ফেনীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ শিহাবের কবরে দোয়া–মোনাজাতকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে হট্টগোল হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের উত্তর কাশিমপুর শহীদ শিহাবের কবরের সামনে এ ঘটনা হয়।
জানা যায়, আজ ৫ আগষ্ট গণঅভ্যুত্থান দিবসে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শহীদ ওয়াকিল উদ্দিন শিহাবের কবরে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেওয়ার কর্মসূচি ছিল। সকালে উত্তর কাশিমপুরে শহীদ শিহাবের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে যান জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান, স্বাস্থ্য বিভাগসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা–কর্মচারীরা।
শ্রদ্ধা জানানো শেষে শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া–মোনাজাত করার কথা আগেই বলা ছিল স্থানীয় মসজিদের ইমামকে। কিন্তু ফেনী জেলা জামায়াতের আমির আব্দুল হান্নান উপস্থিত থাকায় মোনাজাত করার জন্য তাৎক্ষণিক তাঁর নাম ঘোষণা করেন পাঁচগাছিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির। এ সময় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরনবী মেম্বার এতে আপত্তি তোলেন। এ নিয়ে দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে হট্টগোল দেখা দেয়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
বিএনপি নেতা নুরনবী মেম্বার বলেন, ‘শহীদ শিহাব আমার আত্মীয়। আমি ওই এলাকার পাঁচবারের নির্বাচিত মেম্বার। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাকে দোয়া পরিচালনার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছিল। আমি স্থানীয় মসজিদের ইমামকে বলে রেখেছিলাম। পূর্ব নির্ধারিত ইমামকে বাদ দিয়ে হঠাৎ ইউনিয়ন জামায়াত আমির জেলা জামায়াতের আমিরকে দিয়ে দোয়া করানোয় আমি আপত্তি জানাই। এতে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে প্রশাসনের অনুরোধে আমরা সরে আসি।’
নুরনবী মেম্বার আরও বলেন, ‘জামায়াতের আমির আমার জেল পার্টনার। আমি তাঁকে সম্মান করি। কিন্তু ইউনিয়ন জামায়াতের আমির জাহাঙ্গীর আলম আওয়ামী লীগের দোসর। সে উদ্দেশ্যমূলকভাবে জামায়াতের আমিরকে দিয়ে দোয়া পরিচালনা করিয়ে হট্টগোল সৃষ্টি করেছেন।’
এ বিষয়ে ফেনী জেলা জামায়াতের আমির মুফতি আবদুল হান্নান বলেন, ‘ওখানে কিছু হয়নি, কোনো সমস্যা হয়নি। দোয়া-মোনাজাত আমি করেছি। বিএনপির এক নেতা একটু (সিনক্রিয়েট) বাড়াবাড়ি করছিলেন, আমি থামিয়ে দিয়েছি। মূলত ইউনিয়ন আমির বলেছিলেন, জেলা আমির দোয়া করবেন। এটাকে তিনি দলীয়করণের বিষয় মনে করেছিলেন। পরে আমি বুঝিয়ে বলেছি এবং দোয়াও করেছি। স্থানীয় ইমাম সাহেব আমাকে দোয়ার জন্য বলেছেন।’
জেলা জামায়াতের আমির আরও বলেন, ‘ফেনীতে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে সুসম্পর্ক রয়েছে। আমরাও ভালো আছি, তারাও ভালো আছেন।’





