বিয়ের পিঁড়িতে বসা হলো না লক্ষ্মীপুরের এএসআই সালাহ উদ্দিনের

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বাবা তুই কই। কোনাই হারাই গেলি। তুই তো বাড়ি আসবি বলেছিলি, লাশ হয়ে ফিরলি কেন ? আমি তো তোর লাশ হয়ে দেখতে চাইনি।’ শুক্রবার (১১ জুন) রাতে মোবাইলফোনে এভাবে কেঁদে কেঁদে উত্তর দিলেন চট্টগ্রামে নিহত এএসআই কাজী মো. সালাহ উদ্দিনের বাবা কাজী নাদেরুজ্জামান পাটওয়ারী। ছেলের শোকে তার কান্না কেউই থামাতে পারছিলেন না। কান্না থামানোর ভাষা খুঁজে পাচ্ছিলেন না স্বজনরা।

জানতে চাইলে বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী নাদেরুজ্জামান পাটওয়ারী সাংবাদিকদের বলেন, বুধবার (৯ জুন) আমার সঙ্গে সালাহ উদ্দিনের কথা হয়। আগামী সপ্তাহে বাড়িতে আসবে বলেছিল। কিন্তু আমার সালাহ উদ্দিন লাশ হয়ে বাড়িতে ফিরেছে। আমার সালাহ উদ্দিনকে জীবন্ত বাড়ি ফিরতে দিল না তারা।

নিহত এসআই সালাউদ্দিন লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার হাজিরপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ জয়পুর গ্রামের বাসিন্দা। শুক্রবার বিকেলে (১১জুন) পারিবারিক কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়।

এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) মংনেথোয়াই মারমা ও চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে ফজলুল হকসহ পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিহতের পারিবারিকভাবে জানা যায়, মাদক পরিবহনের খবরে একটি মাইক্রোবাসকে চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানার কাপ্তাই রাস্তার মাথায় থামার জন্য সালাহ উদ্দিন সঙ্কেত দেয়। কিন্তু মাইক্রোবাসটি না থামিয়ে উল্টো তাকে পিষে দিয়ে চলে যায়। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সালাহ উদ্দিন একই থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ছিলেন। তার বাবা কাজী নাদেরুজ্জামান অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কনস্টেবল।

সালাহ উদ্দিনের মামাতো বোন শাহনাজ আক্তার বিন্দু জানান, আমার ভাইয়া গত ১৫ বছর পুলিশে চাকরি করছেন। তার বিয়ে ঠিক করা হয়েছিল। তিনি বাড়িতে আসলে বিয়ের তারিখ ঠিক করার কথা। মামার সঙ্গে তার শেষ বুধবার কথা হয়। ভাইয়া আগামী সপ্তাহে বাড়ি আসবেন বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু তাকে লাশ হয়ে ফিরতে হলো। মামার কান্না থামানো যাচ্ছে না। ভাইয়াকে যারা হত্যা করেছে, আমরা তাদের উপযুক্ত বিচারের দাবি জানাই।

Print Friendly, PDF & Email