রাজশাহীর মতিহার থানার বামনশিকড় গ্রাম থেকে এক পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ ও স্বজনদের প্রাথমিক ধারণা, ঋণের বোঝা ও কিস্তির চাপের কারণে পরিবারের গৃহকর্তা মিনারুল ইসলাম প্রথমে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা করে, পরে নিজে আত্মহত্যা করেছেন। কিছুদিন আগে পরিবারের পক্ষ থেকে জমি বিক্রি করে তার কিছু ঋণ শোধ করা হয়েছিল। কিন্তু পুনরায় ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন মিনারুল।
শুক্রবার (১৫ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার খড়খড়ি বামন শেখর এলাকার একটি বাসা থেকে চারটি মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে মতিহার থানার এএসআই কালাম পরভেজ জানিয়েছেন।
মিনারুলের মরদেহ একটি ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে, যার নিচে একটি চেয়ার ছিল। তাঁর স্ত্রী মনিরা বেগম (২৮), ছেলে মাহিম (১৪) ও মেয়ে মিথিলা (৩) বিছানায় পড়ে ছিলেন। প্রাথমিকভাবে তাদের শরীরে শ্বাসরোধের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
পুলিশ একটি চিরকূটও উদ্ধার করেছে, যা প্রাথমিকভাবে মিনারুলের হাতের লেখা বলে ধারণা করা হচ্ছে। চিঠিতে লেখা রয়েছে, “আমরা মরে গেলাম ঋণের দায়ে আর খাওয়ার অভাবে। এত কষ্ট আর মেনে নিতে পারছি না।” চিঠিতে কিছু অংশে পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ্বের ইঙ্গিতও রয়েছে।
ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের বরাতে জানা গেছে, নিহতরা স্থানীয়ভাবে পরিচিত ছিলেন এবং মিনারুল নির্দিষ্ট কোনো পেশায় যুক্ত ছিলেন না। তিনি নানা ধরনের আংশিক কাজ যেমন কৃষিকাজ, ঠিকা শ্রমিক ও বাসের চালকের সহকারী হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) গাজিউর রহমান বলেন, মিনারুলের লাশ যে ঘরে পাওয়া গেছে সেখান থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। তাতে ঋণের কারণে আত্মহত্যা করার কথা লেখা আছে। তবে সেটা কার লেখা তা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় পারিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীদ আলী মোরসেদ জানিয়েছেন, মিনারুল দীর্ঘদিন ধরে ঋণগ্রস্ত ছিলেন। কয়েক বছর আগে পরিবার মিলিয়ে কিছু ঋণ শোধ করা হলেও পুনরায় তিনি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। মৃত্যুর আগের দিনও তিনি চালের জন্য সহযোগিতা চেয়েছিলেন।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে হত্যার পর আত্মহত্যা ধরা পড়েছে। তবে প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় ও স্বজনরা ঘটনার সংবাদে শোকাহত এবং পুলিশ ঘটনাস্থল ও আশেপাশের এলাকার সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের পর নিশ্চিতভাবে জানা যাবে।





