হাসপাতালগুলোতে ঘুরেও মিলছে না শয্যা

ঢাকা: করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে সংক্রমণের হার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। টানা দুই সপ্তাহে রেকর্ড সংখ্যক রোগী শনাক্ত হয়েছে। মৃত্যু এবং সংক্রমণ ছাড়িয়ে যাচ্ছে পূর্বের সকল রেকর্ড। রোগী সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে সংশ্লিষ্টরা।

সংক্রমণ বাড়ায় মুমূর্ষু কোভিড রোগীদের জন্য আইসিইউ বেডের চাহিদা বাড়ছে। সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতালে একটি আইসিইউ বেডের জন্য অপেক্ষমান রোগী তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। কেউ সুস্থ হলে বা মারা গেলে একটি বেড খালি হচ্ছে, মুহূর্তের মধ্যে সেটিতে রোগী ভর্তি হয়ে যাচ্ছে।বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরে আইসিইউ না পেয়ে অ্যাম্বুলেন্সে রোগী মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে।

অধিকাংশ সরকারি হাসপাতালে ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীদের অবস্থার অবনতি হলে দেয়া হচ্ছে আইসিইউতে।বাইরে থেকে আইসিইউতে রোগী ভর্তি করা কঠিন হয়ে পড়ছে। সরকারি হাসপাতালে সিট না পেয়ে অনেক চেষ্টা করে কেউ কেউ বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে রোগী ভর্তি করতে পারলেও খরচ অনেক বেশি। খরচ মেটাতে মানসিক ও আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে যাচ্ছে রোগীর স্বজনেরা।

শনিবার (১০ এপ্রিল) সকালে মুগদা হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, অক্সিজেন স্যাচুরেশন (দেহে রক্তচাপ) কমে যাওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি হতে এসেছেন ফিরোজ মাহমুদ। কিন্তু হাসপাতালে বেড খালি না থাকায় ভর্তি হতে পারেননি তিনি। একইভাবে সোহরাওয়াদী হাসপাতাল এবং বিএসএমএমইউ’তে ভর্তি হতে না পেরে অবশেষে মুগদা হাসপাতালে এসেছিলেন তিনি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শুক্রবারের তথ্য অনুসারে, সারাদেশে ৬০০টি আইসিইউ বেডের মধ্যে খালি আছে ১৫৫টি বেড। আর ঢাকার কোভিড ডেডিকেটেড সরকারি-বেসরকারি ১৯টি হাসপাতালের ৩০৫টি আইসিইউ এর মধ্যে বেড খালি আছে মাত্র ২০টি। এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে আইসিইউ বেড খালি আছে মাত্র ১৭টিতে। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যে হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ বেড খালির তথ্য দিচ্ছে, সেগুলোতেও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কোন বেডই খালি নেই।

জানতে চাইলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, সংক্রমণ বাড়ায় সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেকে সেবা পাচ্ছেন না। হাসপাতালগুলোতে সাধারণ ও আইসিইউ বাড়ানো হয়েছে। তারপরও আমরা কোভিড নিয়ন্ত্রণ করতে পাচ্ছি না। এ দুরবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে চাইলে সরকারের ১৮ নির্দেশনা ও লকডাউন মানতে হবে। তা হলে আমরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবো। কিন্তু আমরা যদি বেপরোয়া হয়ে যাই, আজ যা করবো কাল তার ফল পাবো।

রাজধানীর মহাখালীর ডিএনসিসি মার্কেটকে দু’শো শয্যার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ), হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট (এইচডিইউ) ও ভেন্টিলেশন সুবিধাসহ প্রায় এক হাজার ৫০০ বেডের হাসপাতাল চলতি সপ্তাহের মধ্যে চালু করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. মো. ফরিদ হোসেন মিঞা।

তিনি বলেন,‘আমাদের সাধ্য অনুযায়ী আমরা চেষ্টা করছি এবং করবো। ডিএনসিসি মার্কেট প্রস্তুত করতে পারলে সেখানে ২০০টিরও বেশি আইসিইউ, এইচডিইউ ও ভেন্টিলেশন সুবিধা পাওয়া যাবে। এতদিন এক লাখ ৮০ হাজার ৫৬০ বর্গফুট আয়তনের ফাঁকা এ মার্কেটটি করোনার আইসোলেশন সেন্টার এবং বিদেশগামীদের করোনা পরীক্ষার ল্যাব হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছিল। এখন করোনা হাসপাতাল চালু হলে বিদেশগামীদের জন্য এক পাশে পৃথকভাবে জায়গা রাখা হবে।

ডিএনসিসি মার্কেট ছাড়াও ঢাকা মহানগর হাসপাতালে পাঁচটি আইসিইউসহ ১০০ শয্যার বেড পাওয়া যাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেটি প্রস্তুতির কাজ এখনও চলমান। মিরপুরের লালকুঠি হাসপাতালে আইসিইউসহ ১৫০টি নতুন বেড খুব দ্রুত যুক্ত হবে।

এছাড়া রাজধানীর সকল হাসপাতালে কোভিড রোগীদের জন্য বেড তৈরি হচ্ছে উল্লেখ করে ডা. মো. ফরিদ হোসেন মিঞা সোনালীনিউজকে বলেন, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট (এনআইসিবিডি) ও জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনষ্টিটিউট ও হাসপাতালসহ যেখানে যেখানে আমাদের সুযোগ আছে আমরা সব জায়গাতেই কোভিড রোগীদের সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।

Print Friendly, PDF & Email