গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত, নিবন্ধন নং ১১৪
  1. অন্যান্য
  2. অর্থ ও বাণিজ্য
  3. আইন-বিচার
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. কৃষি
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. চাকরি
  10. জাতীয়
  11. ধর্ম
  12. নির্বাচন
  13. পরিবেশ প্রকৃতি
  14. প্রবাসের খবর
  15. ফিচার
  16. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  17. বিনোদন
  18. বিশেষ প্রতিবেদন
  19. রাজনীতি
  20. শিক্ষাঙ্গন
  21. শেখ হাসিনার পতন
  22. সম্পাদকীয়
  23. সারাদেশ
  24. স্বাস্থ্য
  25. হট আপ নিউজ
  26. হট এক্সলুসিভ
  27. হাই লাইটস

সংকটাপন্ন ‘বাসিয়া’ নদীঃ ঝুঁকিতে জনজীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ ২:৫৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় অবস্থিত ‘বাসিয়া’ নদী দীর্ঘ সময় ধরে দখল ও দূষণের কারণে মারাত্মক সংকটে পড়েছে। নদীতে ফেলা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা, আর মাঝে মাঝে আগুন দেওয়ার কারণে উঠছে বিষাক্ত ধোঁয়া, যা স্থানীয়দের স্বাভাবিক জীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। এক সময় প্রাণবন্ত ও নৌচলাচলের জন্য বিখ্যাত এই নদী আজকাল স্থানীয়দের কাছে ‘গলার কাঁটা’ হিসেবে পরিচিত।

স্থানীয় প্রবীণরা স্মৃতিচারণ করেন, একসময় নদীতে পাল তোলা নৌকা চলত, নদীতীরে শিশুরা খেলা করত এবং মাছধরা ছিল এক জীবন্ত চিত্র। কিন্তু বছরের পর বছর অব্যবস্থাপনা, অবৈধ স্থাপনা ও দখলের কারণে নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহ আজ প্রায় বন্ধ। বর্ষা মৌসুম ছাড়া নদীর অধিকাংশ অংশই শুষ্ক থাকে, যা নদীর দীর্ঘকালীন সংকটের প্রতিচ্ছবি বহন করছে।

স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, নদীর মুখ বন্ধ হয়ে গেছে এবং বাজার এলাকা ও নদীতীরের বসতি জায়গায় অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। কোথাও ময়লা ফেলা হয়েছে তীর ভরাটের জন্য, আবার কোথাও স্থাপনা বা গাছ লাগিয়ে দখলকর্তারা নদীর সম্পদ নিজেদের দখলে রেখেছে। ফলে নদীর প্রাকৃতিক গতিপথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং পরিবেশগত ঝুঁকি বেড়েছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, প্রশাসনের নজরে থাকলেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। দখল টিকিয়ে রাখতে দখলদাররা একটি রিট মামলা ব্যবহার করছে, যার কারণে নদী রক্ষার পরিকল্পনা থেমে আছে। নদী ক্রমশ সংকুচিত হওয়ায় স্থানীয় সচেতন মহল সম্পূর্ণ বিলীন হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। দ্রুত দখল উচ্ছেদ, দূষণ বন্ধ এবং টেকসই ব্যবস্থাপনার জন্য জোর দাবি উঠেছে।

বিশ্বনাথ পুরানবাজারের ব্যবসায়ী ফখরুল রেজা বলেন, “নদী থেকে আসা দুর্গন্ধ ও ধোঁয়ার কারণে বাজারে থাকা দায় হয়ে গেছে। ব্যবসা পরিচালনায় ব্যাপক অসুবিধা হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, নদীর অবস্থা দ্রুত না ঠিক হলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব পড়বে।

নদী রক্ষায় সক্রিয় ‘শেখ তাহির আলী শাহ ফাউন্ডেশন’-এর চেয়ারম্যান শেখ আবুল বাশার জানান, “বাসিয়া নদী আমাদের শহরের প্রাণ। দখল ও আবর্জনার কারণে নদীর যে অবস্থা হয়েছে, তা শুধু কথায় বোঝানো সম্ভব নয়। আমরা ছাত্র সমাজ ও স্থানীয় মানুষদের সঙ্গে নিয়মিত নদী রক্ষার নানা কর্মসূচি করেছি। এখন সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।”

গণমাধ্যমকর্মী মশিউর রহমান বলেন, “নদীর এই সংকট শুধু পরিবেশের জন্য নয়, মানুষের জীবনযাত্রার জন্যও বিপজ্জনক। প্রশাসন সময়মতো পদক্ষেপ না নিলে নদী অচিরেই হারিয়ে যেতে পারে।”

এ বিষয়ে বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে কুলসুম রুবি জানান, “হাইকোর্টে রিট চলায় সরাসরি পদক্ষেপে সীমাবদ্ধ। তবে প্রতিদিন নদীতে ময়লা ফেলা বন্ধ করা এবং তা সরানো গুরুত্বপূর্ণ। নদীর পাশে ৩-৪টি স্থায়ী এবং কিছু অস্থায়ী ডাস্টবিন স্থাপন করা হবে। এছাড়া ‘নদী রক্ষায় করণীয় সভা’র মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

শীর্ষ সংবাদ | নয়ন

জে এম আলী নয়ন

জে এম আলী নয়ন

সাব এডিটর

সর্বমোট নিউজ: 6104

Share this...
বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বে-আইনি।
আরও দেখুন
সর্বশেষ
  • আমাদেরকে ফলো করুন…