন করে দোকানঘর নির্মাণের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রেজাউল করিম বলেন, আইনগতভাবে রবিউলকে সহযোগিতা করা হবে।

দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ রবিন মিয়া বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email