ইদের দিনে লক্ষ্মীপুরে দুই প্রবাসীর স্ত্রীর ‘কামড়াকামড়ি’

আহত প্রবাসীর স্ত্রী সুমি আক্তারের অভিযোগ, তার হাত ও আঙুলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড় দিয়েছে প্রতিবেশি প্রবাসী শাহ আলম সোহেলের স্ত্রী মঞ্জু বেগম।

 

রাকিব হোসেন আপ্র : লক্ষ্মীপুরে সুমি আক্তার (২৫) নামে এক প্রবাসীর স্ত্রীর মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে প্রতিবেশি আরেক প্রবাসীর স্ত্রী মঞ্জু বেগম (২৭)। আজ রবিবার বিকেলে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী নিজেই। এরআগে গত শুক্রবার (১৪ মে) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার পূর্ব জামিরতলী গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। তবে অভিযুক্ত মঞ্জু বেগমের দাবি, প্রায় আধা ঘণ্টা যাবত তারা হাতাপাতি এবং একে-অন্যের চুল ধরে টানাটানি করার সময় মাথা ফেটে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।

আহত সুমি আক্তার উপজেলার পূর্ব জামিরতলী গ্রামের পালোয়ান বাড়ির দুবাই প্রবাসী মো. মাহিন উদ্দিনের স্ত্রী। অভিযুক্ত মঞ্জু বেগম একই বাড়ির আরেক প্রবাসী শাহ আলম সোহেলের স্ত্রী।

স্থানীয়রা জানায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে গোসল করতে গিয়ে দুই প্রবাসীর বাচ্চারা মারামারি করে। এ খবর বিদেশে পৌঁছে গেলে দুই পরিবারে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এরই জেরে দুই প্রবাসীর স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ শুরু হয়। পবিত্র ইদ-উল-ফিতরের দিন অর্থাৎ শুক্রবার সন্ধ্যায় তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এসময় প্রায় আধা ঘণ্টা হাতাহাতি, চুল টানাটানি ও মারামারিতে জড়িয়ে ছিল প্রবাসী মাহিন উদ্দিনের স্ত্রী সুমি আক্তার এবং সোহেলের স্ত্রী মঞ্জু বেগম। তাদের থামাতে গিয়ে আঘাত পেয়েছিলেন প্রবাসী মাহিনের বৃদ্ধ মা-বাবাও। প্রতিবেশি ও প্রত্যক্ষদর্শীরা চেষ্টা করেও তাদের থামাতে পারছিলেন না। এক পর্যায়ে সুমি আক্তারের মাথা ফেটে রক্ত বের হতে দেখলে মঞ্জু বেগম ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে আহত সুমি আক্তারকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে স্থানীয় মান্দারী বাজারের একটি প্যাথলজিতে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। এরপর চিকিৎসকের পরামর্শে সদর হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। সুমি আক্তারের বাম চোখের উপরে দুটি সেলাইয়ের চিহ্ন রয়েছে।

আহত সুমি আক্তার জানান, ইট দিয়ে তার মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে প্রতিবেশি মঞ্জু বেগম। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কামড়, কিলঘুষি এবং লাথিও মারা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তবে অভিযুক্ত মঞ্জু বেগম জানান, চুল টানাটানি ও হাতাহাতির ঘটনাটি সত্য। তবে ইট দিয়ে সুমি আক্তারের মাথা ফাটানো হয়নি। চুল ধরে মাটিতে গড়াগড়ির সময় হয়তো কিছুতে লেগে তার মাথা ফেটে যেতে পারে বলে দাবি করেন মঞ্জু বেগম।

চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একে ফজলুল হক বলেন, ‘ঘটনাটি আমার জানা ছিল না। তবে এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

Print Friendly, PDF & Email