লক্ষ্মীপুরে নৌরুটে ঈদযাত্রীদের চাপ : উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি

নিজস্ব প্রতিবেদক :

পর্যাপ্ত সি-ট্রাক ও লঞ্চ নেই  লক্ষ্মীপুর-ভোলা ও বরিশাল নৌ-রুটে। এ অবস্থায় লক্ষ্মীপুর মজুচৌধুরীরহাট লঞ্চঘাট থেকে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে ঈদের ঘরমুখী তিনগুণ যাত্রী নিয়ে ছুটে চলেছে লঞ্চ, সি-ট্রাকগুলো। একদিকে করোনার সংক্রমণের সম্ভাবনা, অন্যদিকে বর্ষায় বৃষ্টিপাতে বড়ো ধরণের দুর্ঘটনার আশঙ্কা মাথায় নিয়েই ছুটে চলেছেন ঈদযাত্রার মানুষগুলো। ২১ জেলার যাত্রীদের দাবি, অতিরিক্ত আরও চার-পাঁচটি লঞ্চ, সি-ট্রাক সার্ভিস দ্রুত চালু করলে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমানো যেতো।

সরেজমিন, লক্ষ্মীপুর-মজুচৌধুরীর হাট লঞ্চঘাট থেকে চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, ফেনি, ভোলা, বরিশালসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ ইলিশাসহ এ নৌ-রুটে চলাচল করছে। ঈদ উপলক্ষে মাত্র তিনটি সি-ট্রাক, দুটি লঞ্চের কারণে যাত্রী পারাপারে এ সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে। একই চিত্র ফেরিঘাটেও। এ নৌ-রুটে কিছুদিন আগেও চারটি ফেরি চলাচল করেছে। কিন্তু বর্তমানে একটি ফেরি মাওয়া ফেরিঘাটে স্থানান্তর করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই দেখা গেছে যাত্রীদের দুর্ভোগ। এদিকে লঞ্চঘাট কর্তৃপক্ষ চেষ্টা করছেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রী পারাপার করতে। কিন্তু অধিকাংশ যাত্রীই স্বাস্থ্যবিধি, সামাজিক দূরত্ব মানছেন না।

লক্ষ্মীপুর-মজুচৌধুরীর হাট লঞ্চঘাট হয়ে ভোলা যাত্রী রেবেকা বেগম (৪৫) বলেন, ফেরি থাকলে কি করবো! এ নৌ রুটে সি ট্রাক থাকলেও তিন ঘণ্টা ধরে দেখছিনা।

একই অভিযোগ চট্টগ্রাম থেকে আসা রবিউল হক, বরিশালের যাত্রী মোজাম্মেল হোসেন, সোহেল, জাবেদসহ অনেকেরই।

জেলা পুলিশ সুপার ড. এএইচএম কামরুজ্জামান জানান, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মজুচৌধুরীরহাট লঞ্চঘাট ঘাটে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

জেলা প্রশাসক আনোয়ার হোছাইন আখন্দ জানান, ঈদে ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ হলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘাট এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচলের প্রশাসনের নজরদারি রয়েছে। এছাড়া অতিরিক্ত লঞ্চ ও ফেরির জন্য বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বিষয়টি তাদেরও নজরদারিতে রয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email