শিক্ষা উপমন্ত্রী যেভাবে প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন তাতে বলা যায় তিনি আক্রমণই করেছেন

শওগাত আলী সাগর

ব্যবসায়ী সৈয়দ নাসিম মঞ্জুরের একটা বক্তব্য নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী। সৈয়দ মঞ্জুর দেশের কর ব্যবস্থার সমালোচনা করে ব্যবসায়ী হিসেবে হতাশা প্রকাশ করে বলেছিলেন, আমরা ব্যবসায়ীরা কাল থেকে কান ধরে ব্যবসা ছেড়ে দেবো। কি পরিস্থিতিতে দেশের শীর্ষ একজন উদ্যোক্তাকে এমন হতাশা ব্যক্ত করতে হয়, তা নিয়ে মিডিয়ায় বা কোনো ফোরামে সেই অর্থে তেমন আলোচনা হয়নি। অথচ এ নিয়ে আলোচনা জরুরী ছিলো।

২০ থেকে ২২ বছর আগে আমি নিজে যখন ঢাকায় রিপোর্টার তখনো ব্যবসায়ীরা কর নিয়ে অভিযোগ করতেন, হতাশা প্রকাশ করতেন। তখনো কর নিয়ে হয়রানির সংবাদ আমরা প্রকাশ করেছি। এতো বছরেও এটি সমস্যাই থেকে গেলো কেন? সৈয়দ নাসিমের বক্তব্যের সূত্র ধরে এই নিয়ে আলোচনা হতে পারতো।

তবে নাসিম মঞ্জুরের বক্তব্য নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী তীব্র একটি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন। মজার ব্যাপার হচ্ছে, অর্থমন্ত্রী নন, বাণিজ্য মন্ত্রী নন, জাতীয় রাজস্ব বিভাগ নয়-শিক্ষা উপমন্ত্রী একজন ব্যবসায়ীর কর বিষয়ক হতাশার জবাব দেয়ার চেষ্টা করেছেন, প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন, বলা যায় তিনি আক্রমণই করেছেন।

শিক্ষা উপমন্ত্রী কিন্তু কর ব্যবস্থা নিয়ে কোনো কথা বলেননি, সেখানে কোনো সমস্যা আদৌ আছে কিনা সেটি যে দেখা যেতে পারে সে ধরনের ঈঙ্গিত দেননি। একজন শীর্ষ উদ্যোক্তাই নয়, যে কোনো নাগরিক কোনো বিষয় নিয়ে হতাশা বোধ করলে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে সেই হতাশা সঠিক কী না তা খোঁজার চেষ্টা করা, নাগরিকদের আশ্বস্থ করা। কিন্তু মহিবুল হাসান যে ভাবে প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন- সেটি যতোটা না মন্ত্রীসুলভ হয়েছে, তার চেয়ে বেশি হয়েছে আওয়ামী লীগের অনলাইন এক্টিভিস্টসুলভ। নানা দলের অনলাইন এক্টিভিস্টরা মনে করে- যুক্তি নয়, পাল্টা আক্রমণ কিংবা প্রতিপক্ষকে হেয় করতে পারাই হচ্ছে যে কোনো সমালোচনার মোক্ষম জবাব। কিন্তু সরকারের কোনো মন্ত্রীকে যে ভিন্নভাবে ভাবতে হয়- সেটা বিদেশে পড়াশোনা করা মহিবুল কেন জানবেন না!

লেখক: প্রকাশক ও সম্পাদক, নতুন দেশ ডটকম।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

Print Friendly, PDF & Email