রায়পুরে খাল দখল করে দোকান নির্মাণ : প্রশাসন নিরব

তাবারক হোসেন আজাদ, লক্ষ্মীপুর :

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ডাকাতিয়া নদীর সংযোগ খালগুলো দখলের মহোৎসব চলছে। প্রভাবশালীরা বড় বড় ইমারত, দোকান নির্মাণ করে খাল দখল করে চলেছে। এতে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার ফলে ভোগান্তিতে পড়ছে সাধারণ জনগণ। প্রশাসন জানলেও ব্যবস্থা নিচ্ছেন না বলে জানান গ্রামবাসী।

শুক্রবার (১১ জুন) দুপুরে সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, পৌরসভার মধুপুর এলাকা, পৌরসভা কার্যালয়ের পিছনের খাল, কেরোয়া ইউপির জোর পুল নামক খাল, মোল্লারহাট বাজার এলাকার হায়দরগঞ্জ ও চরবংশী মোল্লারহাটের প্রধান প্রধান খাল গুলো স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ভরাট করে বড় বড় ইমারত নির্মাণ করছে। খাল দখল করে পাকা আধাপাকা ইমারত নির্মাণ করে প্রায় ৫০ কোটি টাকার জমি অবৈধভাবে দখল করে নিয়েছে। এসব খাল ভরাট করে ২য় তলা, এক তলা পাকা ইমারত নির্মাণ করে তারা স্থায়ীভাবে সুপার মার্কেট ,বিপণিবিতান, বাড়িঘর ও দোকান করে নিজে অথবা ভাড়াটিয়া দিয়ে ব্যবসা বাণিজ্য করছেন।

এসব প্রভাবশালীদের খাল দখলের কারণে শহর ও গ্রামে পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা নেই। সামান্য বৃষ্টি হলেই শহরে গ্রামের বাজাগুলো জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। হাঁটু পানিতে তলিয়ে যায় আবাসিক এলাকাগুলো। পৌর এলাকার ৭নং ওয়ার্ডের বিশাল একটি অংশ এলাকাজুড়ে পানিতে তলিয়ে থাকায় ওই এলাকার মানুষ চলাচল করতে পারছে না। বিশেষ করে হাঁটু পানির নিচে তলিয়ে থাকার কারণে ৫-৬ বছর ধরে কষ্ট করছে।। যেন তাদের দুঃখের কথা কারোর শোনার নেই। রায়পুর শহরের মাঝখান থেকে দেবিপুর হয়ে চরবংশী হয়ে মেঘনা নদী পর্যন্ত খাল । এখালে ৫০ বছর পূর্বে ও নৌযান চলাচল করত। নৌযানে করে শহরের ব্যবসায়ীরা কম খরচে মালামাল পরিবহন করতেন।

অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রভাবশালীরা খালের মধ্যে কলাম করে পাকা ঘর তৈরি করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছে। সাবেক পৌর মেয়র ও উপজেলা প্রশাসকরা বিষয়টি জেনেও উচ্ছেদের কোনো উদ্যোগ নেননি। এ খাল সরকারি বলে প্রশাসন দাবি করলেও দখলদাররা বলছে, তাদের নামে রেকর্ড পর্চা আছে। এ টানাহেঁচড়ার কারণে সরকারের কোটি কোটি টাকার জমি বেহাত। পানি বা পয়োনিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় শহরের মলমূত্র ও বাসাবাড়ির ব্যবহৃত ময়লা আবর্জনার পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই।

কেরোয়ার ইউপির মোল্লারহাট এলাকার মেম্বার শিপন মোল্লা বলেন, ডাকাতিয়া নদির সংযোগ এ গুরুত্বপুর্ণ খালটি স্থানীয় প্রভাবশালী অবসরপ্রাপ্ত এক ব্যাংক কর্মকর্তা ও দুই শিক্ষকসহ ১৯ ব্যাক্তি দখল করে ইমারত করেছেন। এ কারণে তারা কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না। তবে খাল উদ্ধারে উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা ও সিআইপি কর্তৃপক্ষ প্রশাসনকে সার্বিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছি।

উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) আখতার জাহান সাথি সাংবাদিকদের বলেন, যেসব খাল অবৈধ দখল হয়েছে তা ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে বলা হয়েছে। কেরোয়ার খাল বেদখল নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য শুক্রবার দুপুরে অফিসের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ বলেন, বেদখল হওয়া যেসব খাল রয়েছে সেগুলো উদ্ধারের চেষ্টার পাশাপাশি অবৈধ দখলদারদের সরকারি সম্পত্তি ছেড়ে দেয়ার জন্য বলা হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email