গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত, নিবন্ধন নং ১১৪
  1. অন্যান্য
  2. অর্থ ও বাণিজ্য
  3. আইন-বিচার
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. কৃষি ও প্রকৃতি
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. চাকরি
  10. জাতীয়
  11. ধর্ম
  12. নির্বাচন
  13. প্রবাসের খবর
  14. ফিচার
  15. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  16. বিনোদন
  17. বিশেষ প্রতিবেদন
  18. রাজনীতি
  19. শিক্ষাঙ্গন
  20. শেখ হাসিনার পতন
  21. সম্পাদকীয়
  22. সারাদেশ
  23. স্বাস্থ্য
  24. হট আপ নিউজ
  25. হট এক্সলুসিভ
  26. হাই লাইটস

মধ্যপ্রাচ্য সংকটঃ হরমুজ ইস্যুতে বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া, নতুন উত্তেজনা

জে এম আলী নয়ন
মার্চ ১৫, ২০২৬ ৯:০৬ পূর্বাহ্ণ
  • মধ্যপ্রাচ্য সংকট: হরমুজ ইস্যুতে বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া, নতুন উত্তেজনা

    সংগৃহীত ছবি

Link Copied!

ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করছে। গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর কূটনৈতিক ও সামরিক অবস্থান নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের প্রতিক্রিয়া, সামরিক প্রস্তুতি এবং দুর্ঘটনার ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।

ইরান ও মার্কিন-ইসরাইল সংঘাতের প্রভাবে হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় সেখানে আন্তর্জাতিক শক্তির উপস্থিতি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার এক বার্তায় তিনি আশা প্রকাশ করেন, চীন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো তাদের যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ সচল রাখতে ভূমিকা রাখবে। ট্রাম্পের এমন আহ্বানের পর বিশ্বশক্তিগুলোর প্রতিক্রিয়া সামনে আসতে শুরু করেছে।

ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের এক মুখপাত্র সরাসরি যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য না দিলেও বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতির দ্রুত অবসানের আহ্বান জানিয়েছেন। সিএনএনকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সব পক্ষের দায়িত্ব। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে চীন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে এবং উত্তেজনা প্রশমনে গঠনমূলক ভূমিকা রাখবে। বিশ্লেষকদের মতে, চীনের এই অবস্থান থেকে বোঝা যায় যে তারা সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের বদলে কূটনৈতিক সমাধানের পথেই আগ্রহী।

অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা মিত্র ও অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করছে। তবে ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দিয়ে নতুন করে কোনো যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হবে কি না—সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি ব্রিটিশ সরকার।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর খবরও নাকচ করেছে ফ্রান্স। ফরাসি নৌবাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে ১০টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লেও ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তা প্রত্যাখ্যান করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তারা জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে কোনো যুদ্ধজাহাজ পাঠানো হয়নি এবং ফরাসি রণতরিগুলো বর্তমানে পূর্ব ভূমধ্যসাগরেই অবস্থান করছে। ফ্রান্সের অবস্থান এখনো আত্মরক্ষামূলক ও সুরক্ষামূলক বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের একটি অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে সুইজারল্যান্ড। ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের করা দুটি সামরিক ওভার ফ্লাইট অনুরোধ নাকচ করেছে দেশটির সরকার। শনিবার দেশটির ফেডারেল কাউন্সিল জানায়, নিরপেক্ষতার আইন অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে একটি রক্ষণাবেক্ষণ ফ্লাইট এবং পরিবহণ বিমানের দুটি ওভার ফ্লাইট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক আইন ও সুইজারল্যান্ডের দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষতা নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যদি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে কোনো হামলা করা হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন কোম্পানির স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে আঘাত হানা হবে। তিনি বলেন, যদি ইরানের স্থাপনাগুলোতে হামলা হয়, তাহলে এ অঞ্চলে থাকা মার্কিন কোম্পানি বা যেসব কোম্পানিতে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার রয়েছে—সেসব স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাবে ইরান।

অন্যদিকে সৌদি আরবে ইরানি মিসাইল হামলায় পাঁচটি মার্কিন রিফুয়েলিং বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই ইরাকে একটি সামরিক বিমান দুর্ঘটনায় ছয় মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন জানিয়েছে, ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে চলতি সপ্তাহের শুরুতে একটি জ্বালানি সরবরাহকারী সামরিক বিমান দুর্ঘটনায় পড়লে ওই ছয়জন ক্রু সদস্য নিহত হন। নিহতরা হলেন—জন ক্লিনার (৩৩), আরিয়ানা সাভিনো (৩১), অ্যাশলি প্রুইট (৩৪), সেথ কোভাল (৩৮), কার্টিস অ্যাংস্ট (৩০) এবং টাইলার সিমন্স (২৮)। এর মধ্যে প্রথম তিনজন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর সদস্য এবং বাকি তিনজন এয়ার ন্যাশনাল গার্ডে কর্মরত ছিলেন।

পেন্টাগন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার কারণ এখনো তদন্তাধীন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড আগেই জানিয়েছে, বিমানটি হারানোর ঘটনা শত্রুপক্ষের হামলা বা নিজেদের বাহিনীর ভুলবশত আক্রমণের কারণে ঘটেনি।

শীর্ষ সংবাদ | নয়ন

জে এম আলী নয়ন

জে এম আলী নয়ন

সাব এডিটর

সর্বমোট নিউজ: 6252

Share this...
বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বে-আইনি।
আরও দেখুন
সর্বশেষ
  • আমাদেরকে ফলো করুন…