গাজায় ভয়াবহ এক শ্বাসতন্ত্রজনিত ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। ইসরায়েলের অবরোধের কারণে জরুরি ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম ঢুকতে না পারায় শিশুসহ বয়স্ক ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভোগা মানুষের মধ্যে প্রাণহানি বাড়ছে। আল-শিফা হাসপাতালের পরিচালক মোহাম্মদ আবু সালমিয়া বলেছেন, গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা এখন ধসে পড়ার পর্যায়ে পৌঁছেছে।
আবু সালমিয়া জানিয়েছেন, এই ভাইরাসটি সম্ভবত ফ্লু বা করোনাভাইরাসের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং সব বয়সী মানুষের মধ্যে দ্রুত ছড়াচ্ছে। টিকাদানের অভাব, তীব্র অপুষ্টি ও যুদ্ধজনিত মানসিক আঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আক্রান্তরা প্রায় দুই সপ্তাহ পর্যন্ত উচ্চ জ্বর, মাথাব্যথা, গিঁট ও হাড়ে ব্যথা এবং বমির মতো উপসর্গে ভুগছেন, যা অনেক ক্ষেত্রে নিউমোনিয়ায় রূপ নিচ্ছে।
তিনি বলেন, বিশেষ করে বাস্তুচ্যুত পরিবারের মধ্যে যারা ঠান্ডা ও আর্দ্র পরিবেশে সুরক্ষা না পাওয়া তাঁবুতে বসবাস করছেন, তাদের জন্য এই পরিস্থিতি প্রাণঘাতী। যুদ্ধবিরতির একশো দিনের বেশি সময় পার হলেও গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অবনতি থামছে না।
হাসপাতালে ন্যূনতম চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব মারাত্মক, অ্যান্টিবায়োটিক ও ক্যানসারের ওষুধ নেই, কিডনি ডায়ালাইসিসের ওষুধ ও মানসিক রোগীদের চিকিৎসা কেন্দ্র ধ্বংসপ্রাপ্ত। গাজার প্রায় ৭০% চিকিৎসা পরীক্ষাগার বন্ধ, যা রোগ নির্ণয়ে বাধা সৃষ্টি করছে।
আবু সালমিয়া ইসরায়েলকে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ সরবরাহে বাধা দেওয়ার জন্য দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, প্রাণরক্ষাকারী ওষুধ আটকে দিয়ে অপ্রয়োজনীয় পণ্য ঢুকতে দেয়া হচ্ছে, যা পরিকল্পিত ক্ষতি।
তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করে গাজায় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ অবাধে প্রবেশের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ২০২৩ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া সংঘাতে ৭১ হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। যুদ্ধবিরতির পরেও ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ৪৬৫ ফিলিস্তিনি নিহত ও প্রায় ১২৮৭ জন আহত হয়েছেন।





