রায়পুরে দু’টি ব্রীজে এপ্রোচ নেই: জনদূর্ভোগ চরমে

রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি :

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে দু’টি ব্রীজে এপ্রোচ না থাকায় ঝুঁকির মুখে পড়েছে জনগণের যাতায়াত। এর একটি হচ্ছে ডাকাতিয়া নদীর মিতালীবাজার টু চরমোহড়া সড়কে ও অন্যটি আখনবাজার টু কালু বেপারীরহাট সড়কে। বহু আশা-আকাঙ্খার ব্রীজ হলেও শুধুমাত্র দু’পাশের এপ্রোচে পর্যন্ত মাটি ভরাটসহ চলাচলের উপযোগী না হওয়ায় ব্রীজগুলোর শতভাগ সুবিধা পাচ্ছেনা এ পথচারী ও এলাকাবাসী। এ নিয়ে দূর্ভোগের শেষ নেই।

উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২২ বছর পূর্বে ডাকাতিয়া নদীর উপর প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে ৮০ মিটার দৈর্ঘ্যরে কালু বেপারীরহাট রোডের ব্রীজটি নির্মাণ করা হয়। প্রায় চার বছর আগে ব্রীজটি পারাপারে ২৫ মিটার দৈর্ঘ্যরে সলিং সংস্কার করা হয়। ২০১৬ সেপ্টেম্বর মাসে ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা ব্যয়ে ব্রিক সলিং সংস্কারের কাজ করে দক্ষিণ চরবংশি ইউনিয়ন পরিষদ। ২০০৭ সনে মিতালী বাজার সংলগ্ন ডাকাতিয়া নদীর উপর ২ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৮০ মিটারের অপর ব্রীজটি নির্মাণ করা হয়। ঠিকাদার ব্রীজের দু’পাশের এপ্রোচ না করেই অফিসের অজ্ঞাতে পুরো বিল তুলে নিয়ে যায়।

আখনবাজারের ব্যবসায়ী মনির হোসেন জানান, প্রায় ৫ বছর ধরে ব্রীজের দু’পাশে এপ্রোচে মাটি নেই। নিম্মমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে কাজ করায় সংযোগ সড়কটিও বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। কোন পরিবহন চলাচল করতে পারে না। ভারী যানবাহন দূরে থাক দুই বা তিন চাকার যানবান ব্রীজটি পার হতে হয় অন্য ব্যক্তির সহযোগিতায় ঠেলে ঠুলে।

মিতালী বাজারের ব্যবসায়ী মোঃ সফিক বলেন, এ ব্রীজটি দিয়ে স্থানীয় ৬/৭টি গ্রামের মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে। ছোট রিক্সা-অটো চললেও এপ্রোচ না থাকায় কোনো মালামাল পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে আমরা দূর্ভোগের শিকার হচ্ছি। ব্যবসায়ীরা তাদের মালামাল আনতে হয় আরো ১০/১২ কি:মি: পথ ঘুরে।

এলজিইডির রায়পুরের সহকারী প্রকৌশলী মোঃ তাজুল ইসলাম বলেন, মিতালীবাজার টু চরমোহড়া সড়কের টেন্ডার হয়েছে। সড়কের কাজের সময় ব্রীজটির এপ্রোচও সম্পন্ন করা হবে। কালু বেপারীহাট রোডের ব্রীজটির বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্ধ পাওয়া গেলে এপ্রোচসহ সড়ক সংস্কার করা হবে।

Print Friendly, PDF & Email