গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত, নিবন্ধন নং ১১৪
  1. অন্যান্য
  2. অর্থ ও বাণিজ্য
  3. আইন-বিচার
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. কৃষি ও প্রকৃতি
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. চাকরি
  10. জাতীয়
  11. ধর্ম
  12. নির্বাচন
  13. প্রবাসের খবর
  14. ফিচার
  15. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  16. বিনোদন
  17. বিশেষ প্রতিবেদন
  18. রাজনীতি
  19. শিক্ষাঙ্গন
  20. শেখ হাসিনার পতন
  21. সম্পাদকীয়
  22. সারাদেশ
  23. স্বাস্থ্য
  24. হট আপ নিউজ
  25. হট এক্সলুসিভ
  26. হাই লাইটস

জনগণের টাকায় নির্মাণ, কাজে লাগেনি সেতু—দায় কার?

নিজস্ব প্রতিবেদক
মার্চ ১৭, ২০২৬ ১:০৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

কমলনগর উপজেলার চর কালকিনি ইউনিয়নে একটি সেতু দাঁড়িয়ে আছে—দৃশ্যত প্রস্তুত, কিন্তু বাস্তবে অচল। স্থানীয়দের ভাষায়, “সেতু আছে, রাস্তা নেই।” প্রায় দুই বছর ধরে এমন

বাস্তবতাই দেখছেন এলাকাবাসী।
সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়–এর অধীনে ২০২২–২৩ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর জয় বাংলা খালের ওপর ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটি নির্মাণ করে। প্রায় ১ কোটি ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত প্রকল্পটির কাজ শেষ হয় ২০২৩ সালে। তবে সেতুর দুই প্রান্তে সংযোগ সড়ক না থাকায় সেটি আজও জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হয়নি।

‘সামনে সেতু, কিন্তু পৌঁছানোর পথ নেই’
সেতুর পশ্চিম পাড়ে বসবাস করেন কয়েক হাজার মানুষ। কমলনগর, হাজিরহাট ও মতিরহাটে যাতায়াতের অন্যতম সম্ভাব্য পথ হিসেবে সেতুটিকে দেখেছিলেন তারা। কিন্তু বাস্তবে সেতুর দুপাশের সরু, ভাঙাচোরা ও কাদাময় রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে আছে।

স্থানীয় এক স্কুলশিক্ষার্থী বলেন,
“আমাদের সামনে একটা ব্রিজ আছে, কিন্তু সেখানে যাওয়ার জন্য কোনো ঠিকঠাক রাস্তা নেই। যে পথ আছে, সেটাও খুব ঝুঁকিপূর্ণ। কয়েক দিন আগে পড়ে গিয়ে আমার পা ভেঙে যায়। পরে নৌকায় করে হাসপাতালে নিতে হয়েছে।”
আরেক বাসিন্দার ভাষায়,
“উত্তরে ক্লিনিক, দক্ষিণে বাজার—সব কাছেই। কিন্তু রাস্তা না থাকায় যেতে পারি না। ব্রিজে ওঠার মতো পথও নেই।”

দুর্ঘটনা, দুর্ভোগ আর অপেক্ষা
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়ে। কাদা ও পানিতে ভরা পথে চলতে গিয়ে অনেক সময় অতিরিক্ত কাপড় সঙ্গে নিতে হয়।
রোগী পরিবহনের ক্ষেত্রেও দেখা দেয় চরম ভোগান্তি। স্থানীয়রা জানান, খালের পাড়ে বসে জোয়ারের পানির অপেক্ষা করতে হয়, যাতে নৌকায় করে পার হওয়া যায়। সেতু থাকা সত্ত্বেও এমন পরিস্থিতি তাদের কাছে হতাশাজনক।
ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনও প্রভাবিত হচ্ছে। অনেকেই বলেন, নিকটবর্তী মসজিদে নামাজ আদায় করতেও কষ্ট পোহাতে হয়।

‘পরিকল্পনা ছিল, বরাদ্দের অপেক্ষা’
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা পরিতোষ কুমার বিশ্বাস জানান, সেতুর প্রস্তাবনা তার যোগদানের আগেই অনুমোদিত হয়েছিল। পরে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। সংযোগ সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাহাত উজ জামান বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।”

উন্নয়ন নাকি অপচয়ের প্রতীক?
স্থানীয়দের কাছে সেতুটি এখন উন্নয়নের প্রতীক নয়, বরং অপূর্ণ পরিকল্পনার একটি উদাহরণ। তাদের দাবি, দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সেতুটিকে চলাচলের উপযোগী করা হোক।
নয়তো কোটি টাকার এই স্থাপনা কেবল দাঁড়িয়ে থাকবে—মানুষের কাজে না এসে, অব্যবহৃত অবকাঠামোর তালিকায় নাম লিখিয়ে।

Editor

Editor

সম্পাদক

সর্বমোট নিউজ: 247

Share this...
বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বে-আইনি।
আরও দেখুন