দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা ও মিসরের মধ্যকার রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং সীমিত পরিসরে পুনরায় চালু করার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে ইসরায়েল। তবে এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে একাধিক শর্ত যুক্ত করেছে তেল আবিব। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অবরুদ্ধ গাজায় আটক থাকা শেষ বন্দির মরদেহ উদ্ধার নিশ্চিত হলেই কেবল এই সীমান্ত আংশিকভাবে খুলে দেওয়া হবে।
রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের প্রধান পথ হলেও যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পরও এটি দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল। ফলে খাদ্য, ওষুধ ও জরুরি ত্রাণ সরবরাহ কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা এই পরিস্থিতিকে গভীর মানবিক সংকট হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার ইসরায়েলের পক্ষ থেকে সীমান্তটি সীমিতভাবে খুলে দেওয়ার ঘোষণা আসে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূতরা ইসরায়েল সফর করে গাজায় ত্রাণ প্রবেশের পথ খুলে দিতে তেল আবিবের ওপর কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেন বলে জানা গেছে।
রাফাহ ক্রসিং পুনরায় চালু করা গত অক্টোবরে ঘোষিত গাজা যুদ্ধবিরতির কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির যে রূপরেখা উপস্থাপন করেন, সেখানে এই সীমান্ত খোলার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে সামরিক অভিযানের সময় ইসরায়েলি বাহিনী সীমান্তটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে এটি আর চালু হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, জীবিত সব জিম্মিকে ফিরিয়ে দেওয়া এবং নিহত বন্দিদের মরদেহ উদ্ধারে হামাসের পূর্ণ সহযোগিতা নিশ্চিত হলেই সীমান্ত খোলার সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। কার্যালয়ের তথ্যমতে, শেষ বন্দি রন গভিলির মরদেহ উদ্ধারে সংগৃহীত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বর্তমানে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। এই অভিযান শেষ হলে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া সমঝোতার আলোকে রাফাহ ক্রসিং সীমিতভাবে খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
টিআরটি ওয়ার্ল্ড আরও জানায়, যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপেই গত অক্টোবর মাসে রাফাহ সীমান্ত খোলার কথা ছিল। ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও সেই শর্ত বাস্তবায়ন হয়নি।
এদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পরও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি। এই সময়ের মধ্যে চুক্তি লঙ্ঘনের ঘটনায় শত শতবার সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে। এতে অন্তত ৪৮৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ১ হাজার ৩২১ জন।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সামরিক অভিযানে গাজায় প্রাণহানির সংখ্যা ৭১ হাজার ছাড়িয়েছে বলে জানায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। নিহতদের বড় অংশ নারী ও শিশু। দীর্ঘদিনের সংঘাতে গাজা উপত্যকার বড় অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাফাহ সীমান্ত সীমিতভাবে খুলে দেওয়া হলেও তা গাজায় চলমান মানবিক সংকট মোকাবিলায় কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে এখনো বড় ধরনের অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।





