ডা. মামুন এর প্রতারণার শেষ কোাথায়? : লক্ষ্মীপুর পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের চিকিৎসা সেবা ব্যাহত

মো. আব্দুল মালেক, লক্ষ্মীপুর :

লক্ষ্মীপুর জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক ডা. আশফাকুর রহমান মামুন এর প্রতারণা ও বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতিতে ব্যাহত হচ্ছে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের চিকিৎসা সেবা। তাছাড়া ডা. মামুন নিজেকে লক্ষ্মীপুর জেলা মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ) এর সভাপতি পরিচয় দিয়ে তার সকল অনিয়ম দুর্নীতি আধিপত্য বিস্তার চলেছেন। লক্ষ্মীপুরের স্থানীয় হওয়ায় প্রতারণার মাধ্যমে স্বাস্থ্য বিভাগসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে ফায়দা লুটে নেয়ার অভিযোগ ওঠেছে। একজন মেডিকেল অফিসার দীর্ঘ ৭ বছর লক্ষ্মীপুর জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক কিভাবে রয়েছেন তা নিয়ে নান প্রশ্ন রয়েছে ঐ বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মাঝে। এখানে উপ-পরিচালক হিসাবে কাউকে বদলি করলে সে বিভিন্নভাবে তাকে হয়রানি করে তাকে তাড়িয়ে দিচ্ছেন। এবং এখানে কাউকে উপ-পরিচালক হিসেবে আসতে দিচ্ছেন না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বরাবরে ডা. আশফাকুর রহমান মামুনের বিরুদ্ধে গত ৮ এপ্রিল একটি অভিযোগ দেয়া হয়েছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ডা. আশফাকুর রহমান মামুন একজন ধূর্ত দুর্নীতিবাজ, তিনি বিএম এর সভাপতি নন, কিন্তু সর্বত্র বলে বেড়াচ্ছেন তিনি সভাপতি, তিনি নিয়মিত অফিস না করে তার ব্যাক্তিগত নিউ মডেল হাসপাতালের চেম্বারে রোগী দেখছেন। একজন সরকারী কর্মকর্তা হয়ে তিনি নিউ মডেল হাসপাতালের অঘোষিত চেয়ারম্যান এবং তার স্ত্রী ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

তিনি পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকাদেরকে বাধ্য করছেন তার মালিকানাধীন নিউ মডেল হাসপাতালে রোগী পাঠাতে। জেলার ৫৪ টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের দায়িত্বরত চিকিৎসক ও ভিজিটরদেরকে অন্যত্র বদলির হুমকি দিয়ে তার চেম্বারে ও তার হাসপাতালে রোগী পাঠাতে বাধ্য করছেন। এছাড়াও কিছু দিন পরপর পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকাদের খসড়া বদলির তালিকা দেখিয়ে ১০ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে আদায় করার অভিযোগ রয়েছে। লক্ষ্মীপুর পৌরসভার তেরবেকি এলাকায় পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের জেলা কার্যালয়ের জন্য অধিগ্রহণ কৃত জমির মালিক থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন। এতে শহর থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে তার বাড়ির পাশে অফিসটি হওয়ায় মানুষের ভোগান্তির শেষ থাকবে না।
তার বিরুদ্ধে দূর্নীতি ও নারী কেলেংকারীর অভিযোগ ইতিপূর্বে স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় অসংখ্য সংবাদ প্রকাশিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরব ভূমিকা পালন করেছেন। কিছুদিন পূর্বে সিরাজগঞ্জ এলাকার মা-মনি প্রজেক্টের ফারহানা নামের এক নারী তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন মামলা করলে আদালত জুডিশিয়াল তদন্তের আদেশ দেন। পরে স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতার মধ্যস্থতায় ঐ নারী মামলা প্রত্যাহার করে নেয়। বেসরকারী সংস্থা এলডিপির নামে সোনালী ব্যাংকে লক্ষ্মীপুর শাখা থেকে ঋণ নিয়ে পরিশোধ না করলে তার বিরুদ্ধে মামলা করে সোনালী ব্যাংক। স্থানীয়ভাবে প্রভাব খাটিয়ে উক্ত মামলার মিমমাংশা করেন। এ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মচারীদের থেকে করোনাকালীন লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করে নিজের নামে কিছু ত্রান দিয়ে ফটোশেসন করে বাকী টাকা আত্মসাত করেন। ডা. আশফাকুর রহমান মামুন বিএমএ ও স্বাচিব এর লক্ষ্মীপুর জেলার সভাপতি পরিচয় দিয়ে থাকে।

এ ব্যাপারে বিএমএ ও স্বাচিবের বর্তমান সভাপতি ডা. জাকির হোসেন জানান ডা. আশফাকুর রহমান মামুন ভূয়া পরিচয় দিয়ে বেড়াচ্ছেন।
ডা. আশফাকুর রহমান মামুন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, একটি স্বার্থনেষী মহল আমার বিরুদ্ধে অপ-প্রচার চালাচ্ছে। অভিযোগ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন।

Print Friendly, PDF & Email