লক্ষ্মীপুরে চোর সন্দেহে নয়! জমি বিরোধেই মুক্তিযোদ্ধা সন্তানকে পিটিয়ে হত্যা : দাবি স্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক :

লক্ষ্মীপুরে রাতে পিটিয়ে আব্দুস সহিদ নামে এক মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও স্থানীয় জেলে হত্যার ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যানসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। চোর সন্দেহে নয়, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পরিকল্পিত ভাবে সহিদকে হত্যা করা হয় বলে দাবী নিহতের স্ত্রী ও স্বজনদের। রোববার (২০ জুন) বিকেলে লক্ষ্মীপুর শহরের একটি পত্রিকা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ কথা বলেন নিহত সহিদের স্ত্রী বিবি কুলছুমা বেগম। এসময় মামলায় আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার পূর্বক ফাঁসির দাবী জানান তিনি।
নিহত আবদুস সহিদ একজন মৎসজীবী। সে সদর উপজেলার চর রমনী মোহন ইউনিয়নের পশ্চিম চর রমনী মোহন গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মৃত হাসেম মোল্লার ছেলে। এছাড়াও তিনি চার ছেলে সন্তানের জনক।
সংবাদ সম্মেলনে স্ত্রী বিবি কুলছুমা বেগম বলেন, মৃত্যুর পূর্বে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার স্বামী তার কাছে ঘটনার বর্ণনা করেছেন। তিনি কোন চুরির সাথে জড়িত ছিলেন না। তাকে চোর আখ্যা দিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। ঘটনার সাথে সদর উপজেলার চর রমনী মোহন ইউনিয়নের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ ছৈয়ালের নির্দেশে তার ছেলে আবু সুফিয়ান ও ভাতিজা বাবুল ছৈয়াল এবং আত্মীয় দেলোয়ার মুন্সিসহ মামলার অন্য আসামীরা জড়িত ছিলো।
তিনি বলেন, মামলার প্রধান আসামী বাবুল ছৈয়াল, ২য় আসামী দেলোয়ার মুন্সি ও হুমায়ূনের সাথে পূর্ব থেকে বিরোধ ছিলো তার স্বামী আব্দুস সহিদের। প্রায় দুই বছর আগে আদালতে দেওয়ানী মামলা দায়ের করেন তিনি। বিরোধের জেরে গত ১১ ফেব্রুয়ারী অভিযুক্ত দেলোয়ার মুন্সির বাড়িতে চুরির সাজানো ঘটনায় মামলা দিলে আব্দুস সহিদের স্ত্রী তথা আমাকে দীর্ঘদিন কারাভোগ করান। কারামুক্তির পর তারা আবারও হত্যার উদ্দেশ্যে আমার উপর ২৪ এপ্রিল হামলা চালায়। এ ঘটনায় গত ২৫ মে বিচার চেয়ে নিজেই (কুলছুম) বাদি হয়ে দেলোয়ার মুন্সি, বাবুল ছৈয়াল, গিয়াস উদ্দিন মুন্সী ও হুমায়ূনকে বিবাদী করে আদালতে মামলা করি। এরপর থেকে আমাকে এবং আমার স্বামী আবদুস সহিদকে প্রাণে হত্যার জন্য বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে আসছিলো আসামীরা। তাদের ভয়ে শ্বশুর বাড়ি থেকে স্বামীকে নিয়ে বাপের বাড়ি চলে যাই। তবুও শেষ রক্ষা হলো না স্বামী আবদুস সহিদের।
স্বামী হত্যার বিবরণ দিয়ে বিবি কুলছুমা আরো বলেন, গত ১৪ জুন রাতে আব্দুস সহিদ তার শ^শুর বাড়ি থেকে মধ্য চররমনী মোহন থেকে মাকে দেখতে পশ্চিম চররমনী মোহনে নিজ বাড়ি যান। রাত ১০ টার দিকে ইউপি চেয়ারম্যানের পরামর্শে মামলার অন্য অভিযুক্তরা তার স্বামীকে স্থানীয় একটি খাল পাড়ের সুপারী বাগানে নিয়ে চোর আখ্যা দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে নির্যাতন করে। এক পর্যায়ে তারা মৃত ভেবে ফেলে রেখে যায়। পরদিন সকালে স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে মুমুর্ষ অবস্থায় আব্দুস সহিদকে উদ্ধার করে প্রথমে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ও পরে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ জুন সকালে মারা যায় মুক্তিযোদ্ধার সন্তান আব্দুস সহিদ। মৃতদেহ পুনরায় সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে পুলিশ মর্গে পাঠিয়ে বিকেলে ময়নাতদন্ত করায়। এঘটনায় রাতেই ইউপি চেয়ারম্যানসহ ২৭ জনকে আসামী করে সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। কিন্তু মামলা দায়েরের পরও এখনো কোন আসামী গ্রেফতার না হওয়ায় শঙ্কিত তিনি। অভিযুক্তরা প্রতিনিয়তই প্রাণে হত্যার হুমতি দিচ্ছে। বর্তমানে চার ছেলে সন্তান নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানা বিবি কুলছুমা।

এসময় সংবাদ সম্মেলনে নিহতের স্বজন ও জেলায় কর্মকরত প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিকস মিডিয়ার সাংবাদিক বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Print Friendly, PDF & Email