তৃনমূলের নয়নকে নিয়ে হাজারো স্বপ্ন : আশায় বুক বেঁধেছেন উন্নয়ন বঞ্চিত লক্ষ্মীপুরবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক :

আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠিত লক্ষ্মীপুর- ২ (রায়পুর ও সদরের একাংশ) আসনের উপ-নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন আশায় বুক বেঁধেছেন উন্নয়ন বঞ্চিত লক্ষ্মীপুরবাসী। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকলেও এই আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কোন এমপি না থাকায় অনেকটা উন্নয়ন বঞ্চিত রয়ে যায় লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদরের একাংশ) আসনটি।

এদিকে আসন্ন উপ-নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়নকে মনোনয়ন দেওয়ায় নিজেদের ভাগ্যের উন্নয়নের আশায় নতুন করে আশায় বুক বেঁধেছেন উন্নয়ন বঞ্চিত এই আসনের প্রায় সাড়ে ৪ লাখ ভোটার। অবশ্য উন্নয়ন বঞ্চিত এই আসনের ভোটাররা আগ থেকে দাবি জানিয়ে আসছিলেন তৃণমূল থেকে উঠে আসা এমন কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হোক, যিনি এই অঞ্চলের মাটি ও মানুষকে সাথে নিয়ে রাজনীতি করেছেন এবং তাদের দুঃখ দুর্দশা বুঝবেন। তৃণমূলের মানুষের দাবির আলোকে ছাত্র জীবন থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকায় পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়নকে নৌকার মনোনয়ন দেওয়া হয়। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর বসে না থেকে রাত-দিন নেতাকর্মীদের নিয়ে নৌকার বিজয়ের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। তাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগসহ দলীয় ও স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে যেন প্রাণ চঞ্চলতা ফিরে এসেছে। ইতিমধ্যে নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি ইউনিয়নের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ঘুরে ঘুরে নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে উন্নয়ন বঞ্চিত এই আসনে নানা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন। তিনি নির্বাচিত হলে তার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বঞ্চিত লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদরের একাংশ) আসনে ব্যাপক উন্নয়ন হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে দেশ জুড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের ব্যাপক উন্নয়ন হলেও এই আসনে তেমন কোন উন্নয়ন হয়নি। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলেও এই আসনে এমপি নির্বাচিত হন বিএনপির আবুল খায়ের ভূঁইয়া। তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকায় তেমন একটা আসেননি। খোঁজ খবর রাখেননি স্থানীয়দের। পরে ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের কোন প্রার্থীকে মনোনয়ন না দিয়ে মহাজোট থেকে জাতীয় পার্টির মো. নোমানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। যদিও এই আসনে জাতীয় পার্টির শক্ত কোন সাংগঠনিক কার্যক্রম নেই। পরে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নোমানের পক্ষে কাজ করেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। তাতে এমপি নির্বাচিত হন নোমান। তিনিও এই এলাকার মানুষের জন্য তেমন কোন উন্নয়ন করতে পারেননি। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে জোরালো দাবি উঠে এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য। এই নির্বাচনেও জোটের কারণে মহাজোটে থেকে জাতীয় পার্টির নোমানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। তখন আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল। নির্বাচনের এক সপ্তাহে আগে মহাজোটের প্রার্থী নোমান নাটকীয়ভাবে গাঁ ঢাকা দেন।এরপর এমপি নির্বাচিত হন পাপুল। পরে অর্থ ও মানবপাচারের অভিযোগে ২০২০ সালের জুনে কুয়েতে গ্রেফতার হন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল। মানবপাচার ও ভিসা জালিয়াতির অভিযোগের মামলায় গত ২৮ জানুয়ারি পাপুলের চার বছর কারাদন্ড এবং ১৯ লাখ কুয়েতি দিনার জরিমানা করা হয়। বাংলাদেশেও কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল, তার স্ত্রীর, মেয়ে ও শ্যালিকার বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।কুয়েতে মানব ও অর্থপাচারের মামলায় এ আসনের স্বতন্ত্র এমপি কাজী শহীদুল ইসলাম পাপুলের সাজা হওয়ায় গত ২২ ফেব্রুয়ারি আসনটি শূণ্য ঘোষণা করা হয়। ২৮ জানুয়ারি কুয়েতে পাপুলের রায় ঘোষণার দিন থেকে অসনটি শূণ্য হিসেবে ধরা হয়।এরপর ৩ মার্চ এই আসনে উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তফসিল অনুযায়ী- মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময় ছিল ১৮ মার্চ, বাছাই ১৯ মার্চ ও প্রত্যাহারের শেষ সময় ছিল ২৪ মার্চ এবং ১১ এপ্রিল ইলেকট্রিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়।

