ছোট মেয়েটির কাছে আর জীবন নিয়ে ফিরতে পারেননি “মা”- ফাহাদ

= মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে! =
বদরপুরে যে বোনকে (২৯ বছর) অক্সিজেন দিয়ে সদর হাসপাতাল ভর্তি করানো হয়েছিলো। আজ (৫ আগস্ট) সকালে তিনি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় মারা গেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন
ওমর ফারুক ভাই এ্যাম্বুল্যান্স ঠিক করে মাত্র বাড়ীতে পাঠানো হয়েছে। মহান আল্লাহ উনাকে জান্নাত দান করুক। আমিন।
  ওই দিন ২ আগস্ট হঠাৎ ফোন আসে বদরপুরে এক বোন শ্বাস কষ্টে ভুগছেন। অক্সিজেন নিয়ে বোনটির বাড়ি গিয়ে দেখি অক্সিজেন লেভেল ৮০-৮২। রাত থেকেই উনার অক্সিজেন সংকট, সারাদিনে একটা অক্সিমিটার পায়নি তিনি। অবস্থা খারাপ দেখে সিলেন্ডার লাগিয়ে দ্রুত সিন এন জি করে সদর হাসপাতাল নিয়ে আসি।
সেদিন হাসপাতাল আনার সময়  উনার মা রাস্তায় পেঁপে নিয়ে আসছিলেন,  খেতেও বলেছেন। বোনটির এই অবস্থা দেখে কাঁদতে কাঁদতে বিদায় দিয়েছেন মা, উনার আড়াই বছর বয়সের ছোট মেয়ে খুব কান্না করছিলো।
পরে অক্সিজের জন্য অন্যস্থান থেকে আবার ফোন আসায় ছুটলে হলো অন্যদিকে। তবে বোনটিকে  সদর হাসপাতালে নেয়ায়  রেডক্রিসেন্ট লক্ষ্মীপুরকে ট্রান্সফার করলাম আমরা। যদি সম্ভব হতো প্রতিদিন তার চিকিৎসাধীন অবস্থায় কষ্টে থাকার ভিডিও করে  দেখাতাম, তাহলে বুঝতে পারতেন আপনাদের সচেতনতা কতটা জরুরি।
নিহত বোনটির নাম শিল্পী আক্তার, তিনি লক্ষ্মীপুর রামগঞ্জ করপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বদরপুর গ্রামে থাকতেন। তিনি ওমান প্রাবাসী মো. মামুনের স্ত্রী।
এমন কষ্টগুলো প্রতিদিন দেখতে দেখতে বুকটা ভার হয়ে আছে। গ্রামে করোনা ভাইরাস কিভাবে ছড়িয়েছে তা সবার জানার বাইরে। গ্রাম্য ডাক্তার কিংবা ফার্মেসী যেটাই বলুন এই সময়ে একটা অক্সিমিটার তাদের কাছে থাকে না। রোগিদের বাড়ীর কথা কি আর বলবো। । বাজারে দলে দলে মানুষ, মুখে মাস্ক পর্যন্ত নাই। এরা আমাদের আপনাদের প্রিয়জনদের হত্যাকারী। এদের শাস্তি হওয়া দরকার, খুব কঠিন শাস্তি।।

ফাহাদ বিন বেলায়েত

নির্বাহী পরিচালক
মেঘ ফাউন্ডেশণ
(একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন)
লক্ষ্মীপুর।
Print Friendly, PDF & Email