লক্ষ্মীপুরে ডাকাতিয়া খাল দখলের মহোৎসব : নির্বিকার প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিবেদক :

লক্ষ্মীপুরে পানি নিষ্কাশনের কাজে ব্যবহৃত ডাকাতিয়া নদী ও সংযোগ খালগুলোতে ইমারত নির্মাণ, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। এতে প্রায় ২২ হাজার ২৬০ হেক্টর ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হলেও খালগুলো থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে নির্বিকার স্থানীয় প্রশাসন।

রায়পুর পৌরসভা কার্যালয় ও উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডে ও উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন রয়েছে। ৫৭টি গ্রামের বিভিন্ন খাল দিয়ে ডাকাতিয়া ও মেঘনা নদে গিয়ে পানি পড়ছে । কিন্তু বেশিরভাগ স্থানে খালের অর্ধেক দখল করে প্রভাবশালীরা ইমারত নির্মান, অবৈধ দোকান ও মাছ চাষ করছেন। অনেকে বালু ফেলে ভরাট করে বাড়িও নির্মাণ করেছেন। এতে ডাকাতিয়ার খালে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এতে এলাকার প্রায় ২২ হাজার ২৬০ হেক্টর ফসলি জমিতে স্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। জমির ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একই কারণে এসব জমিতে কৃষকেরা রবিশস্য ও সয়াবিনসহ বিভিন্ন শষ্য আবাদ করতে পারছেনা। জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্থ কয়েকজন কৃষক ও এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও), সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও কৃষি কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করেছেন।

ইউএনও ও কৃষি কর্মকর্তাসহ সিআইপি কর্তৃপক্ষ-অভিযোগ পাওয়ার পরেও খাল দিয়ে পানি প্রবাহ বন্ধ করেননি। খাল ভরাট করায় প্রায ২২ হাজার ২৬০ হেক্টর জমির ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব জমি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় চাষাবাদে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। খাল ভরাটকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীদের মধ্যে অসোন্তোষ বিরাজ।

সরেজমিনে রায়পুর পৌরসভার কয়েকটি স্থানসহ কেরোয়া ইউপির জোড়পুল, লুধুয়া গ্রাম, মালিবাড়ি এলাকা, চরপাতা ইউপির গাজিনগর গ্রাম, চরআবাবিল ইউপির হায়দরগন্জের ভেরিবাঁধ এলাকা, উদমারা ও দক্ষিন চরবংশী ইউপির কয়েকটি গ্রামে এচিত্র দেখা গেছে।

পৌরসভার পশ্চিম কাঞ্চনপুর গ্রামের কৃষক বেনি আমিন ভুঁইয়া বলেন, তিনি চার বিঘা জমিতে ধান ও পেপের আবাদ করেছিলেন। কিন্তু জলাবদ্ধতার কারণে সব শেষ হয়ে গেছে। কৃষি সমৃদ্ধ মেঘনা উপকূলীয়-হায়দরগন্জ উপশহরের বিশিষ্ট সমাজ সেবক আলহ্বাজ ছাইয়েদ তাহের জাবেরি বলেন, মেঘনার জোয়ারের সময় তার ফল বাগানের শতাধিক ফলের চারা ও গাছ নষ্ট হয়ে লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ বিষয়ে তারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও সিআইপি কর্মকর্তাদের জানালেও তারা এখন পর্যন্ত কোন সহযোগিতা করেননি।

রায়পুর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নদী রক্ষা কমিটির আহবায়ক আখতার জাহান সাথি শীর্ষ সংবাদকে বলেন, ব্যবস্থা নেয়ার জন্য গত ২৪ জানুয়ারী উপজেলা ট্রাস্কফোর্স কমিটির সভায় সকল দপ্তরে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। খালগুলো থেকে অবৈধ স্থাপনা ও বাঁধগুলো ভেঙ্গে দিয়ে পানি চলাচলের ব্যবস্থা করে দিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করে আলোচনা ব্যবস্থা নেয়া হবে।।

রায়পুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমাম হাসান বলেন, উপজেলায় তিন মৌসুম মিলে ২২ হাজার ২৬০ হেক্টর আবাদি ফসলি জমি রয়েছে। নদী বা খাল রক্ষায় ট্রাস্কফোর্স কমিটি রয়েছে। রমজানের শেষের দিকে আমাদের সভা হয়েছে। এতে যারযার কার্যালয় প্রতিবেদ জমা দেন। কৃষি বিভাগ থেকে ৭টি সুপারিশ করা হয়েছে। এখন শুধুই বাস্তবায়ন।

Print Friendly, PDF & Email