লক্ষ্মীপুরে ঘাট নিয়ে দ্বন্দ্ব নিরসনে ডিসি’র সমঝোতা বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

লক্ষীপুরে ফেরি ও লঞ্চ ঘাট ইজারা নিয়ে দু’পক্ষের দ্বন্দ্ব  নিরসনের চেষ্টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সমঝোতার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জেলা প্রশাসকের সমন্বয়ে জেলা পরিষদ ও বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তাদের নিয়ে শনিবার বেলা ১১ টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত টানা বৈঠক করা হয়।

বৈঠকে ঘাট এলাকা জেলা পরিষদের মালিকানা হিসেবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রাণালয়ের পক্ষে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকে দেয়া ইজারাকে বৈধ বলে সিদ্ধান্ত দেন ডিসি। তবে ডিসির এমন সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ বিআইডব্লিউটিএ’র ক্ষতিগ্রস্থ ইজারাদার। গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে আক্ষেপ করে উচ্চ আদালতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন বলে জানান তিনি।

জানা যায়, লক্ষীপুর জেলা পরিষদ স্থানীয় মজচৌধুরীর হাট ফেরি ও লঞ্চঘাট এলাকার দুই কিলোমিটারের মালিকানা দাবি করে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে ২০২১-২২ অর্থ বছরের জন্য ৯০ লাখ টাকা ইজারা দেয়া হয়। সর্বোচ্চ ইজারাদার হিসেবে ইসমাইল হোসেন পাঠানকে গত বুধবার ঘাট দখল বুঝিয়ে দেয় জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে সরকারের নতুন গেজেট অনুযায়ী সরকার ঘোষিত নদী বন্দর হিসেবে গত ২৮ জুন একই ঘাট এলাকা ৫৪ লাখ টাকা ইজারা দেয় বিআইডব্লিউটিএ’র বন্দর ও পরিবহন বিভাগের চাঁদপুর কার্যালয়। এমন প্রেক্ষাপটে ০১ জুলাই ঘাট বুঝিয়ে দিতে আসলে কর্মকর্তা কায়সারুল ইসলাম লাঞ্চনার শিকার হন। দুই ইজারাদারের পক্ষে একটি বিশেষ দলের প্রভাবশালী নেতারা বিভক্ত হয়ে অবস্থান নেন। এ নিয়ে ঘাট এলাকায় চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। পরে জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার হোছাইন আকন্দ তার কার্যালয়ে পুলিশ সুপার ড. এ এইচ কামরুজ্জামানসহ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান ও বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তা কায়সার ইসলামকে নিয়ে শনিবার সমঝোতা বৈঠকে বসেন। বৈঠকে উভয় প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র পর্যালোচনা করে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকে দেয়া ইজারাকে সরকার অথবা আদালতের পরবর্তী কোন নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত বৈধ হিসেবে তাদের ইজারাদার বলবৎ থাকবে বলে নির্দেশনা দেন।

এদিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের বাইরে অবস্থানরত বিআইডব্লিউটি’এর কাছ থেকে ঘাট ইজারা নেয়া ব্যাক্তি শিমুল চক্রবর্তী গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে আক্ষেপ করে বলেন, ডিসির এমন সিদ্ধান্ত মানতে পারছিনা। ডিসি আমাদের কোন কাগজই দেখলেননা। এতে আমি আর্থিক ক্ষতিগস্থ হয়ে হতাশায় ভুগছি। এ নিয়ে উচ্চ আদালতে আইনি লড়াই করবেন বলে জানান তিনি।

জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক বলেন, মজু চৌধুরীর হাট ঘাট নিয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আমরা কোন সংঘাত সংঘর্ষ চাইনা। এর প্রেক্ষিতে উভয় প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে বৈঠক করেছি। কাগজপত্র পর্যালোচনা করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তথা জেলা পরিষদের ইজারাকে বৈধ মনে হয়েছে। আপাতত সরকারের অন্য কোন নির্দেশনা না আসার আগে তারাই ইজারাদার হিসেবে ঘাটে অবস্থান করবে বলে জানান তিনি।

Print Friendly, PDF & Email