ঢাকাSaturday , 10 September 2022
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-বিচার
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আবহাওয়া ও কৃষি
  7. খেলাধুলা
  8. গনমাধ্যাম
  9. চাকরি
  10. জাতীয়
  11. ধর্ম
  12. নির্বাচন
  13. প্রবাসের খবর
  14. প্রযুক্তি সংবাদ
  15. ফিচার

বেদে কি বিভেদ আছে?

সৌমিত্র দেব
September 10, 2022 3:22 pm
Link Copied!

পৃথিবীর প্রাচীনতম ধর্মগ্রন্থ হলো বেদ। এর অর্থ হলো জ্ঞান বা সঞ্চিত জ্ঞান ভান্ডার । বিশেষ কোন মানুষের ওপর এই কিতাব নাজিল হয় নি । প্রাচীন মুনি ঋষিদের মধ্যে এটা প্রতিভাত হয়েছিল।

এ বিষয়ে জটিল কোন বই পড়ার দরকার নেই । বাংলা পিডিয়ায় দেয়া তথ্য অনুযায়ী ,বেদ হিন্দুদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ। ‘বেদ’ শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ জ্ঞান। যার অনুশীলনে ধর্মাদি চতুর্বর্গ লাভ হয় তা-ই বেদ। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী বেদকে অপৌরুষেয় অর্থাৎ ঈশ্বরের বাণী বলে মনে করা হয়। এটি কতগুলি মন্ত্র ও সূক্তের সংকলন। বিশ্বামিত্র, ভরদ্বাজ প্রমুখ বৈদিক ঋষি জ্ঞানবলে ঈশ্বরের বাণীরূপ এসব মন্ত্র প্রত্যক্ষ করেন। তাই এঁদের বলা হয় মন্ত্রদ্রষ্টা। মন্ত্রদ্রষ্টা ঋষিদের মধ্যে বেশ কয়েকজন মহিলাও ছিলেন, যেমন বিশ্ববারা, লোপামুদ্রা প্রভৃতি।

বেদের এক নাম শ্রুতি। এর কারণ, লিপিবদ্ধ হওয়ার আগে দীর্ঘকাল বেদ ছিল মানুষের স্মৃতিতে বিধৃত। গুরুশিষ্য পরম্পরায় শ্রুতি অর্থাৎ শ্রবণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বেদ আয়ত্ত করা হতো। যেহেতু শোনা বা শ্রুতির মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি ঘটত তাই এ থেকে বেদের এক নাম হয় শ্রুতি।

বেদকে ত্রয়ীও বলা হয়। এর কারণ, বেদের মন্ত্রগুলি আগে ছিল বিক্ষিপ্ত অবস্থায়। ব্যাসদেব যজ্ঞে ব্যবহারের সুবিধার্থে মন্ত্রগুলিকে ঋক্, যজুঃ, সাম এই তিন খন্ডে বিন্যস্ত করেন। তাই বেদের অপর নাম হয় সংহিতা। বেদ চারখানা হলেও চতুর্থ অথর্ববেদ অনেক পরবর্তীকালের রচনা এবং এর কিছু কিছু মন্ত্র প্রথম তিনটি থেকেই নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া যজ্ঞে এর ব্যবহার নেই। অবশ্য বেদকে ত্রয়ী বলার অন্য একটি কারণও আছে এবং তা হলো: এর মন্ত্রগুলি মিতত্ব, অমিতত্ব ও স্বরত্ব এই তিনটি স্বরলক্ষণ দ্বারা বিশেষায়িত, যার ওপর ভিত্তি করে মন্ত্রগুলিকে উপর্যুক্ত তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

বেদের রচনাকাল সম্পর্কে অনেক মতভেদ আছে। এ নিয়ে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য পন্ডিতদের মধ্যে বিস্তর মতপার্থক্যও দেখা যায়। উল্লেখ্য যে, বেদ রচনার শুরু থেকে তা সম্পূর্ণ হতে বহুকাল সময় লেগেছে। সেই কালসীমা মোটামুটিভাবে খ্রিস্টপূর্ব ২৫০০-৯৫০ অব্দ পর্যন্ত ধরা হয়।

বেদের চারটি অংশ মন্ত্র বা সংহিতা, ব্রাহ্মণ, আরণ্যক ও উপনিষদ্। মন্ত্রাংশ প্রধানত পদ্যে রচিত, কেবল যজুঃসংহিতার কিছু অংশ গদ্যে রচিত। এটাই বেদের প্রধান অংশ। এতে আছে দেবস্ত্ততি, প্রার্থনা ইত্যাদি। ঋক্ মন্ত্রের দ্বারা যজ্ঞে দেবতাদের আহবান করা হয়, যজুর্মন্ত্রের দ্বারা তাঁদের উদ্দেশে আহুতি প্রদান করা হয় এবং সামমন্ত্রের দ্বারা তাঁদের স্ত্ততি করা হয়। ব্রাহ্মণ মূলত বেদমন্ত্রের ব্যাখ্যা। এটি গদ্যে রচিত এবং প্রধানত কর্মাশ্রয়ী। আরণ্যক কর্ম-জ্ঞান উভয়াশ্রয়ী এবং উপনিষদ্ বা বেদান্ত সম্পূর্ণরূপে জ্ঞানাশ্রয়ী।

