লক্ষ্মীপুরে করোনায় বেহাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান : শিক্ষকরা বদলে ফেলছেন পেশা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

লক্ষ্মীপুরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বেহাল দশা। করোনার কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় দুটি একবারে বন্ধ হয়ে গেছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর চেয়ার-টেবিল-বেঞ্চ ধুলা-ময়লায় ভরে আছে। মেঘনা উপকূলী অঞ্চল হওয়ায় চারটি বিদ্যালয়ের কক্ষগুলো পানি বিরাজ করছে। শ্রেণিকক্ষের বৈদ্যুতিক বাতি, ফ্যান, লেখার বোর্ড, ইলেকট্রনিক পণ্যের প্রায়নষ্ট হয়েছে। শিক্ষকরাও বদলে ফেলছেন নিজের পেশা।

কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের আঙ্গিনায় রাখা আছে সড়কের নির্মাণের সামগ্রী। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় বখাটে ও মাদকসেবীদের আখড়ায়ও পরিণত হয়েছে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে।

উপজেলার মেঘনা উপকূলীর অঞ্চলের দক্ষীন চরবংশি ইউনিয়নের এলকে এইচ উপকূলীয়, চরবংশী জনতা উচ্চ বিদ্যালয়, চরবংশী এসএম আজিজিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, হায়দরগঞ্জ মহিলা দাখিল মাদরাসা, কেরোয়া গ্রামের লুধুয়া এমএম ও রায়পুর এলএম পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন করা হয়।

চরবংশি এলকে এইচ উপকূলীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা বলেন, এ বিদ্যালয়ের ৯৭৫ জন শিক্ষার্থী জেলে ও দিনমজুর পরিবারের সন্তান। ১৭ জন শিক্ষক কর্মচারি রয়েছেন। গত তিন বছরের পরিত্যক্ত ও ঝুকিপুর্ণ সাইক্লোন সেন্টারে শিক্ষকদের কক্ষ ও তিনটি কক্ষে শ্রেণী কার্যক্রম চলে। সামন্য বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে টিনের কক্ষগুলো ডুবে যায়। করোনায় স্কুলটি বন্ধ থাকায় শিক্ষকরা ১৫ মাস বেতন পায় না। নতুন কোন ভবন না থাকায় অমানবিকভাবে চলছেন শিক্ষকরা।

রায়পুর এলএম পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান বলেন, জেলার অন্যতম বিদ্যালয়টি দ্বিতলা ভবনের নীচের কক্ষগুলো খুবই ঝুকিপুর্ণ ও বেহাল। করোনার সময় প্রত্যেকটি পিলারে ফাটল দেখা দিছে। পলেস্তারা উঠে যাচ্ছে। একই অবস্থা চরবংশী এসএম আজিজিয়া উচ্চ বিদ্যালয়।

হায়দরগঞ্জ মহিলা দাখিল মাদরসা ও মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক আলমগীর হোসেন বলেন, উপজেলায় ৫৩ টি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক প্রতিষ্ঠান ( ৩২টি স্কুল ও ২১টি মাদরাসা, ১৬৫ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৯২টি কেজি স্কুল ও ৭টি কলেজ)। উপকূলীয় এলাকার চারটি বিদ্যালয় না শুধু, প্রায় প্রতিষ্ঠানের করুন ও বেহাল অবস্থা। করোনাকালে শ্রেণির কাজ বন্ধ থাকলেও শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা। কিন্তু অনেকেই উপস্থিত থাকছেন না। এ কারণে মাঠ ও আশপাশ এলাকায় জন্মেছে ঝোপঝাড়। অরক্ষিত থাকায় প্রতিষ্ঠানে এসে-শিক্ষার্থীরা পাবজি-ফ্রি ফায়ারের মতো বিভিন্ন ধরনের গেমসে মত্ত হচ্ছে।

রায়পুর উপজেলা কিন্ডার গার্টেনের সভাপতি মোঃ নিজাম উদ্দিন বলেন, উপজেলায় ৯২ কিন্ডারগার্টেন রয়েছে। দুই বছর পরিচালনার পর শহরের প্যারাডাইম স্কুল এন্ড কলেজ ও ৮ বছর পরিচালনার পর করোনায় মধ্যে চরবংশী ইসলামগঞ্জ ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। বাকি বেসরকারি স্কুলগুলো অনেকটাই বন্ধের পথে। এ প্রতিষ্ঠানগুলো প্রবাসী পরিবারের আয়ের উপর নির্ভরশীল। সবগুলো প্রতিষ্ঠান এখন বন্ধের উপক্রম হয়েছে। এ কারণে পেটের তাগিদে শিক্ষকরা বদলে ফেলেছেন পেশা।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদ বলেন, করোনার সময়কালে বিহাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকা করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানগুলো খোলার বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য-সংক্রমণ পরিস্থিতির উন্নতি হলে ১৩ জুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার কথা ছিল। সে হিসাবে বাকি আছে মাত্র ৪ দিন। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, এ সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পরিষ্কার করে ও ধুয়ে-মুছে ঝকঝকে অবস্থায় থাকার কথা ছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা প্রতিষ্ঠানের দিকে নজর দিচ্ছেন না।

Print Friendly, PDF & Email