নোয়াখালীর হাতিয়া মায়ের উপর হামলার বিচার চাইতে গিয়ে হামলার শিকার ছেলে

সংবাদদাতা :

নোয়াখালীর হাতিয়ার জাহাজ মারাতে মসজিদে জুময়ার নামাজ পড়তে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন ওই মসজিদের মোয়াজ্জিন হাফেজ মো. রিয়াজ উদ্দিন (৩২)। শুক্রবার (৩০ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে জাহাজমারা পাইকবাধা গ্রামের পাইকবাধা জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। রিয়াজ মসজিদ সংলগ্ন বাড়ির মৃত মৌলভী আবদুল কাদেরের পুত্র।
মসজিদের মুসুল্লীদের কাছে তার মায়ের উপর হামলার বিচার চাইতে গিয়ে তিনি নিজেই এ হামলার শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে।
হামলাকারীরা হলেন, একই এলাকার বেলায়েত হেসেন বেলুর পুত্র সাঈদ উল্যা জাফর (৩৬), মৃত লুৎফুর করিম পুত্র নবীর উদ্দিন (৩৬) ও নাজিম উদ্দিন (৩২) এবং হাফেজ তাফসির হোসেন (২৭) সহ অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জন। হামলাকারীদের মধ্যে হাফেজ তফসির ওই মসজিদের জুমায়ার নামাজের অস্থায়ী ইমামের দায়িত্বে রয়েছেন। হামলার সাথে তিনি জড়িত থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে নিন্দার ঝড় উঠেছে।
এছাড়া হাফেজ রিয়াজের উপর হামলার ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় রিয়াজ বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখ অজ্ঞাতনামা আরও ৫/৬ কে আসামী করে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে হাতিয়া থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানা গেছে, গত ২৯ জুলাই (বৃহস্পতিবার) মোয়াজ্জিন হাফেজ রিয়াজ মসজিদের সম্পত্তিতে থাকা তাদের বসত বাড়ির পেপে গাছ থেকে পেপে নিতে গেলে স্থানীয় সাঈদ ঊল্যা জাফর, নাজিম ও নবীর তাকে বাধা দেয়। এ সময় তাদের সাথে বাকবিতন্ডা শুরু হয়। এ সময় রিয়াজের মাতা শামছুন্নাহার এগিয়ে আসলে জাফর, নাজিম ও নবীর তাকে লাঞ্ছিত করে এবং ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এতে তিনি হাতে এবং বুকে ব্যাথা পান। পরে তাকে হাতিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি।
পরদিন শুক্রবার দুপুরে হাফেজ রিয়াজ মসজিদের মুসুল্লীদের কাছে তার মায়ের উপর হামলার বিচার চাইলে মসজিদের স্ব-ঘোষিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাফর ও তার সহযোগী নবির, নাজিম, হাফেজ তাফসিরসহ ৮-১০ জন মিলে তাকে অতর্কিত মারধর শুরু করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে খবর পেয়ে জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হাতিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক মো. মাসুদ বলেন, হাফেজ রিয়াজকে উদ্ধার করে হাসপতালে প্রেরণ করি। তার অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাটি তদন্ত করি। তাকে মারধরের বিষয়ে সত্যতা পাওয়ো গেছে।
স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, হাফেজ রিয়াজ তার পিতার মৃত্যুর পর থেকে পাইকবাদা জামে মসজিদের মোয়াজ্জিনের দায়িত্বে ছিলেন। তার পূর্ব পুরুষরাও দীর্ঘ ৮৭ বছর থেকে ওই মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করেন। মসজিদের পাশের একটি বাড়িতে স্ব-পরিবারে বসবাস করতেন তারা, যেটি মসজিদের সম্পত্তি। এলাকার একটি কুচক্রী মহলের লোলুপ দৃষ্টি পড়ে ওই মসজিদ ও বাড়ির সম্পত্তির উপর। তারা মসজিদের সম্পত্তি ভোগ দখলের উদ্দেশ্যে উঠে-পড়ে লাগে। স্থানীয় সিরাজ এবং সাঈদ উল্যা জাফর নিজেদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দাবি করে মসজিদের অঘোষিত কমিটি গঠন করে মসজিদের সম্পত্তি ভোগ দখলের জন্য। সম্প্রতি মসজিদের মোতয়ালি স্ব-ঘোষিত ওই কমিটি ভেঙে দিলে পুনরায় অবৈধভাবে তারা আরেকটি নতুন কমিটি গঠন করে। ওই কমিটির সভাপতি জামাল উদ্দিন আর সাধারণ সম্পাদক হলেন পূর্বের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ উল্যা জাফর। এ কমিটির উদ্দ্যেশ্য ছিলো মসজিদের সম্পত্তি ভোগদখলের। কিন্তু হায়েজ রিয়াজ মোতয়ালী প্রতি সম্মান রেখে এ সব স্ব-ঘোষিত কমিটির প্রতি আস্থা না রাখায় কাল হয়ে দাঁড়ায়। এতে তারা মসজিদের জমি থেকে হাফেজ রিয়াজের পরিবারকে উচ্ছেদের চেষ্টা করে এবং বিভিন্ন ধরণের চক্রান্ত শুরু করে।
এদিকে, মসজিদের স্ব-ঘোষিত সাবেক কমিটির সাথে মোয়াজ্জিনের অন্তঃদ্বন্ধ দেখা দিলে মোতয়ালি ওবায়েদ ঊল্যা ও তার ভাই রফিক তিন মাসের জন্য হাফেজ রিয়াজকে অব্যাহতি দেন, পুনরায় তারা আবার রিয়াজকে এফিডেভিটের মাধ্যমে লিখিতভাবে স্ব-পদে বহাল করেন। পুনবহালের বিষয়টি স্বঘোষিত কমিটির একটি অংশের লোকজন মানতে নারাজ। এছাড়া তারা ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে রিয়াজের উপর। এর জের ধরে তার মা ও রিয়াজের উপর হামলা চালায় তারা।
হাফেজ রিয়াজ জানান, আমারা মোতয়ালীকে সমর্থন দেওয়ায় মসজিদ কমিটির পূর্বের এবং স্ব-ঘোষিত সদস্যরা আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিতো। এরপর কিছুদিন আগে আমার ঘর থেকে একটি মোটর সাইকেলও চুরি হয়ে যায়। এর পর থেকেও বিভিন্ন সময় সিরাজ ও জাফর গ্রুপের লোকজন আমাকে গালমন্দ ও হুমকি দিতো। সর্বশেষ শুক্রবার জুময়ার নামাজ পড়তে গেলে জাফর ও তার সহযোগীরা আমার উপর হামলা করে। এ ঘটনায় আমি থানায় এজাহার দায়ের করি। আমি প্রশাসনের কাছ থেকে আইনী সহায়তা এবং হামলার ঘটনার বিচার দাবি করছি এই ঘটনার পরথেকে হামলা কারিদের ভয়ে নিরাপত্তা হিনতায় ভুগছে আমার পুরোপরিবার।
তবে এ ব্যাপারে অভিযুক্তদের কারো সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

Print Friendly, PDF & Email