আপিলেও রিট খারিজ : লক্ষ্মীপুর-২ আসনের উপনির্বাচনে বাধা কাটলো

নিজস্ব প্রতিবেদক :

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও টাকা পাচারের ঘটনায় কুয়েতে সাজাপ্রাপ্ত লক্ষ্মীপুর-২ আসনের মোহাম্মদ শহিদ ইসলাম পাপুলের সংসদ সদস্যপদ শূন্য ঘোষণা করে জারি করা গেজেট ও উপনির্বাচনের তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা আবেদন এবার আপিল বিভাগও খারিজ করে দিয়েছে। ফলে ২১ জুন ওই আসনে উপনির্বাচন আর কোনো বাধা থাকছে না।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনসহ ছয় বিচারপতির আপিল বেঞ্চ বৃহস্পতিবার খারিজ ও নো অর্ডার দেয়।

এর আগে হাইকোর্ট বিভাগ এসব আবেদন খারিজ করেছিল।

লক্ষ্মীপুর-২ আসনের নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে বিএনপি নেতা আবুল খায়ের ভূঁইয়ার আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল হাইকোর্ট। এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে সে বিষয়ে নো অর্ডার দিয়েছে আপিল বিভাগ।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রোকন উদ্দিন মাহমুদ। অন্যদিকে বিএনপি নেতার আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন।

গত (৮ জুন )বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার হাইকোর্ট বেঞ্চ পাপুলের পক্ষে করা রিট খারিজ করে দেয়।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-২ আসনে মোহাম্মদ শহিদ ইসলাম পাপুল সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কুয়েতে পাপুলের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের শুরুতে মানবপাচার ও অর্থপাচারের অভিযোগ ওঠে। পরে ওই মামলায় তিনি কুয়েতে গ্রেপ্তার হন।

গত (২৮ জানুয়ারি) কুয়েতের আদালত পাপুলকে চার বছরের কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি ১৯ লাখ কুয়েতি দিনার জরিমানা করা হয়।

(২২ ফেব্রুয়ারি) এ বিষয়ে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান একটি গেজেট জারি করে।

ওই গেজেটে বলা হয়, কুয়েতের ফৌজদারি আদালতের গত ২৮ জানুয়ারি ঘোষিত রায়ে নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে চার বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ায় লক্ষ্মীপুর-২ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শহিদ ইসলাম বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬(২)(ঘ) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্য থাকার যোগ্য নন। সেই কারণে সংবিধানের ৬৭(১)(ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রায় ঘোষণার তারিখ ২৮ জানুয়ারি থেকে তার আসন শূন্য হয়েছে।

এরপর গত (৪ মার্চ) নির্বাচন কমিশন ওই আসনে উপনির্বাচনের জন্য ১১ এপ্রিল দিন ঠিক করে তফসিল ঘোষণা করে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে তা পিছিয়ে পরে ২১ জুন নির্ধারণ করা হয়।

এটি চ্যালেঞ্জ করে পাপুলের বোন নুরুন্নাহার বেগম ও তার নির্বাচনে মনোনয়নপত্রের প্রস্তাবক শাহাদাত হোসেন হাইকোর্টে রিট করেন।

Print Friendly, PDF & Email