একদিকে জ্বালানির উচ্চমূল্য, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতির জাঁতাকলে বেহাল ইউরোপীয় অর্থনীতি। এ সংকটে টিকে থাকতে বিভিন্ন ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠান তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম কমিয়ে ফেলেছে। এতে দেখা দিয়েছে ইউরোপে মন্দার আশঙ্কা। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
অক্টোবরে টানা চতুর্থ মাসের জন্য ইউরোপের প্রাইভেট খাতের ব্যবসায়িক কার্যক্রম হ্রাস পেয়েছে, যা মন্দার আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সূচকটি অক্টোবরে ৪৭ দশমিক ১ শতাংশে নেমে এসেছে, যা গত সেপ্টেম্বরে ৪৮ দশমিক ১ ছিল। প্রসঙ্গত, ৫০-এর নিচে সূচক পড়ে যাওয়া ব্যবসায়িক কার্যকলাপ সংকোচনের ইঙ্গিত দেয়। কাজেই ব্যবসায়িক ক্রিয়াকলাপ মন্থর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইউরো অঞ্চলজুড়ে মন্দার আশঙ্কা বাড়ছে।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের ক্রয় ব্যবস্থাপনার সূচক ২০১৩ সালের এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে। কোভিড-১৯ অতিমারির লকডাউনের সময়কাল বাদ দিয়ে এ হিসাব করেছে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল। রেকর্ড মুদ্রাস্ফীতির প্রভাবে একে তো চাহিদা কমে গেছে, তার ওপর কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান তাদের বেচাবিক্রি কমিয়ে উৎপাদনে লাগাম টানছে। এতে পরিস্থিতি অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কার থেকেও খারাপ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
আরও পড়ুন- চেঙ্গিস খানের সম্পত্তির দাম ১২০ লাখ কোটি ডলার!
এ মন্দার প্রভাব উৎপাদন খাতে সবচেয়ে বেশি পড়েছে। বিশেষ করে রাসায়নিক ও প্লাস্টিক খাতে। অন্যদিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ভোক্তারা বেঁচে থাকার লড়াই করছেন। ফলে কমে গেছে পরিষেবা খাতের কার্যকলাপও। টানা চার মাস ধরে পণ্য ও পরিষেবার ক্ষেত্রে নতুন ক্রয়াদেশ আসার হার কমেছে, যা ২০১২ সালের পর (লকডাউনের সময় ব্যতীত) আর দেখা যায়নি।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের এক অর্থনীতিবিদ ক্রিস উইলিয়ামসন বলেন, ‘অক্টোবরে উৎপাদনের হার কমেছে। পাশাপাশি চাহিদাও কমে গেছে। ফলে ইউরোপের অর্থনীতি টানা চার মাস সংকুচিত হতে চলেছে। এতে মন্দা অনিবার্য বলে মনে হবে।’ যদিও কিছু সংস্থা জানিয়েছে, অক্টোবরে শিপিং বেড়েছে। তবে চাহিদা কমে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যস্ততা কমেছে।
উইলিয়ামসন আরও বলেন, জ্বালানির চড়া মূল্য ও বাড়তি প্রশাসনিক খরচের পাশাপাশি ইউরোর অবমূল্যায়ন। ইউরোপের অর্থনৈতিকভাবে পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হচ্ছে।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ইউরো প্রচলিত এমন ১৯ দেশের অর্থনীতি চতুর্থ ত্রৈমাসিকে শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমবে, যা এ অঞ্চলে মন্দা ত্বরান্বিত হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এরই মধ্যে কিছু অর্থনীতিবিদ ধারণা করছেন, এ বছরের শেষের দিকে অর্থনৈতিক মন্দা হতে পারে। এদিকে ইউরোপের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান নতুন কর্মী নিয়োগ দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে। আবার অনেকে ব্যয় কমাতে কর্মী ছাঁটাই করছে।





