ঢাকাTuesday , 8 November 2022
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অর্থ ও বাণিজ্য
  4. আইন-বিচার
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আবহাওয়া ও কৃষি
  7. খেলাধুলা
  8. গনমাধ্যাম
  9. চাকরি
  10. জাতীয়
  11. ধর্ম
  12. নির্বাচন
  13. প্রবাসের খবর
  14. ফিচার
  15. ফ্যাশন

উলিপুরে বাঁশের তৈরি পণ্য বিক্রির ধুম পড়েছে

Link Copied!

কুড়িগ্রামের উলিপুরে বাঁশের তৈরি পণ্য বিক্রির ধুম পড়েছে। বাঁশ শিল্প বাঙালি সংস্কৃতির একটি বড় অংশ। আমন ধানের আমেজ উঁকি দিতে না দিতেই বাঁশের তৈরি পণ্যের কদর বেড়েছে।

সরেজমিন উপজেলার উলিপুর পৌর বাজারে গিয়ে দেখা যায় বাঁশের তৈরি পণ্যের বিক্রির ধুম পড়েছে। বিভিন্ন ধরনের বাঁশের তৈরি পণ্য নিয়ে বসে আছে। বাঁশের তৈরি পণ্য ক্রয় করতে উপছে পড়া ভীড় দেখা যায়। কেউ কিনছেন ডালি, কুলা আবার কেউ চাইলন, টালা। এভাবে বিভিন্ন ধরনের বাঁশের তৈরি পণ্য কেনা-বেচা করতে দেখা যায়। আমন ধানের উৎসবের আমেজ আসতে না আসতেই এ সকল বাঁশের তৈরি পণ্যের ব্যাপক চাহিদা বেড়েছে। বিক্রেতারা অনেক লাভের আশা নিয়ে বিক্রি করছেন।

আরও পড়ুন-  লক্ষ্মীপুরে অপহরণের ১৪ ঘন্টা পর স্কুল ছাত্রী উদ্ধার

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বাঁশের তৈরি পণ্য এসে উলিপুর পৌর বাজারে বেচা-কেনা করা হয়। বাঁশের তৈরি পণ্য গুলো বিভিন্ন দরে বিক্রি হচ্ছে। তার মধ্যে মাটি কাটা ডালি ৫০ টাকা থেকে ৯০ টাকা, ভাতের বড় ডালি ৮০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা, ঝাড়ু ৩০ টাকা ৫০ টাকা, কুলা ৬০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা, চাইলন ৪০ টাকা থেকে ৭০ টাকা, মুরগীর টোপা ১২০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা, কবুতরের খাচা ৮০ টাকা থেকে ১২০ টাকা, ধারাই ২৫০ টাকা থেকে ৯০০ টাকা, ডারকি ২৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা, চেলি ডালি ৪০ টাকা থেকে ৬০ টাকা, হাত পাখা ২০ টাকা থেকে ৪০ টাকা, পাল্লা ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, টালা ২৫ টাকা থেকে ৪০ টাকা, গরুর মুখের টোপা ১৫ টাকা ২০ টাকা, মাছ রাখা খলাই ৫০ টাকা থেকে ৭০ টাকা, ঝাপি ২০০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা, মাছ ধরা পলো ৩০০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা এবং মাছ ধরা ভাইর ৪০০ টাকা থেকে ৬৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানান বিক্রেতারা।

বাঁশের তৈরি পণ্য বিক্রেতা আলমগীর হোসেন জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা বাঁশের তৈরি পণ্য পাইকেরিতে কিনে পৌর বাজারে বিক্রি করি। এখানে সপ্তাহে দু’দিন হাট বসে। প্রতি হাটে প্রায় ১০ হাজার ২০ হাজার টাকা দিয়ে বিভিন্ন ধরনের পণ্য ক্রয় করি তা বিক্রি করে প্রায় ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা লাভ করি। তিনি আরও বলেন এখন এ সব পণ্য বিক্রির মৌসুম আসতেছে। এ মৌসুমে অনেক টাকা আয় করতে পারব বলে জানান তিনি। তবে ক্রেতারা চাহিদার বেশি পণ্য ক্রয় করেননা বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন-  চট্টগ্রামের পটিয়ার কালারপুল সেতু উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

উপজেলার বালাবাড়ি থেকে পণ্য ক্রয় করতে আসা সমর আলী (৭৫) বলেন, আমি বিভিন্ন ধরনের বাঁশের তৈরি পণ্য ক্রয় করতে এসেছি। এগুলো আমি গ্রামে গ্রামে বিক্রয় করব। তিনি বলেন আমি মাত্র ৬’শ থেকে ৭’শ টাকার পণ্য ক্রয় করব। এসব পণ্য গ্রামে বিক্রয় করলে ২’শ থেকে ৩’শ টাকা আয় হবে তা দিয়ে কোন রকম সংসার চালাব। আমি বৃদ্ধ হয়েছি আমি কোন কাজ করতে পারিনা আমাকে কেউ কাজ দেয়না তাই এভাবেই কোন রকম চলি বলে জানান তিনি। তিনি বলেন এখন এ সব পণ্যের কদর কমে গেছে। এখন প্লাস্টিক পণ্য সামগ্রী দিয়ে ভরে গেছে। তাই এ ঐতিহ্যবাহী শিল্পকর্মটি দেশ থেকে বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে পৌর পণ্য বাজারের ইজারাদার আব্দুস সালাম বলেন, বর্তমান এসব পণ্য বিক্রয়ের মৌসুম আসতেছে তাই এখন অনেক চাহিদা বেড়েছে। তবে আগের মত তেমন চাহিদা নেই। কারণ প্লাস্টিকের পণ্য বাঁশের তৈরি পণ্যের চাহিদা কমিয়ে দিয়েছে।

আরও পড়ুন-  উলিপুরে ৬ জুয়ারি আটক

তিনি বলেন, আগে এ পৌর বাজারে হাটের দিনে ১০০ থেকে ২০০ টি পর্যন্ত পণ্যের দোকান থাকত। বর্তমান ২৫ থেকে ৩০ টির বেশি পণ্যের দোকান দেখা যায় না।

বাঁশের তৈরি পণ্য প্রায় বিলুপ্তির পথে এ বিষয়ে তিনি বলেন, একসময় ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গ্রামীণ পল্লিতে বাঁশের চটা দিয়ে বিভিন্ন জিনিস তৈরি করা হতো। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও এ কাজে সামিল হতো। আর হাটবারে স্থানীয় বাজারে এমনকি বাড়ি বাড়ি ফেরি করে এসব বাঁশ-বেতের পণ্য বিক্রি হতো। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে এ শিল্পের মূল উপকরণ বাঁশের মূল্য বৃদ্ধিতে বাঁশ-বেতের কারিগররা তাদের পেশা ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। ফলে বেকার হয়ে পড়েছে গ্রামীণ কারিগররা। অনেকেই আবার এ পেশা ছেড়ে চলে যাচ্ছে অন্য পেশায়।

শীর্ষসংবাদ/নয়ন

biggapon বিজ্ঞাপন

Share this...

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
ঢাকা অফিসঃ ১৬৭/১২ টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল ঢাকা- ১০০০ আঞ্চলিক অফিস : উত্তর তেমুহনী সদর, লক্ষ্মীপুর ৩৭০০
Durbar দূর্বার 1st gif ad biggapon animation বিজ্ঞাপন এ্যানিমেশন
  • Social