পার্লামেন্টে বোরকাকে অসম্মান করায় অস্ট্রিলিয়ার উগ্রডানপন্থি নারী সিনেটর পওলিন হানসনকে সাত কর্মদিবসের জন্য বহিষ্কার করেছে দেশটির সিনেট। প্রকাশ্যে বোরকা পরাকে নিষিদ্ধ করতে ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে সংসদে বোরকা পরে আসেন তিনি। যা খুবই দৃষ্টিকটু ছিল। এমনকি তাকে বোরকা খুলে আসতে বলা হলেও তিনি অস্বীকৃতি জানান। এর ফলে পার্লামেন্টের কার্যক্রম কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হয়। এরপর দেশটির আইন প্রণেতারাই এ ঘটনার নিন্দা জানান।
এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো পার্লামেন্টে বোরকা পরে হাজির হলেন পলিন। তিনি ওয়ান ন্যাশন নামের অভিবাসনবিরোধী দলের কুইন্সল্যান্ড থেকে নির্বাচিত সিনেটর। পলিন জনসমক্ষে বোরকা নিষিদ্ধ করার জন্য প্রস্তাবিত একটি বিল উপস্থাপন করতে চাইছিলেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি বহুদিন ধরেই প্রচারণা চালাচ্ছেন।
এই সিনেটর বলেন, তার বিলটি সিনেট বাতিল করে দেওয়ার প্রতিবাদেই তিনি এ কাজ করেছেন। তার এই কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেছেন অন্য সিনেটরেরা।
একজন সিনেটর এটিকে ‘স্পষ্ট বর্ণবাদ’ বলে মন্তব্য করেছেন।
সোমবার অন্যান্য আইনপ্রণেতারা যখন পলিনকে বিলটি উপস্থাপনা থেকে বিরত রাখেন, তখনই তিনি বেরিয়ে গিয়ে বোরকা পরে আবার পার্লামেন্টে হাজির হন।
নিউ সাউথ ওয়েলসের মুসলিম গ্রিনস সিনেটর মেহরিন ফারুকি বলেন, ‘তিনি একজন বর্ণবাদী সিনেটর এবং তার আচরণ স্পষ্ট বর্ণবাদ প্রদর্শন করছে।’
পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার স্বতন্ত্র সিনেটর ফাতিমা পেইমান এ ঘটনাকে ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেছেন।
সরকারি দলের সিনেট নেতা এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং ঘটনাটিকে ‘অসম্মানজনক’ বলে নিন্দা করেছেন।
তিনি আরও বলেন, পলিন অস্ট্রেলিয়ান সিনেটের হওয়ার যোগ্য নন। বোরকা না খোলায় তিনি তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার প্রস্তাব দেন।
ফেসবুকে এক পোস্টে হ্যানসন লেখেন, ‘যদি তারা না চায় আমি এটা পরি—তাহলে বোরকা নিষিদ্ধ করুক।’
২০১৭ সালেও তিনি সংসদে বোরকা পরে পার্লামেন্টে এসেছিলেন এবং তখনও দেশব্যাপী নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
সিনেটে পলিনের ওয়ান ন্যাশন পার্টির চারটি আসন রয়েছে।




