ধর্মীয় নেতা সকলেরই কি একই অবস্থা?

আনিসুর রহমান মিঠু :

মামুনুল হক অন্য ফালতু হুজুরদের মতো না।

মামুনুল হকের ফালতু সমর্থকেরা কেবলই বলতো, এসব অডিও এডিট করা, বানানো বা ষড়যন্ত্র!  কিন্তু মামুনুল হক এ কথা বলেননি।

বলেছেন যে, এসব ব্যক্তিগত ফোনালাপ ফাঁস করা খুবই অন্যায় হয়েছে, তিনি আইনানুগ ব্যবস্থা নিবেন।

তবে তিনি তার স্ত্রীকে ফোনালাপে বলেছিলেন, এটা জাফর শহীদ ভাইয়ের স্ত্রী, পরিস্থিতির কারণে তাকে সে কথা বলতে হয়েছিলো।

তিনি তার বোন এবং স্ত্রীর সাথে যে ফোনালাপ হয়েছে, সে বিষয়ে বলেছেন যে, এতে তার পারিবারিক সম্মান নষ্ট হয়েছে।

ফোনালাপে মামুনুল হকের বোন মামুনুল হকের স্ত্রীকে বুঝাচ্ছিলেন, সাংবাদিকরা জিজ্ঞেস করলে যেনো বলে যে, ওটা মামুনুল হকের স্ত্রী ছিলো এবং মা থাকতেই বিয়া করাইয়া গেছে।

তিনি আরও বলেছেন, ঝর্নার ছেলেকে দিয়ে নাকি জোর করে ভিডিও প্রচার করানো হয়েছে! ঝর্নার ছবি কেন প্রচার করায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

মামুনুল হকের পুরো বক্তব্যের মধ্যে যে কথাটি আমাকে বেশি অবাক করেছে, সেটি হচ্ছে, রফিক মাদানীকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তার ব্যক্তিগত বিষয়ও ফাঁস করা হচ্ছে, এভাবে ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের ব্যক্তিগত বিষয় ফাঁস করা হলে, ইসলামি জাগরণ মুখ থুবড়ে পড়বে!

এর মানে কি? ধর্মীয় নেতা সকলেরই কি একই অবস্থা? লেবাসে মুমিন আসলে কমিন?

হুজুরেরা বোরকার সুবিধা কাজে লাগিয়ে, অন্য মহিলা নিয়ে রিসোর্টে যাওয়া, মাদ্রাসার শিশু বলাৎকারের চাইতে অনেক ভালো।

আওয়ামী লীগ বা বিএনপির চাইতে হেফাজত রাজনৈতিক দল হিসেবে অনেক মানবিক আচরণ করেছে, দলীয় নেতা মামুনুল হকের প্রতি।

আওয়ামী লীগের বা বিএনপির কোন নেতা এ ধরনের সমস্যায় পড়লে, বলা হতো কারো ব্যক্তিগত দায় দল নেবে না। কিন্তু হেফাজত মুমিনুলের দায় নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছে, তাদেরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

বিউটি পার্লারে কাজ করা একটি মেয়েকে মামুনুল হক মানবিক কারণে বিয়ে করেছিলেন বলে ফেসবুকে যে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন, আজ অবশ্য লাইভে এসে সে কথা বলেননি।

রাজনীতি বাঁচাবার শেষ চেষ্টা হিসেবে মামুনুল হক হয়তো ঝর্নাকে নিজ বাড়িতেও তুলতে পারেন। তখন মামুনুল হকের রূহানী পুত্র কি করে দেখা যাবে।

তবে মামুনুল হকের সত্যিকারের স্ত্রী অনেক বিচিক্ষণ, যথেষ্ট শিক্ষিত, মেধাবী এবং ভদ্র মহিলা।

তিনি সব জানার পরও স্বামীকে বলেছেন, বাসায় আসেন তারপর কথা বলি? তিনি মামুনুল হকরে বোনকে বলেছেন, আপনি যে ফোনে কথা বলছেন, তাওতো রেকর্ড হচ্ছে!

এতটুকু জ্ঞান মামুনুল হকের থাকলে, সে তার দশ বারো জন নিহত কর্মীর রক্ত মুছে না যেতেই, রিসোর্টে গিয়ে আনন্দে মেতে উঠতেন না এবং টেলিফোনে এতো কিছু বলতেন না।

এ ব্যাপারে ঝর্নাও এক হুজুরের কাছে অভিযোগ করেছেন। জান্নাত আরা ঝর্না বলেছেন, তিনি কি অন্য কারো ফোন ব্যবহার করতে পারেন না?

লেখক: সদস্য, তথ্য ও গবেষণা উপ কমিটি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

Print Friendly, PDF & Email