কুড়িগ্রামের উলিপুরে কৃষকের জমি অধিগ্রহন না করে অপরিকল্পিতভাবে বুড়ি তিস্তা খননের প্রতিবাদে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ক্ষতিপূরনের দাবীতে মানববন্ধন করেছেন।
আজ মঙ্গলবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে উলিপুর উপজেলা শহরের মসজিদুল হুদা মোড়ে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, উলিপুর ও চিলমারী উপজেলার বিভিন্ন মৌজার মধ্য দিয়ে বুড়ি তিস্তা নদী অপরিকল্পিতভাবে খনন করা হয়। এতে প্রায় ২ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হন। ২০১৯ সালে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) জেলার অভ্যন্তরন্থ ছোট নদী, খাল এবং জলাশয় পূনঃখননের আওতায় এই দুই উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত সাড়ে ৩১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট বুড়ি তিস্তা নদী খনন কাজ শুরু করলে স্থানীয় কৃষকরা এতে আপত্তি জানান। তাদের দাবী, অধিকাংশ এলাকায় ব্যক্তি মালিকানা জমির উপর দিয়ে খনন কাজ চলছে। এ সময় কৃষকদের বাঁধা উপেক্ষা করে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন অধিগ্রহনের আশ্বাস দিয়ে খনন কাজ চালিয়ে যান। এতে এই এলাকার প্রায় সকলেই ক্ষতির মুখে পড়েন। তাদের অভিযোগ জমি হারিয়ে চার বছর ধরে অনাহারে অর্ধাহারে জীবন কাটাতে হচ্ছে।
ওই সময় পাউবো’র কর্তারা বলেছিলেন, সরকারি নিয়মে জমি অধিগ্রহন করে আপনাদের নার্য্য পাওনা দেয়া হবে। কিন্তু দীর্ঘ চার বছরেও আমরা কোন ক্ষতিপূরন তো দুরের কথা সরকারি কোন অর্থই পাইনি। ফলে আমাদের মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে। আমরা এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন করছি।
মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আব্দুল হাই সরকার, নুর ইসলাম ও গোলাম মোহাম্মদ সরওয়ার্দী প্রমুখ। এ সময় বুড়ি তিস্তা নদী খননে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় শতাধিক কৃষক উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন- বিএনপির নতুন কর্মসূচি ঘোষণা
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, উলিপুর-চিলমারীর মধ্যে দিয়ে সাড়ে ৩১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট বুড়িতিস্তা নদীর ১৯ কিলোমিটার জায়গা পূর্বের অধিগ্রহন করা আছে। বাকী সাড়ে ১২ কি.মি. অংশের জমি অধিগ্রহন করা হয়নি। এই অংশের মধ্যে প্রায় ২শ ২৪ একর জমি রয়েছে। ওই এলাকার কৃষকেরা জমির ক্ষতিপূরনের দাবীতে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন করেছেন (যার নং-৭৬৯২/২০১৯) মামলাটি চলমান রয়েছে। কৃষকের দাবীকৃত অধিগ্রহনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ চাওয়া হয়েছে। অর্থ প্রাপ্তি সাপেক্ষে এই বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এ বিষয়ে উলিপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজী মাহমুদুর রহমান জানান, আমি নতুন এসেছি। এ বিষয়ে আমার কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। তবে তিনি বলেন, ফাইলপত্র দেখে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, যে প্রকল্পের অধিনে বুড়ি তিস্তা খনন করা হয়েছে, সেখানে শুধু বুড়ি তিস্তার পানি প্রবাহ চলমান রাখার জন্য খনন কাজ করা হয়েছে। ওই প্রকল্পে জমি অধিগ্রহনের কোন বরাদ্দ ছিল না। আমরা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যায়নি কিংবা কোন নির্দেশনা আসেনি।





