পারিবারিক বন্ধনকে দৃঢ় করার চমৎকার উপায়

ঢাকা : আপনি নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন দিন দিন আমাদের ব্যস্ততা বাড়ছে। জীবনের এই ব্যস্ততার সাথে সাথে আমরা একদিকে যেমন কর্মমুখর থাকছি অপর দিকে দূরে সরে যাচ্ছি আমাদের সম্পর্কগুলোর কাছ থেকে। পাশাপাশি একই পরিবারে বসবাস করেও আমরা অনুভূতি ভাগাভাগি করা থেকে বিরত থাকছি।

Haque Milk Chocolate Digestive Biscuit

যা একটি পরিবারের সব সদস্যদের মধ্যেই নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করে। পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় না থাকার ফলে নতুন প্রজন্ম সরে যাচ্ছে নিজ সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ থেকে।

এই দূরত্ব কমাতে সম্পর্কগুলোর যত্ন নিতে হবে। পরিবারের সঙ্গে সুন্দর সময় কাটানোর মহামন্ত্র হলো সবাই একসঙ্গে করে মজা পাওয়া যায় এমন কোনো কাজ খুঁজে বের করা।

তেমনই কিছু কাজের খবরাখবর নিয়েই আমাদের আজকের আয়োজন –

‌১. কাজ শেষে ঘরে ফেরার পর সবাই মিলে হাঁটতে যাওয়া। এতে সারাদিন যা যা ঘটলো তা একে অন্যের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেয়ার সুযোগ পাওয়া যায়।

২. পিতা-মাতা কোন রকম শর্ত ছাড়াই সন্তানের ভাল দিকগুলো নিয়ে কথা বলুন। উৎসাহ দিন। শুধুমাত্র পরীক্ষায় ভাল ফল বা তার অর্জনগুলোকে নয়, মানুষ হিসেবে তার যে ভাল গুণাবলিগুলো রয়েছে সেগুলো খুঁজে বের করুন এবং প্রশংসা করুন।

৩. শরীরচর্চাকে একটি পারিবারিক আয়োজনে পরিণত করা। পরিবারের সবাই মিলে যে কোনো ধরণের ব্যায়াম করুন। এতে করে সন্তানদের সঙ্গে কেবল যে সুন্দর সময় কাটাতে পারবেন তা নয়, তাদের মধ্যে শরীরচর্চার সু-অভ্যাসও গড়ে উঠবে।

৪. পরিবারের প্রত্যেককে তার বিনোদনের যথাযথ ব্যবস্থা করে দিন। এক্ষেত্রে একেকজনের পছন্দ নাও মিলতে পারে। সাধ্যের বাহিরে কোন কিছু হলে সেটা আক্রমণাত্মক না হয়ে বন্ধু সুলভ পরিবেশ বজায় রেখে বলার চেষ্টা করুন।

৫. স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে তার নিজের ভাল ও খারাপ লাগাগুলো বলুন। কোন শর্ত আরোপ না করে ভালবাসি বলুন। এই সময় পাওয়া না পাওয়া নিয়ে কথা বলা থেকে বিরত থাকুন।

৬. বাড়ির ভেতরেই তৈরি করুন নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা পেরুনোর খেলা। দৌড়ানো, লাফানো বা কোনো কিছু ধরে ঝোলা-এমন সব খেলায় বাচ্চাদের সঙ্গে যেমন সুন্দর সময় কাটাতে পারবেন, সেই সঙ্গে আপনার শরীরচর্চাও হয়ে যাবে।

৭. পরিবারের সবাই মিলে বাড়ির কাছাকাছি কোনো মাঠ বা পার্কে যান। বাচ্চাদের সঙ্গে বাচ্চা বনে গিয়ে ছোঁয়াছুঁয়ি, ফুটবল বা ক্রিকেট খেলুন বা ঘুড়ি ওড়ান। স্রেফ দৌঁড়ালেও দেখবেন অনেকটা চাঙ্গা লাগছে।