পরবর্তীতে করোনা মহামারির কারণে নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। সর্বশেষ করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে আবার নির্বাচনে ভোটগ্রহণের নতুন তারিখ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। নতুন তারিখ অনুযায় আগামী ২১ জুন লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদরের একাংশ) আসনের উপ-নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে লড়ছেন অ্যাডভোকেট নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন লাঙল প্রতীক নিয়ে জাতীয় পার্টির ফয়েজ উল্যা শিপন।

নির্বাচনী এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের নিয়ে প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ঘুরে ঘুরে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরে ভোটারদের কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চাইছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন। তার প্রতিটি গণসংযোগে সতঃস্ফুর্তভাবে অংশগ্রহণ করছেন সাধারণ মানুষ। কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবি থেকে শুরু করে সকল পেশার মানুষের অংশগ্রহণে নির্বাচনী এলাকা এখন প্রাণবন্ত। লক্ষ্মীপুরের রাজনীতির প্রাণপুরুষ নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন তার প্রতিটি উঠান বৈঠক, গণসংযোগ ও জনসভায় উন্নয়নের রূপকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুশাসন ও উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরছেন। অন্যদিকে জেলা জুড়ে জাতীয় পার্টির কোন সাংগঠনিক কাঠামো না থাকায় এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ফয়েজ উল্যা শিপন তার কোন কার্যক্রম দেখাতে পারছেন না। নির্বাচনের আর কয়েকদিন বাকি থাকলেও এখন পার্যন্ত তাকে কোন প্রকার গণসংযোগ করতে দেখা যায়নি।

স্থানীয়রা বলছেন, নৌকার গণ জোয়ারে তিনি নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন। স্থানীয় ভোটার কাদের, হেলাল, আনোয়ার, রহিমা, সাফিয়া খাতুনসহ কয়েক জন বলেন, এই আসনে বিগত দিনে যারা এমপি নির্বাচিত হয়েছেন, তারা আমাদের কোন উন্নয়ন করতে পারেননি। তারা আমাদেকে উন্নয়নের অনেক স্বপ্ন দেখিয়েছেন। এসব ছিল তাদের নাটক। এমপি পদ ব্যবহার করে তারা নিজেদের উন্নয়ন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের হাত ধরে এই উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন বিজয়ী হয়ে আমাদের দীর্ঘদিনের লক্ষ্মীপুর-২ আসের উন্নয়নের হাল ধরবেন বলে আমরা আশা করি।

লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদরের একাংশ) আসনের উপ-নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন বলেন, আমি তৃণমূল থেকে রাজনীতি করে এই পর্যন্ত এসেছি। আমার রাজনীতির শুরু থেকে আমি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের পাশে ছিলাম এখনো আছি, ভবিষ্যতেও থাকবো। আমাদের সাংগঠনিক তৎপরতা ও মানবিক কর্মকান্ডে দিনদিন এই জেলায় আওয়ামী লীগের জনসমর্থন বাড়ছে। জননেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন কর্মকান্ডের কারণে এই অঞ্চলের মানুষ নৌকা মার্কায় ভোট দিবে। আমার পক্ষ থেকে নির্বাচনে এক চুল পরিমাণও আচরণ বিধি লঙ্গণ করা হবেনা। নির্বাচন যেন শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ হয়, সেই জন্য আমাদের সহযোগিতা থাকবে। তিনি আশা করেন আগামী ২১ জুন সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে নৌকাকে বিজয়ী করবে এই এলাকার জনগণ। বিজয়ী হতে পারলে লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদরের একাংশ) আসনের উন্নয়নে তার সবটুকু দিয়ে কাজ করবেন বলেও জানান তিনি। রিটার্নিং অফিসার মো. দুলাল তালুকদার জানান, নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ করতে কর্মকর্তারা কাজ করছে। এখন পর্যন্ত এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আশা করি নির্বাচনের দিন শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে।

প্রসঙ্গত, এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ২৯ হাজার ৬৩ জন। এদের মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৯৮ হাজার ২৯৯ জন ও পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৬ হাজার ৬৪ জন। সদর উপজেলার ৯ টি ইউনিয়ন এবং রায়পুর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় নিয়ে গঠিত লক্ষ্মীপুর-২ আসনে মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১৩৬ টি।

Print Friendly, PDF & Email