লক্ষ্মীপুরে মৎস্য খামারীর অর্থদন্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক : লক্ষ্মীপুরে অবৈধ ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে বালু উত্তোলন করায় মো. সাইফ উদ্দিন (৩৩) এবং গফুর মাঝি (৫৫) নামে দুই জনকে ৮০ হাজার টাকা অর্থদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অর্থদন্ডপ্রাপ্ত সাইফ উদ্দিন বালু উত্তোলন করা জমিটির মালিক ও মৎস্য খামারী এবং গফুর মাঝি ড্রেজার মেশিনের মালিক।

রোববার (২৫ জুলাই) বিকেলে তাদেরকে আটক করে উপজেলা কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে জরিমানা আদায় করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুম। এরআগে সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের মিয়ারবেড়ী এলাকায় সাইফ উদ্দিনের খামারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় ড্রেজার মেশিন জব্দ না করা হলেও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে বালু সঞ্চালন পাইপ গুলো কেটে দেয়া হয়।

জানা গেছে, সাইফ উদ্দিন লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের বড় আউলিয়া গ্রামের মরহুম এবিএম সিদ্দিক উল্লাহর ছেলে। তিনি প্রায় ৪ বছর আগে আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্পের সদস্য হন। এরপর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের মিয়ারবেড়ী এলাকার পৈত্রিক সম্পত্তিতে একটি মৎস্য খামার শুরু করেন। গত বছর শুষ্ক মৌসুমে পানি সংকটে মাছ মরে যাওয়ায় লোকসান গুণতে হয় এই খামারিকে।

খামারী সাইফ উদ্দিন বলেন, লোকসানের কারণে আমি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে ঋণগ্রস্ত হয়ে গেছি। আগামীতে যেন পানি সংকটে লোকসানের সম্মুখীন না হতে হয়, তাই আমার খামারে পুকুর খনন করতে একটি ড্রেজার মেশিন বসাই। কিন্তু মেশিনটি বন্ধ থাকলেও স্থানীয় একটি স্বার্থান্বেষী মহলের ভুল তথ্যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মহোদয় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আমাকে জরিমানা করেন। ফলে করোনার এই সংকটকালীন সময়ে আমি চরম ক্ষতির সম্মুখীন হলাম।

সাইফ উদ্দিন আরও বলেন, ভবানীগঞ্জের মিয়ারবেড়ী এলাকার ভূমিদস্যু মমিন মেস্তুরি ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা বেশ কয়েকদিন ধরে আমার খামারের জমিটি দখল করতে উঠে পড়ে লেগেছে। এখন ড্রেজার মেশিন বসানোকে কেন্দ্র করে তারা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মহোদয়কে ভুল তথ্য দেয় এবং তিনি আসার আগেই ড্রেজার মেশিন ও পাইপ গুলো ভাঙচুর করেছে।

এদিকে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মাসুম জানান, ড্রেজার মেশিনটি অভিযানের সময় বন্ধ থাকলেও রাতে চালানো হয়েছিল। তাই বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুইজনকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ড্রেজার মেশিনে বালু উত্তোলন বন্ধে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

Print Friendly, PDF & Email