৮. পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠদের কাজের প্রশংসা করুন। কারণ তারা একটা সময় আপনার দেখাশুনার দায়িত্বে ছিলেন। তাদের পক্ষে যতটুকু সম্ভব সেভাবেই চেষ্টা করেছেন আপনাকে গড়ে তুলবার। এখন আপনি তাদের পাশে থেকে পুরনো সম্পর্কটাকেই নতুনভাবে সামনে নিয়ে আসুন। বিশেষ দিনগুলোতে তাদের উপহার দিন।

৯. ছুটির দিনে সবাই মিলে সাইকেল চালান বা সাঁতার কাটুন। সাইকেল চালিয়ে নতুন নতুন জায়গায় যাওয়া কিংবা এমন গরমের সময় সবাই মিলে পানিতে কিছুক্ষণ দাপাদাপি করলে দেখবেন কতোটা ভালো লাগছে।

১০. রাতের খাবারটা সব সময় পরিবারের সবাই মিলে একসঙ্গে খাওয়ার চেষ্টা করুন। সেই সঙ্গে খাবারের আয়োজনেও সবাই অংশ নিন।

১১. একসাথে পরিবার সদস্যরা কোথাও বেড়াতে যেতে পারেন। তা সম্ভব না হলে মাসে একদিন বাড়িতেই পিকনিক করতে পারেন। সবাইকে সবার সাথে মিশতে দিন, কথা শেয়ার করতে দিন।

১২. বাচ্চাদের নিয়ে বেরিয়ে আসুন বিনোদন স্পট থেকে। শহুরে জীবনে একটু সবুজ বিরতি যেমন প্রশান্তি দেবে, তেমনি বাচ্চারা পশুপাখি, গাছপালা চিনতে শিখবে।

১৩. অভিযান কে না ভালোবাসে! নিজেরাই নিজেদের অভিযানের পরিকল্পনা করুন। বাচ্চাদের নিয়ে চলে যান নতুন কোনো নদী, বন বা পুরোনো কোনো জমিদারবাড়ি দেখতে কিংবা নতুন ধরনের কোনো খাবারের স্বাদ নিতে।

১৪. হিমালয় জয় করতে বলছি না! তবে বাচ্চাদের নিয়ে ছুটি কাটানোর জন্য যেতে পারেন এমন কোনো জায়গায় যেখানে কিছুটা হাইকিং বা পায়ে হেঁটে কোথাও পৌঁছানোর সুযোগ থাকে। এতে সবাই মিলে একটা অভিযানের স্বাদ পাওয়া যাবে এবং বাচ্চারা পরিশ্রম করতে শিখবে।

আমরা যখন বুঝব আমি নিজেই সম্পর্ক থেকে দূরে সরে যাচ্ছি তখনই আবার জড়তা কাটিয়ে সেই সম্পর্ক যতœ নিতে নিজ থেকে উদ্যোগী হতে হবে। কারো কথায় আঘাত পেয়ে মন খারাপ হলে আমরা আশা করে থাকি যে সেই ব্যক্তিটি তার ভুল

বুঝবে এবং আমার মান ভাঙ্গাবে। কিন্তু এটা না করে যদি নিজে উদ্যোগ নিয়ে আমার খারাপ লাগার অনুভূতি ও কারণটা তাকে জানাই এতে আরও কার্যকর ভাবে সম্পর্কের উন্নতি হবে। মনে রাখবেন সম্পর্ক শুধুমাত্র পরিবারে নয় সমাজের বিভিন্ন স্তরে তৈরি হয়ে থাকে। সেই সম্পর্কগুলোকেও আপনার প্রধান্যতার বিবেচনায় যত্ন নিন। অফিসের কলিগ, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী ও সমাজের অন্য মানুষগুলোর প্রতিও আমাদের সম্পর্ক হতে পারে বন্ধু ভাবাপন্ন। এতে কারো অমঙ্গল তো নেই শুধুমাত্র আমাদের একটু সচেতন মানসিকতা প্রয়োজন।

Print Friendly, PDF & Email