বেদের বিষয়বস্ত্ত সাধারণভাবে দুই ভাগে বিভক্ত কর্মকান্ড ও জ্ঞানকান্ড। কর্মকান্ডে আছে বিভিন্ন দেবদেবী ও যাগযজ্ঞের বর্ণনা এবং জ্ঞানকান্ডে আছে ব্রহ্মের কথা। কোন দেবতার যজ্ঞ কখন কীভাবে করণীয়, কোন দেবতার কাছে কী কাম্য, কোন যজ্ঞের কী ফল ইত্যাদি কর্মকান্ডের আলোচ্য বিষয়। আর ব্রহ্মের স্বরূপ কী, জগতের সৃষ্টি কীভাবে, ব্রহ্মের সঙ্গে জীবের সম্পর্ক কী এসব আলোচিত হয়েছে জ্ঞানকান্ডে। জ্ঞানকান্ডই বেদের সারাংশ। এখানে বলা হয়েছে যে, ব্রহ্ম বা ঈশ্বর এক, তিনি সর্বত্র বিরাজমান, তাঁরই বিভিন্ন শক্তির প্রকাশ বিভিন্ন দেবতা। জ্ঞানকান্ডের এই তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীকালে ভারতীয় দর্শনচিন্তার চরম রূপ উপনিষদের বিকাশ ঘটেছে।

আরও পড়ুন-  ইয়েমেনের ভূয়সী প্রশংসায় রাসুল (সাঃ)

এসব ছাড়া বেদে অনেক সামাজিক বিধিবিধান, রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা, শিল্প, কৃষি, চিকিৎসা ইত্যাদির কথাও আছে। এমনকি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের কথাও আছে। বেদের এই সামাজিক বিধান অনুযায়ী সনাতন হিন্দু সমাজ ও হিন্দুধর্ম রূপ লাভ করেছে।

হিন্দুদের বিবাহ, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ইত্যাদি ক্ষেত্রে এখনও বৈদিক রীতিনীতি যথাসম্ভব অনুসরণ করা হয়।

ঋগ্বেদ থেকে তৎকালীন নারীশিক্ষা তথা সমাজের একটি পরিপূর্ণ চিত্র পাওয়া যায়। অথর্ববেদ থেকে পাওয়া যায় তৎকালীন চিকিৎসাবিদ্যার একটি বিস্তারিত বিবরণ। এসব কারণে বেদকে শুধু ধর্মগ্রন্থ হিসেবেই নয়, প্রাচীন ভারতের রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ, সাহিত্য ও ইতিহাসের একটি দলিল হিসেবেও গণ্য করা হয়। [দুলাল ভৌমিক]

কিন্তু বাংলা পিডিয়ার তথ্যের সঙ্গে আমি এক জায়গায় দ্বিমত পোষণ করছি । সেখানে বলা হয়েছে বেদ হিন্দুদের পবিত্র ধর্ম গ্রন্থ । কিন্তু হিন্দু পরিচয়ধারীরা সে কথা আদৌ জানে কি ।!ব্যক্তি জীবনে তারা বেদ চর্চা করে কি? আমি হাজার হাজার বাংলাদেশী হিন্দুকে জিজ্ঞেস করেছি । প্রশ্ন করেছি তার ধর্মগ্রন্থের নাম কি ? কেউ সঠিক জবাব দিতে পারে নি । তারা ধর্মগ্রন্থ বলতে মানব রচিত শত শত গ্রন্থের নাম বলে। বেশীর ভাগ বলে গীতা। কেউ আবার রামায়ণ , মহাভারত , পুরাণ , মনু সং হিতার কথা বলে । হিন্দুদের বিবাহ, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ইত্যাদি ক্ষেত্রে এখনও বৈদিক রীতিনীতি যথাসম্ভব অনুসরণ করলেও তারা এর অর্থ নিজেরাও জানে না। যে সব পুরোহিত বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণ করে তারা নিজেরাও খুব একটা বেদ বোঝে না । অনেকটা রবীন্দ্র সঙ্গীতের শিল্পীদের মতো । তারা গান গায় কিন্তু গানের পেছনের দর্শন জানতে আগ্রহী নয় ।

কেন হিন্দু সমাজে বেদ চর্চা হচ্ছে না ? তার মূল কারণ বেদ এক ঈশ্বরের কথা বলে । সেখানে পৌত্তলিকতার কোন সুযোগ নেই। জাতিভেদ নেই । আছে জ্ঞান চর্চার কথা। বেদ ভিত্তিক সমাজ মানেই জ্ঞান ভিত্তিক সমাজ। বাংলাদেশে হিন্দু সমাজে বেদ চর্চা হয় মাত্র একটা দুটো মন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে। তারা তোতা পাখির মতো সেটা পাঠ করে। যে পরিমাণে তারা গীতা পাঠ করেন তার তুলনায় বেদ পাঠ হয় না বললেই চলে । তবে বাঙালি হিন্দুর উন্নত মানের ব্র্যান্ড যারা তারা সকলেই বেদের অনুসারী । রাজা রামমোহন রায় , বিপিন চন্দ্র পাল , রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর , জীবনানন্দ দাশ , সত্যজিৎ রায় , অমর্ত্য সেন।

বেদের অনুসারী বলেই ভাই গিরিশ চন্দ্র সেন কোরানের বাংলা অনুবাদ করেছেন। সুনির্মল কুমার দেব মীন হিজরি সনের ইতিকথা লিখেছেন । এতে তাদের জাত যায় নি । বেদ অনুসরণ করলে কাটিয়া বাবা , লাটিয়া বাবা , রাম দেব , কাম দেব সবার ব্যবসা শেষ হয়ে যাবে।

শীর্ষসংবাদ/নয়ন

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
ঢাকা অফিসঃ ১৬৭/১২ টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল ঢাকা- ১০০০ আঞ্চলিক অফিস : উত্তর তেমুহনী সদর, লক্ষ্মীপুর ৩৭০০