ঘটনার পরিক্রমায় সবকিছু একরকম প্রত্যাশিতই ছিল। বাকি ছিল কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার। আইসিসির ঘোষণায় সেটাই চূড়ান্ত হলো। নিরাপত্তা শঙ্কায় আসছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল ভারতে খেলতে রাজি না হওয়ায়, তাদেরকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে নিল বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসির এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপটি অনুষ্ঠিত হবে ভারত ও শ্রীলঙ্কায়। বাংলাদেশের পরিবর্তে ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সহযোগী দেশ স্কটল্যান্ডকে নেওয়া হবে, এমন আলোচনা কিছুদিন ধরেই চলছিল।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশকে ভারতে খেলার বিষয়ে তাদের অবস্থান পর্যালোচনার জন্য সময় দিয়েছিল। তবে বাংলাদেশ তাদের সিদ্ধান্তে অটল, নিরাপত্তা শঙ্কা থাকায় ভারতের মাটিতে তারা কিছুতেই খেলবে না। যার ফলশ্রুতিতে বিকল্প দল বেছে নিচ্ছে আইসিসি।
এই বদলের ফলে স্কটল্যান্ড প্রাথমিক পর্বের গ্রুপ ‘সি’-তে জায়গা পেয়েছে। গ্রুপ পর্বে তারা কলকাতায় খেলবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ (৭ ফেব্রুয়ারি), ইতালি (৯ ফেব্রুয়ারি) এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে (১৪ ফেব্রুয়ারি)। এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে নেপালের মুখোমুখি হবে স্কটিশরা।
আইসিসি তাদের বিবৃতিতে দাবি করেছে, ভারতে বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোনো বিশ্বাসযোগ্য বা যাচাইযোগ্য নিরাপত্তা হুমকি নেই। সে কারণে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে আইসিসি।
এই প্রথম কোনো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলবে না বাংলাদেশ। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠেয় আসরে না খেলায় পরের বিশ্বকাপে তাদের সরাসরি খেলা পড়ে যেতে পারে শঙ্কায়।
ঘটনার সূত্রপাত কিছু রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতার দাবির মুখে আইপিএলের কলকাতা নাইট রাইডার্স দল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ায়।
এর কড়া প্রতিক্রিয়া দেখায় বাংলাদেশ। দেশে বন্ধ করা হয় আইপিএলের সম্প্রচার। নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারত থেকে বাংলাদেশের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানায় বিসিবি।
এ নিয়ে অনেক টানাপোড়েনের পর গত বুধবার আইসিসি সভায় ভোটাভুটিতে ১৪-২ ব্যবধানে হেরে যায় বাংলাদেশ। পরে আইসিসির বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটিতে গিয়েও ব্যর্থ হয় বিসিবি।
এবার চূড়ান্তভাবেই বাদ পড়ে গেল বাংলাদেশ দল।





