যুক্তরাজ্যের মাস্ক না পড়ার ঘোষণা ‘আত্মঘাতী’র সিদ্ধান্ত: ডব্লিউএইচও

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের মাস্ক না পড়ার ঘোষণাকে উদ্দেশ্য করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) টেকনিক্যাল প্রধান মারিয়া ফন কার্কহোভ মন্তব্য করেন, ‘চোখের সামনে নিজের স্বজন কিংবা যে কোনো মানুষকে সংক্রমিত হতে দেখা কখনই ভালো লাগার মতো নয়। টিকা কার্যক্রম চললেও, এখনো করোনার হার কমে যায়নি, এটা আমাদের বুঝতে হবে। বৃটিশ সরকার যা করছে সেটা আত্মঘাতী হবে। করোনা এখনো বিশ্রামে যায়নি, তাই আমাদেরও অসচেতন হলে চলবে না।’

ইউরোর ফাইনালে ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে গত রবিবারের (১১ জুলাই) ফাইনালে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ উপস্থিত ছিল। এই বিপুল জনসমাগম নতুন করে ভাবাচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে। ইংল্যান্ডে ডেলটা ভ্যারিয়েন্ট বেড়ে যাওয়ায়, এ জনসমাগমে স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেক বেড়ে গেল বলে ধারণা করছে ডব্লিউএইচও।

তবে ফাইনালে উয়েফা এবং বৃটিশ প্রশাসনের অসচেতনতার কারণেই এ জনসামগম হয়েছে মন্তব্য করে, বিরক্তি প্রকাশ করেছেন ডব্লিউএইচওর টেকনিক্যাল প্রধান। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি গ্যালারিতে ছিলেন রাজ পরিবারের সদস্যরা। এছাড়াও ছিলেন অনেক আমন্ত্রিত ভিভিআইপি অতিথি। কিন্তু তাদের কারো মধ্যেই ছিল না কোনো করোনা স্বাস্থ্যবিধি, এমনকি পরেননি মাস্ক।

ন্যূনতম সামাজিক দূরত্ব ছাড়াই ছবিগুলো এখন ঘুরছে নেট দুনিয়ায়। আর সমালোচনায় বিদ্ধ হচ্ছে উয়েফা এবং বৃটেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ইউরোপীয় কমিশন প্রথম থেকেই এই জনসমাগমের বিরোধিতা করে আসলেও, তাতে কোনো কান দেয়নি লন্ডন কর্তৃপক্ষ।

মারিয়া ফন কার্কহোভ আরও বলেন, ‘এটা লজ্জার এবং হতাশার। দুনিয়া জুড়ে এখনো প্রতিদিন মানুষ মারা যাচ্ছে, অথচ বৃটেন একটা ফুটবল ম্যাচ নিয়ে মেতেছিল। তারা ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি মানেনি। সাধারণ মানুষকে যারা উদ্বুদ্ধ করবে, সেই মানুষেরাও ছিলেন চরম অসচেতন। আমরা রাজ পরিবার এবং সেলিব্রেটিদের কাছ থেকে এমন আচরণ আশা করিনি।’

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে পুরো বিশ্বে নতুন করে ২৬ লাখ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, যার ৩০ ভাগ ইউরোপের।

Print Friendly, PDF & Email