লক্ষ্মীপুরে চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ১০ : গাড়ী ভাঙ্গচুর

নিজস্ব প্রতিবেদক :

লক্ষ্মীপুরে ভোট কেন্দ্র দখলকে কেন্দ্র করে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সোমবার দুপুর ১ টার দিকে কমলনগরের তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের চর পাগলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও নৌকা প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।
এসময় জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতির গাড়ীসহ বেশ কয়েকটি গাড়ী ভাঙ্গচুর করা হয়। এ ঘটনায় ওই কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ সাময়িক বন্ধ রেখে পরে আবার চালু করা হয়। আহতদের স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। পরে ঘটনাস্থলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, সকাল থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে লক্ষ্মীপুর-২ সংসদীয় আসনের উপ-নির্বাচন ও রামগতি-কমলনগরের ৬টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। কিন্তু বেলা বাড়ার সাথে সাথে ইউপি নির্বাচনী এলাকার ভোট কেন্দ্র গুলোতে কিছু বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ ও ভাঙ্গচুরের ঘটনা ঘটে।
দুপুরে সরকার দলীয় সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র সস্ত্র নিয়ে নৌকার পক্ষে ভোটারদের প্রভাবিত করতে স্থানীয় চর পাগলা কেন্দ্রে যায়। এসময় ঘোড়া প্রতীকের সমর্থকরা তাদের ধাওয়া করলে দু’পক্ষের সংঘর্ষ বাধে। এতে উভয়পক্ষের ১০ জন আহত হন। এসময় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকুর ল্যান্ড ক্রুজার গাড়ীসহ তার সঙ্গে থাকা আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মীদের আরো কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাংচুর করা হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে ঘোড়া প্রতীকের সমর্থকরা জানান, শান্তিপূর্ণ ভোট চলছিল। হঠাৎ আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মীরা নৌকার পক্ষ নিয়ে কেন্দ্র দখল করতে আসলে ভোটাররা তাদের ধাওয়া করে।
তবে জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু অভিযোগ করে বলেন, কেন্দ্রের বাইরে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এসময় তার গাড়ীসহ বেশ কয়েকটি গাড়ী ভাঙ্চুর করা হয়েছে। এ ঘটনার জন্য আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ফয়সাল আহমেদ রতনের কর্মী-সমর্থকদের দায়ী করেন তিনি।
এদিকে কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার আতিক আহমেদ জানান, দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দূর্বৃত্তরা কেন্দ্রে হামলা চালায়। এসময় ২০ মিনিট ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়। পরে শৃঙ্খলা ফিরে আসলে পুনরায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়।
এদিকে রামগতি উপজেলার চর রমিজ ইউনিয়নে বেশ কয়েকটি কেন্দ্র থেকে স্বতন্ত্রসহ বিকল্পধারার প্রার্থীর এজেন্টদের কে বের করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে সরকার দলীয় নৌকা প্রতিকের প্রার্থীর বিরুদ্ধে। দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই লক্ষ্মীপুরের কমলনগর ও রামগতি উপজেলায় ৬টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ও লক্ষ্মীপুর-২ সংসদীয় আসনের উপ-নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
ইউপি নির্বাচনী এলাকায় সকাল থেকে বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে ব্যাপক ভোটারের উপস্থিতি ছিলো। এরমধ্যে নারী ভোটারের উপস্থিতিও ছিলো চোখে পড়ার মত। ভোটাররা অনেকটা শান্তিপূর্ন পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন বলে তারা জানান।
এদিকে বিএনপি অংশ না নেয়ায় লক্ষ্মীপুর-২ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধীতা করেছেন। এ নির্বাচনে ১৩৬ টি কেন্দ্রে প্রথম বারের মতো ভোটারা ইভিএম-এ তাদের ভোটিধিাকার প্রয়োগ করেন।
এদিকে রামগতিও কমলনগর উপজেলায় ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৪০ জন, সাধারণ সদস্য পদে ২৫৯ জন ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ৮৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এই ইউপি নির্বাচনে ৫৭ টি কেন্দ্রে ভোটারা ব্যালটের মাধ্যমে তাদের ভোটিধিাকার প্রয়োগ করেন ।
এদিকে নির্বাচনকে অবাধ সুষ্ঠু ও সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য করতে কমিশনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। সংসদীয় এলাকায় প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে ১৭ জন ও ইউপি নির্বাচনী এলাকায় প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে ২২ জন করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত ছিলেন। এছাড়া ৪০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ২ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এর নেতৃত্বে ১৭ প্লাটুন বিজিবি ও ১৫ প্লাটুন র‌্যাব সদস্য স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসাবে কাজ করেছেন।

Print Friendly, PDF & Email