গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত, নিবন্ধন নং ১১৪
  1. অন্যান্য
  2. অর্থ ও বাণিজ্য
  3. আইন-বিচার
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. কৃষি ও প্রকৃতি
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. চাকরি
  10. জাতীয়
  11. ধর্ম
  12. নির্বাচন
  13. প্রবাসের খবর
  14. ফিচার
  15. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  16. বিনোদন
  17. বিশেষ প্রতিবেদন
  18. রাজনীতি
  19. শিক্ষাঙ্গন
  20. শেখ হাসিনার পতন
  21. সম্পাদকীয়
  22. সারাদেশ
  23. স্বাস্থ্য
  24. হট আপ নিউজ
  25. হট এক্সলুসিভ
  26. হাই লাইটস

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া অংশীদারত্ব ‘আরো গভীর’ করার অঙ্গীকার

শীর্ষ সংবাদ ডেস্ক
আগস্ট ১২, ২০২৫ ৭:২৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া সম্পর্ককে ‘আরও গভীর এবং ভবিষ্যতমুখী কৌশলগত অংশীদারত্বে’ রূপ দেওয়ার অঙ্গীকার এসেছে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক থেকে।

মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) পুত্রজায়ার পারদানা পুত্রায় বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের নেতৃত্বে এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়।

প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর জানিয়েছে, প্রথমে দুই নেতা একান্তে বৈঠক করেন, এরপর দুই পক্ষের জ্যেষ্ঠ কয়েকজন প্রতিনিধিকে নিয়ে রুদ্ধদ্বার আলোচনা হয়। পরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অভিবাসন, জ্বালানি সহযোগিতা, সুনীল অর্থনীতি, শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বৈঠকে অংশ নেয়ি দুই দেশের প্রতিনিধি দল।

প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনার শুরুতে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “ইতিহাস, ধর্ম ও সাংস্কৃতিক সহমর্মিতার গভীর বন্ধন রয়েছে আমাদের দুই দেশের মধ্যে। মানবসম্পদ, বাণিজ্য এবং জন-মানুষের যোগাযোগে মালয়েশিয়া বাংলাদেশের একটি বিশেষ অংশীদার।”

প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অধ্যাপক ইউনূসকে ‘মালয়েশিয়ার বন্ধু’ হিসেবে বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম গত এক বছরে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। বাণিজ্য বাড়ানো, প্রবাসী শ্রমিকদের কল্যাণে সহযোগিতা বৃদ্ধি, শিক্ষা ও রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে যৌথ প্রচেষ্টার ওপর জোর দেন তিনি।

আটকে থাকা আট হাজারের মত বাংলাদেশি শ্রমিককে নতুন সহজ নিয়মের আওতায় মালয়েশিয়ায় প্রবেশের সুযোগ দেওয়ায় এবং মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা চালু করায় একান্ত বৈঠকে আনোয়ার ইব্রাহিমকে ধন্যবাদ অধ্যাপক ইউনূস।

মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা চালু হওয়ায় মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকরা জরুরি প্রয়োজনে দেশে ফিরে আবার ফিরে গিয়ে কাজে যোগ দিতে পারছেন। উভয় পক্ষই নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করে খরচ কমানো এবং শ্রমিকদের সুরক্ষার গুরুত্ব আরোপ করেন বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকে আইন, বিচার ও প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সরকারি পর্যায়ে বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসক ও প্রকৌশলীর মত দক্ষ পেশাজীবী নিতে মালয়েশিয়াকে অনুরোধ জানিয়ে তিনি বালেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বোয়েসেল এখন মালয়েশিয়ার কোম্পানিগুলোর জন্য নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালনায় সক্ষম।

এসময় বাংলাদেশ থেকে নিরাপত্তাকর্মী ও কেয়ারগিভার নিয়োগ এবং মালয়েশিয়ায় অনিয়মিত বা অবৈধভাবে থাকা শ্রমিকদের বৈধ করার উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানান আসিফ নজরুল।

