পবিত্র রমজান উপলক্ষে আগামী ৮ মার্চের পরিবর্তে ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সরকারি–বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
আজ রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।
এর আগে সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো রমজানের নির্দিষ্ট একটি সময় পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে সেই সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা স্থগিত করে উচ্চ আদালত এই নতুন নির্দেশনা দিলেন।
এর ফলে ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকেই মাধ্যমিক পর্যায়ের সব বিদ্যালয়ে শুরু হচ্ছে রমজানের ছুটি। তবে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো এই আদেশের আওতায় থাকছে না।
এর আগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইলিয়াছ আলী মন্ডল গত ২০ জানুয়ারি রিট আবেদনটি করেন। আদালতে রিটের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ শফিকুর রহমান ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মহিউদ্দিন মো. হানিফ।
রিট আবেদনের ভাষ্য, বাংলাদেশের ৯৮ শতাংশ নাগরিক মুসলমান। সংবিধানের ২ক অনুযায়ী ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’ এবং ৩১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইন ছাড়া কিছুই করা যাবে না। আইন অর্থ আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন যেকোনো প্রথা ও রীতি। স্বাধীনতার পর থেকে রমজান মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। এটিই প্রথা এবং এভাবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রমজান মাসে বন্ধ থাকে। তাই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় রমজান মাসে খোলা রাখার ওই সিদ্ধান্ত সংবিধান সমর্থন করে না।
এর আগে সরকারি/বেসরকারি এমপিওভুক্ত/ইবতেদায়ি মাদ্রাসার ছুটির খসড়া তালিকা–২০২৬ প্রকাশ করে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। এতে পবিত্র রমজান, শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস (২১ ফেব্রুয়ারি), মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস (২৬ মার্চ), শবে কদর (১৭ মার্চ), জুমআতুল বিদা (২০ মার্চ) ও ঈদুল ফিতর (২১ মার্চ) উপলক্ষে ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত ছুটির কথা বলা হয়।
এদিকে গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর সরকারি/বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ২০২৬ সালের শিক্ষাবর্ষের ছুটির তালিকা ও শিক্ষাপঞ্জি সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। এতে পবিত্র রমজান, শ্রীশ্রী হরিচাদ ঠাকুরের আবির্ভাব, শবে কদর (১৭ মার্চ), জুমাতুল বিদা (২০ মার্চ) ও ঈদুল ফিতর (২১ মার্চ) এবং স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস (২৬ মার্চ) উপলক্ষে ৮ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত ছুটির কথা উল্লেখ করা হয়।