বাংলাদেশি শ্রমিকরা বাংলা ভাষায় অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন জানিয়ে বৈঠকে মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিরা নিশ্চিত করেন বাংলাদেশি শ্রমিকরা এখন মালয়েশিয়ার শ্রমিকদের সমান সামাজিক সুরক্ষা ও সুবিধা পাবেন। মালয়েশিয়ার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখায় থাকা প্রায় দশ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য ‘গ্রাজুয়েট পাস’ ভিসারও আবেদন জানানো হয় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আসিয়ানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক গভীর করার আকাঙ্ক্ষা এবং সেক্টোরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার চেষ্টা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা করেন দুই নেতা। এ বিষয়ে মালয়েশিয়ার সমর্থন প্রত্যাশা করেন প্রধান উপদেষ্টা।

তিনি কক্সবাজারে আসন্ন রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক সম্মেলন এবং সেপ্টেম্বরে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ-আয়োজিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিতে মালয়েশিয়া সরকারকে আমন্ত্রণ জানান এবং রোহিঙ্গাদের প্রতি মালয়েশিয়ার ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান।

আলোচনায় উভয় পক্ষ বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনায় গতি আনতে, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের মাধ্যমে বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদার করতে এবং মালয়েশিয়া–বাংলাদেশ যৌথ ব্যবসায়িক পরিষদকে সক্রিয় করতে ‘সম্মত হয়’।

এছাড়া দুই বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য বৈষম্যের বিষয়টি তুলে ধরে বাংলাদেশের তরফ থেকে ওষুধ, ব্যাটারি, জুতা, সিরামিক ও পাটজাত পণ্যের জন্য মালয়েশিয়ার বাজারে প্রবেশাধিকার সহজ করার অনুরোধ জানানো হয়।

বৈঠকে সুনীল অর্থনীতি ও হালাল শিল্পে মালয়েশিয়ার সহায়তা চায় বাংলাদেশ। পাশাপাশি ঢাকার বাইরে একটি ‘হালাল ইকোনমিক জোন’ স্থাপনের পরিকল্পনা তুলে ধরে রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকনোমিক পার্টনারশিপে যোগদানের আগ্রহ প্রকাশ করা হয় ঢাকার তরফ থেকে।

দুই দেশ এলএনজি সরবরাহ ও জ্বালানি সহযোগিতা বিষয়ে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারককে স্বাগত জানায় এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ক্ষেত্রে অংশীদারত্বের সম্ভাবনা খোঁজার ব্যাপারে একমত হয়।

এছাড়া প্রতিরক্ষা, সংস্কৃতি ও পর্যটনে সহযোগিতা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতি তার শ্রদ্ধার কথা বলেন এবং এশিয়ার বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও চিন্তাবিদদের নিয়ে একটি সাংস্কৃতিক সম্মেলন করার প্রস্তাব দেন।

এর আগে অধ্যাপক ইউনূস পুত্রজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে তাকে গার্ড অব অনার এবং লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

দুই নেতার উপস্থিতিতে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, এলএনজি সরবরাহ ও জ্বালানি সহযোগিতা, বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ ও মালয়েশিয়ার ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (ISIS) এর মধ্যে সহযোগিতা, বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ও মালয়েশিয়ার মাইক্রোইলেকট্রনিক সিস্টেমস ইনস্টিটিউটের মধ্যে সহযোগিতা এবং এফবিসিসিআই ও এনসিসিআইএম এর মধ্যে সহযোগিতা সংক্রান্ত একাধিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয় দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর।

এছাড়া কূটনৈতিক প্রশিক্ষণ, হালাল শিল্পে সহযোগিতা এবং উচ্চশিক্ষা সহযোগিতা বিষয়ে কূটনৈতিক নথি বিনিময় করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।

বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।

বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলে ছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন, জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, এসডিজি সমন্বয়কারী লামিয়া মোরশেদ ও পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।

শীর্ষ সংবাদ | নয়ন

জে এম আলী নয়ন

জে এম আলী নয়ন

সাব এডিটর

সর্বমোট নিউজ: 5827

Share this...
বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বে-আইনি।
আরও দেখুন
সর্বশেষ
  • আমাদেরকে ফলো করুন…